ব্রেকিং নিউজ

গোয়ালন্দে ধর্ষণে জন্ম নেয়া শিশু’র আকিকা করলেন ওসি আশিকুর

editor ১৬ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ সারাদেশ

আবুল হোসেন, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:০৪ সেপ্টেম্বর-২০২০

পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়ে জন্ম দিয়েছে ফুটফুটে এক পুত্র সন্তান। যেন উলু বনে মুক্তো। দুইটি খাসি জবেহ করে শরীয়া অনুযায়ী গত বৃহস্পতিবার ওই শিশুটির আকিকা দিয়েছেন গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি আশিকুর রহমান।
৮ মাস আগে গ্রেফতারের পর থেকে জেলে আছে ধর্ষক দুই সন্তানের জনক ইয়াসিন মন্ডল (৪০)।
ধর্ষিত মা তার সন্তানের নাম রেখেছেন আব্দুল্লাহ ওমর। তবে ওসি আশিক ঘটনার প্রাসঙ্গিকতায় শিশুটির নাম দিয়েছেন ‘একজ’। গত বৃহস্পতিবার গোয়ালন্দ পৌরসভার আদর্শগ্রামে নবজাতকের নানাবাড়ীতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে আনুষ্ঠানিকভাবে আকিকা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
জানা যায়, ধর্ষিতা শিশুটির বাবা হত দরিদ্র একজন রিক্সাচালক। তারা স্বামী-স্ত্রী কিছুটা মানুসিক প্রতিবন্ধি হওয়ায় আয়-রোজগার তেমন একটা করতে পারেন না। শিশুটির মা বিভিন্ন বাসাবাড়িতে ঝিয়ের কাজ করেন। স্থানীয়রা জানান, পাশাপাশি বাড়ি হওয়ায় ইয়াসিন দীর্ঘদিন ওই শিশুটির মা’কে যৌন হয়রানি করত। এর মধ্যেই তার কু-দৃষ্টি পড়ে মেয়ের দিকে। অবুঝ শিশুটির ছোটভাইকে হত্যা করে পাশের খালে ফেলে দেয়ার হুমকি দিয়ে এবং জোরপূর্বক ইয়াছিন শিশুটিকে একাধিকবার ধর্ষন করে।এতে সে গর্ভবতী হয়ে পড়ে।
এদিকে গত ২০ জুন ধর্ষিতা শিশুটি রাজবাড়ীর একটি ক্লিনিকে একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেয়। শিশুটির বয়স এখন আড়াই মাস। নবজাতক শিশু ও শিশুর মাকে নিয়ে চরম অসহায় হয়ে পড়েছে পরিবারটি।
অভিযুক্ত ইয়াছিন মন্ডল গোয়ালন্দ পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের আদর্শ গ্রামের মৃত নবু মন্ডলের ছেলে। পেশায় কাঠমিস্ত্রি ইয়াসিন বিবাহিত ও দুই সন্তানের জনক। তার পরিবারও দূরাবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।
এদিকে ধর্ষণের শিকার হয়ে জন্ম নেয়া শিশু সামাজিক স্বীকৃতি ও পরিবারটির পাশে দাড়ানোর লক্ষে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী নবজাতক শিশুটির আকিকা অনুষ্ঠান আয়োজন করেন গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি মো. আশিকুর রহমান। এ লক্ষে গত বৃহস্পতিবার তিনি ২ টি খাসি ওই বাড়িতে নিয়ে জবেহ করার পর নিয়ম অনুযায়ী স্থানীয়দের মধ্যে মাংস বিতরন করেন। এ সময় ওসি আশিকুর রহমান, ওসি (তদন্ত) আব্দুল্লাহ আল তায়াবীর, গোয়ালন্দ পৌরসভার প্যানেল মেয়র নাসির উদ্দিন রনিসহ স্থানীয় গন্যমান্যরা উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয়রা ওসির এ মানবিক কাজকে সাধুবাদ জানান।
এ প্রসঙ্গে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি আশিকুর রহমান বলেন, ধর্ষণের শিকার ওই শিশু মায়ের জন্ম দেওয়া সন্তানকে নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জন চলছিল। এমন পরিস্থিতিতে আমি অসহায় ওই পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। এলাকার গণ্যমান্যদের সঙ্গে আলাপ করে সবার সহযোগিতায় আনুষ্ঠানিকভাবে ওই ছেলে সন্তানের আকিকা সম্পন্ন করেছি। তাছাড়া ওই কন্যা শিশুটি অন্তসত্ত¡া হওয়ার খবর পাওয়া মাত্রই ধর্ষক ইয়াছিনকে গ্রেফতার করি।এ পর্যন্ত অসহায় পরিবারটিকেও ত্রান সহায়তা ছাড়াও নানাভাবে সহায়তা দিয়ে আসছি।
এখন নবজাতক শিশু ও শিশুর মায়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে। তিনি আরো বলেন, ‘মুজিববর্ষের অঙ্গীকার, পুলিশ হবে জনতার’- বাংলাদেশ পুলিশের এই ¯েøাগান বাস্তবে রূপ দিতে হলে পুলিশি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে। এ জন্য পুলিশ-জনতার দূরত্ব কমিয়ে আনা খুব জরুরি, এই উপলব্ধি থেকেই আমি নিয়মিত দায়িত্ব পালন ছাড়াও কিছু মানবিক কাজ করার চেষ্টা করছি।’
ধর্ষিত শিশুর হতদরিদ্র বাবা-মা ধর্ষক ইয়াছিনের কঠোর শাস্তি দাবি করে তার মেয়ে ও নবজাতকের ভবিষ্যৎ রক্ষায় প্রশাসনসহ সমাজের গন্যমান্যদের কাছে দাবী জানিয়েছেন।

সম্প্রতি সংবাদ