রাজবাড়ীর বিআরডিবি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

editor ১৪ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ সারাদেশ

আবুল হোসেন, রাজবাড়ী প্রতিনিধিঃ৩০ আগস্ট-২০২০,রবিবার।

রাজবাড়ী সদর উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। গত ২ বছরে জালিয়াতি ও বিভিন্ন ভূয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এ কর্মকর্তা। এমনকি তার গাফিলতিতে ঝিমিয়ে পড়েছে বিভিন্ন প্রকল্প।
জানা গেছে- জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি)। গ্রামের অসহায় গরীব কৃষকদেরকে নিয়ে সমিতি গঠন করে তাদেরকে বিভিন্ন মেয়াদে প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বল্প সুদে ঋণ প্রদান ও ক্ষুদ্র গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন করাসহ নানা উন্নয়নমূখী প্রকল্প রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। এর মধ্যে একটি হচ্ছে সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন কর্মসূচি (সিভিডিপি)। বর্তমানে সিভিডিপি’র-৩ পর্যায়ে কাজ চলমান রয়েছে। সিভিডিপি প্রকল্পের নির্দেশনা রয়েছে জুন ক্লোজিংর মধ্যে প্রকল্পের কোন অব্যয়িত অর্থ থাকলে তা ৩০ জুন বিকেল ৫টার মধ্যে সরকারী কোষাগারে বিল বাউচারসহ সরাসরি অথবা ই-মেইলের মাধ্যমে ফেরত দিতে হবে। কিন্তু রাজবাড়ী সদর উপজেলা বিআরডিবি কর্মকর্তা মোঃ হাবিবুর রহমান সেই নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গলী দেখিয়ে এ প্রকল্পের ৮টি প্রশিক্ষণ না করিয়ে জুন মাসেই ব্যাংক থেকে প্রশিক্ষণ বরাদ্দ বাবদ অর্থ ১লক্ষ ৬৮হাজার টাকা উত্তোলন করে নেন। পরবর্তীতে জুলাই মাসের শেষের দিকে ব্যানারে পূর্বের তারিখ বসিয়ে একটি ৪দিনের প্রশিক্ষণ দুইদিনে শেষ করেন। বাকী প্রশিক্ষণের পুরো টাকাই রয়ে যায় তার পকেটে।
এছাড়াও সিভিডিপি প্রকল্পের আওতায় সমিতির ম্যানেজারদারদের সম্মানীভাতা জানুয়ারী থেকে জুন পর্যন্ত ১২হাজার টাকা দেয়ার কথা থাকলেও তিনি তাদেরকে ১০হাজার টাকা দিয়েছেন। বাকী ২ হাজার টাকা করে অফিস খরচের কথা বলে প্রত্যেকের কাছ থেকে কেটে নেন তিনি।বিআরডিবি’র প্রকল্পগুলোর মধ্য অন্যতম হচ্ছে অংশীদারিত্বমুলক পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প (পিআরডিপি-৩)। এ প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামীণ ক্ষুদ্র অবকাঠামো উন্নয়ন করা হয়। এ ক্ষুদ্র অবকাঠামো উন্নয়নে মালামাল ক্রয়েও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে। এর সত্য মিলেছে এ প্রকল্পের আওতায় হোগলাডাঙ্গী গ্রামে ৬টি টিউবয়েল ক্রয়ের ক্ষেত্রে। সর্বনি¤œ দরদাতার কাছ থেকে মালামাল ক্রয় করার নিয়ম থাকলেও বিআরডিবি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান শুধু মাত্র নিজে কমিশন না পাওয়ায় ওই সর্বনি¤œ দরদাতার দোকান থেকে মালামাল ক্রয় করেননি। এমনকি এসব মালামাল ক্রয়ের ক্ষেত্রে তার বেশির ভাগ বিল বাউচারই ভূয়া বলে জানা গেছে। প্রশ্ন উঠেছে ব্যাংক থেকে পিআরডিবি-৩ প্রকল্পের টাকা উত্তোলন নিয়ে। জুন ক্লোজিং এর নামে ২০১৯ সালের ৩০জুন তারিখে তিনি নিজে একদিনে ১৫টি চেকের মাধ্যমে ২ লক্ষ ৬০ হাজার ১৩৪ টাকা উত্তোলন করেন। ২০২০ সালের জুন মাসেও একই ব্যক্তির নামে ৫টি চেকে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।