সৈয়দপুর পৌর নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হতে চায় যুবলীগ আহবায়ক মোস্তফা ফিরোজ

editor ১৪ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ সারাদেশ

শাহজাহান আলী মনন, নীলফামারী জেলা প্রতিনিধিঃ  ০২ সেস্টেম্বর-২০২০,বুধবার। 
আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে নীলফারীর সৈয়দপুরে মেয়র প্রার্থী হতে চায় পৌর যুবলীগের আহ্বায়ক মোস্তফা ফিরোজ। একান্ত সাক্ষাৎকারে এ প্রতিবেদক কে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছে ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি বলেন, আমরা পারিবারিকভাবে দীর্ঘদিন থেকে আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। আমার বাবা ছিলেন অত্যন্ত মুজিবভক্ত। আমরা তাই স্বাধীনতার মহান স্থপতি, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে ছোট বেলা থেকেই অনুপ্রাণিত ও নিবেদিত। আমরা সব ভাইয়েরাা আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দিচ্ছি। বড় ভাই মোঃ মোজাম্মেল হক পর পর ৩ বার পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। ইতোপূর্বে তিনি পৌর মেয়র পদে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছেন। সেসময় সৈয়দপুর বিএনপির ঘাটি হিসেবে পরিচিত ছিল। তারপরও  তিনি নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করে উর্দুভাষীদের আওয়ামী রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত করতে সক্ষম হন। ফলে বিপুল সংখ্যক ভোট পেয়েছিলেন। কিন্তু দলের একটি অংশের প্রতারণার কারণে বিজয়ী হতে পারেননি। তারপরও তিনি দল বিমুখ হননি। বরং পরবর্তীতে তিনি নব উদ্যোমে নির্বাচনের সময়ের অভিজ্ঞতা কাজে লাগান দল গোছানোর কাজে।
উর্দুভাষী অধ্যূষিত সৈয়দপুরের এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে আওয়ামীলীগ সম্পর্কে ভুল ধারনা দিয়ে সুদীর্ঘ সময় ধরে নিজেদের একক ভোট ব্যাংক হিসাবে ব্যবহার করেছে জাতীয় পার্টি ও বিএনপি। সেই ভুল ভাঙ্গানোর পাশাপাশি নেতৃত্বের গুনাবলী সমৃদ্ধ উদ্যোমী ও সম্ভাবনাময় উর্দুভাষী তরুন যুবকদের দলের পতাকাতলে সমবেত করেন। ফলে পরবর্তীতে বর্তমান উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মোঃ আখতার হোসেন বাদলকে মেয়র এবং কর্নেল (অবঃ) মারুফ সাকলানকে সংসদ সদস্য  নির্বাচিত করতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে সফল হয়েছেন।
এবার যদি বড় ভাই মোজাম্মেল হক প্রার্থী না হন তাহলে তাঁর উত্তরসূরী হিসেবে আমি নির্বাচন করবো।
সাবেক ছাত্র নেতা মোস্তফা ফিরোজ বলেন, এবার যদি বড় ভাই নির্বাচন না করেন তা হলে আমি মেয়র প্রার্থী হবো। কারন বড় ভাইয়ের মতই বর্নাঢ্য রাজনৈতিক জীবন আমারও। শৈশব-কৈশোর থেকেই বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাথে জড়িত। স্বাধীনতা পরবর্তী সৈয়দপুর ডিগ্রি মহাবিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ফুল প্যানেলে বিজয়ী প্রথম পরিষদের ভিপি ছিলাম। পরবর্তীতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নকালে ছাত্রলীগের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভুমিকা রেখেছি। শিক্ষাজীবন শেষে কর্ম জীবনে এসে পারিবারিক ব্যবসার পাশাপাশি নিজস্ব ব্যবসায় এখন প্রতিষ্ঠিত। সেসাথে চলছে রাজনৈতিক ও সামাজিক কার্যক্রম। ব্যক্তিগত উদ্যোগে ও অর্থায়নে সকল দলীয় কর্মসূচী বাস্তবায়ন করার সাথে সাথে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা করে যাচ্ছি যথাসাধ্য। কারন