বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের আন্তর্জাতিক তদন্ত চায় বিএনপি

editor ১৪ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ breaking slider-top প্রধান খবর

কালের কাগজ ডেস্ক: ৩০ আগস্ট ২০২০

বাংলাদেশে গুম-বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের আন্তর্জাতিক তদন্ত চায় বিএনপি। আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে রোববার বিএনপি আয়োজিত এক ওয়েবিনারে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ দাবি জানান।

তিনি বলেন, ‘আজ প্রায় ৩৫ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে এক লাখের ওপর মামলা এবং মারা গেছেন ২৬০০ জনের ওপরে। আর ৬০৩ জনের ওপরে গুম হয়ে গেছেন। এসব তথ্য ডকুমেন্টেড। আনডকুমেন্টেড অনেক আছে। এটা সম্পূর্ণ তথ্য নয়, অনেক তথ্য আছে যেটা আমাদের কাছে নেই।’

‘জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই, আমরা এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত চাই। এ জন্য তাদের বাংলাদেশে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যা তদন্তে একটি জুডিশিয়াল ইনকোয়ারি কমিশন গঠন করা উচিত।’

২০০৯ সাল থেকে ‘গুম’ হওয়ার ঘটনাসমূহ নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্দেশে সংবাদ ব্রিফিং এবং এর খসড়া জাতিসংঘের কাছে পাঠানোর কথাও উল্লেখ করেন বিএনপি মহাসচিব।

তিনি বলেন, ‘এই ঘটনাগুলো সম্পর্কে আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সংবাদ সম্মেলন করে ব্রিফিং করেছি। আমাদের দলীয় প্রধান এর খসড়া জাতিসংঘে পাঠিয়েছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক কোনো অ্যাকশন এখন পর্যন্ত নেয়া হয়নি।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা আজ এক কঠিন সময় পার করছি। এই সময় আমাদের রক্ষা করার সময়, এই সময় আমাদের গণতন্ত্রকে রক্ষা করার সময়, এই সময় আমাদের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার সময়, আমাদের রক্তের বিনিময় স্বাধীনতাকে রক্ষা করার সময়।’

দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষায় দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সংগ্রাম ও ত্যাগের কথাও তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব।

তিনি বলেন, ‘এদেশের মানুষ আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রতীক হিসেবে দেখে। এখনও হাজার হাজার নারী তার মুক্তির জন্য, তার সুস্বাস্থ্যের জন্য রোজা রাখে, দোয়া করে। আমরা দৃঢ় বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের মানুষ উঠে দাঁড়াবে, তারা তাদের হারিয়ে যাওয়া স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনবে, হারিয়ে যাওয়া গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবে, হারিয়ে যাওয়া অধিকার তারা ফিরিয়ে আনবে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘যে সরকার জনগণের দ্বারা নির্বাচিত নয়, যে সরকার অস্ত্রের জোরে রাষ্ট্রযন্ত্রগুলোকে ব্যবহার নির্বাচনের আগের রাতে ক্ষমতা দখল করে নিয়ে, পার্লামেন্ট দখল করে নিয়েছে সেই সরকারের জনগণের ওপর কোনো দায়িত্ববোধ থাকতে পারে না, তাদের কোনো দায়িত্বশীলতা নেই। সে জন্য আজ কোনো ঘটনার তদন্ত হয় না।’

ওয়েবিনারে বিএনপির মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান বাংলাদেশ মানবাধিকার লঙ্ঘন, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যা ও নিপীড়ন-নির্যাতন সম্বলিত মূলপ্রবন্ধ পাঠ করেন।

দলের সাংগঠনিক সম্পাদক শ্যামা ওবায়েদের সঞ্চালনায় স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক শাহিদুজ্জামান, ১৯৭৪ সালে গুম হওয়া ন্যাপ নেতা আবু বকর জাফর উদ-দৌলা দিপুর বোন বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রয়াত সদস্য তরিকুল ইসলামের স্ত্রী অধ্যাপক নার্গিস বেগম, ২০১৭ সালে গুম হওয়া বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক সাংসদ এম ইলিয়াস আলীর ছেলে ব্যারিস্টার আবরার ইলিয়াস, ২০১৩ সালে গুম হওয়া ঢাকার ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের নেতা সাজেদুল ইসলাম সুমনের বোন সানজিদা ইসলাম ও গুম হওয়া লাকসাম পৌরসভার সভাপতি পারভেজ কবির হীরুর স্ত্রী শাহনাজ আখতার বক্তব্য রাখেন।

ওয়েবিনারে ঢাকায় বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিসহ বিএনপির আবদুল আউয়াল মিন্টু, অনিদ্র ইসলাম অমিত, তাবিথ আউয়াল, জেবা আহমেদ, মীর হেলাল, ফারজানা শারমিন, জাহিদুল আলম হিটো, জুয়েল মন্ডল, ইয়াসীর খান চৌধুরী প্রমুখ যুক্ত ছিলেন।

সম্প্রতি সংবাদ