বিআরডিবির আরো একটি প্রকল্প হচ্ছে মহিলা উন্নয়ন অনুবিভাগ। এখানেও অনিয়মকে নিয়মে পরিনত করেছেন রাজবাড়ী সদর উপজেলা বিআরডিবি কর্মকর্তা মোঃ হাবিবুর রহমান। এ প্রকল্পের অধীনে সমিতির নিয়ম হচ্ছে সম্পূর্ণ ঋণ পরিশোধ না করার আগে কোন সদস্যকে পুনরায় ঋণ প্রদান যাবে না। কিন্তু তিনি মিজানপুর ইউনিয়নের সোনাকান্দর মহিলা সমিতিতে ঋণের টাকা বাকী থাকতে জালিয়াতির মাধ্যমে পুনরায় ঋণ প্রদান করেছেন। একইভাবে রামকান্তপুর মহিলা সমিতিতেও ঋণের টাকা বাকী থাকতেই পুনরায় ঋণ প্রদান করেছেন এ কর্মকর্তা। এক্ষেত্রে তিনি বিআরডিবির উপ-পরিচালকের চোখ ফাঁকি দিয়ে তার কাছ থেকে ঋণ পরিশোধের আগেই পুনরায় ঋণ পাশ করিয়ে নেন। যা বিআরডিবি’র নিয়ম অনুযায়ী সম্পূর্ণ অবৈধ।
রাজবাড়ীতে বিআরডিবি’র পল্লী প্রগতি প্রকল্প নামে আরো একটি প্রকল্প রয়েছে। কিন্তু উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ হাবিবুর রহমান হাবিব রাজবাড়ীতে যোগদানের পর থেকে প্রকল্পটির কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে উক্ত প্রকল্পে সামান্য কয়েক হাজার টাকা আদায় হলেও সদস্যদের মাঝে নতুন করে কোন ঋণ প্রদান করা হয়নি। যার ফলে উক্ত প্রকল্পের সমস্ত টাকাই খেলাপী হয়ে গেছে।
অভিযোগ রয়েছে উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ হাবিবুর রহমান হাবিব যে সকল প্রকল্প হতে তিনি অনৈতিক সুবিধা নিয়েছেন, ভূয়া ভাউচার তৈরী করে জালিয়াতি করতে পেরেছেন শুধুমাত্র তিনি ওই সব প্রকল্পের কাজ করেছেন। ফলে পল্লী প্রগতি প্রকল্প, অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা প্রকল্প, পিইপি ও মহিলা উন্নয়ন অনুবিভাগসহ সকল প্রকল্পের বেশির ভাগ ঋণের টাকা মেয়াদ উর্ত্তীণ হয়ে খেলাপী ঋণে পরিণত হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন সরকারের উন্নয়নে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে অন্যদিকে গ্রামের অসহায় নারী ও গরীব কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।
তার এসব অনিয়ম ও অপকর্মের কেউ প্রতিবাদ করলে তিনি অফিসের সকল কর্মচারীকে নানাভাবে ভয় দেখান বলে অভিযোগ রয়েছে।এতো কিছুর পরও নিজেকে সৎ দাবী করেন রাজবাড়ী সদর উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ হাবিবুর রহমান হাবিব। তবে তার কাছে পিআরডিবি-৩ প্রকল্পের রাজবাড়ী সদর উপজেলার গ্রাম কমিটির তালিকা চাইলে তিনি কয়েকদিন ঘুরিয়ে সাংবাদিকদের নানা কৌশলে সেটি দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তিনি দাবী করেন তার কর্মকান্ড স্বচ্ছতা রয়েছে। অফিসের কিছু কর্মচারীর দুর্নীতি তিনি ধরে ফেলায় তারা তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার করছে।
এ বিষয়ে রাজবাড়ীর বিআরডিবি’র উপ-পরিচালক মোহাঃ দেলোয়ার হোসেন জানান তার ব্যাপারে আমিও কিছু কিছু অভিযোগ শুনেছি। এসব অভিযোগের সত্যতা পেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সম্প্রতি সংবাদ