নীলফামারীতে অন্তঃসত্বা গৃহবধু হত্যাকান্ডেজড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন

editor ১৪ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ সারাদেশ

শাহজাহান আলী মনন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি \:২ে৭ আগস্ট-২০২০
নীলফামারীতে অন্তঃসত্বা গৃহবধু মাহবুবা হোসেন বর্ষা (১৯) হত্যাকাÐে জড়িতদের দ্রæত গ্রেপ্তারসহ বিচারের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে জেলা শহরের চৌরঙ্গী মোড়ে ঘন্টাব্যাপী ওই মানববন্ধনের আয়োজন করে
নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী।
নিহত মাহবুবা হোসেন বর্ষার পরিবারের অভিযোগ, গত ২৩ আগাস্ট পরিকল্পিতভাবে মাহবুবা হোসেন বর্ষাকে হত্যার পর ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহের জন্য মরদেহ নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় তাঁর স্বামী তাওহিদ ইসলাম সিজারসহ সহযোগিরা।
খবর পেয়ে রাত ১১টার দিকে হাসপাতাল থেকে বর্ষার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ২৪ আগাস্ট সকালে জেলা মর্গে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।
২৫ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে বর্ষার স্বামী তাওহিদ ইসলাম সিজারসহ (২৬) চার জনকে আসামী করে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়।
এলাকাবাসী জানায়, ২০১৯ সালের ৩০ অক্টোবর জেলা শহরের পূর্ব কুখাপাড়া গ্রামের বাবুল হোসেনের মেয়ে মাহবুবা হোসেন বর্ষার সঙ্গে বিয়ে হয় সদর উপজেলার ইউটাখোলা ইউনিয়নের কড়লা বেচাটারী গ্রামের মরহুম খায়রুল ইসলামের ছেলে তাওহিদ ইসলাম সিজারের। বর্ষা ৬ মাসের অন্তঃসত্বা ছিলেন।
নিহত বর্ষার বাবা সদর উপজেলার পঞ্চপুকুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবুল হোসেন বলেন,
বিয়ের পর থেকে ১৫ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে আমার মেয়েকে শারীরিক ও মানষিক নির্যাতন চালাতো তার স্বামী সিজারসহ পরিবারের লোকজন। এরই মধ্যে বর্ষা ছয় মাসের অন্তঃসত্বা হয়ে পড়ে। গত ঈদুল আযহার পর থেকে স্বামীসহ তাঁর সহযোগিরা আমার মেয়ের ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বৃদ্ধি করলে ওই হত্যার ঘটনাটি ঘটে।
তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,“আমার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে, আমি এই হত্যার বিচার চাই। প্রশাসনের কাছে আমার অনুরোধ আর যেন কোনো বাবা- মায়ের কোল খালি না হয়।”
মানববন্ধন শেষে সেখানে সংক্ষিপ্ত এক সমাবেশে বক্তব্য রাখেন নিহতের বড় বোন মাহফুজা হোসেন, মামী রোজিনা বেগম, কলেজ ছাত্র ওমর ফারুক প্রমুখ।
এ বিষয়ে নীলফামারী সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মাহমুদ উন নবী বলেন “নিহত গৃহবধু মাহবুবা হোসেন বর্ষার বাবা বাবুল হোসেন বাদি হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার আসামীরা ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন। আসামী গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যহত আছে।”
#

সম্প্রতি সংবাদ