রাজনীতির মূল উদ্দেশ্যই হলো জনগনের কল্যাণ করা। সেই লক্ষ্যকে ধারণ করেই রাজনীতি করি। সে কারনে সবসময় সাহায্যপ্রার্থী যেই হোক কখনোই কাউকে নিরাশ করিনি। নিজ এলাকার বাইরেও এ সহায়তার হাত বাড়িয়েছি। ফলে সৈয়দপুর উপজেলাসহ আশেপাশের এলাকাতেও পরিচিতি ছড়িয়ে পড়েছে। সম্পৃক্ততা সৃষ্টি হয়েছে বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও সংগঠনের সাথে। এই সক্ষমতা আর সংগঠন পরিচালনার দক্ষতার ধারাবাহিকতায় তাই পৌর যুবলীগের আহ্বায়ক হওয়ার সুযোগও এসেছে।
কিন্তু ব্যক্তি উদ্যোগে মানুষের যে কল্যান করা সম্ভব হয় তা খুবই সীমিত আকারে। সর্বাত্মকভাবে সমাজসেবা করতে চাইলে জনপ্রতিনিধি হওয়ার বিকল্প নাই। বিশেষ করে সরকারি সহযোগিতা তৃণমূলের সর্বস্তরের মানুষের দ্বােরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার মাধ্যমে সমাজের সামগ্রিক কল্যান সাধনের ক্ষেত্রে। তাই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনপ্রতিনিধি হওয়ার প্রত্যাশা নিয়েই রাজনীতি করা।
দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, স্থানীয়ভাবে দলীয় ফোরামে আমার প্রার্থীতার বিষয়টি উত্থাপন করবো। নেতৃবৃন্দের মতামতের ভিত্তিতেই দলের কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে তা উপস্থাপন করা হবে। আমি আশাবাদী যে নেতাকর্মীরা সম্মিলিতভাবেই আমাকে সমর্থন জানাবে। কারন মূলদল সহ সব সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠন সমুহের সকল নেতাকর্মীর সাথেই আমার হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক। কারো সাথেই কোন প্রকার বৈরিতা নাই। এমনকি দলমত নির্বিশেষে উপজেলা ও পৌরসভার সকল মানুষের সাথে সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক সচরাচরই বিদ্যমান। যা অন্য অনেকের তুলনায় অনেকাংশে বেশিই বলে আমার বিশ্বাস। উর্দুভাষী-বাঙ্গালী সবাই তা একবাক্যে স্বীকার করবেন।
তাই মনে করি একইভাবে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কারিগর, বঙ্গবন্ধু কন্যা ও প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাও আমাকে মনোনয়ন দিবেন নৌকার মাঝি হিসেবে। কারন তিনি দল ও দেশের সকল ক্ষেত্রে উদীয়মান ও তরুন নেতৃত্বকে প্রাধান্য দিয়ে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাড়ানোর উপযুক্ত করে গড়ে তোলায় উদ্যোগ নিয়েছেন। তাঁর এ প্রচেষ্টা ইতোমধ্যে মন্ত্রী পরিষদসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন দেয়ার ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে সফল হয়েছে। তিনি যদি আমাকে মনোনয়ন দেন তাহলে আওয়ামীলীগ মেয়র প্রার্থীর বিজয় সুনিশ্চিত। কারন ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জনসম্পৃক্ততা, দলীয় নেতাকর্মীদের সমন্বিত প্রয়াস এবং উর্দুভাষী-বাঙ্গালী উভয় জনগোষ্ঠীর সাথে আত্মীয়তার সম্পর্কের সূত্র ধরে ভোট বিপ্লব ঘটানো সম্ভব হবে।
তাই বিএনপি’র দূর্গখ্যাত সৈয়দপুর পৌরসভার মেয়র পদটি জনগনের ভোটের মাধ্যমে অধিগ্রহণ করে দেশনেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিকল্পনা মাফিক সঠিক জনসেবা ও উন্নয়ন দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে প্রার্থী হতে চাই। সৈয়দপুরবাসীকে দিতে চাই আওয়ামীলীগ সরকারের সাফল্যের সর্বোচ্চ প্রাপ্তি। নিশ্চিত করতে চাই আগামী প্রজন্মের নিরাপদ ও মানসম্পন্ন ভবিষ্যৎ। এ শহরকে গড়ে তুলতে চাই প্রকৃত অর্থে উন্নত, আধুনিক ও শান্তি সমৃদ্ধির আবাসস্থল হিসাবে।

সম্প্রতি সংবাদ