ব্রেকিং নিউজ

মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালের নার্স শাহীনের বিরুদ্ধে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে অসৈাজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ

editor ১৩ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ সারাদেশ

মো. ইউসুফ আলী  স্টাফ রিপোর্টার : ০৬  সেপ্টেম্বর-২০২০,রবিবার।  

মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স শাহীনুর রহমান শাহীনের বিরুদ্ধে হাসপাতালের বিভিন্ন কর্মচারী, কর্মকর্তাসহ তার সহকর্মীদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করার অভিযোগ রয়েছে। তার হাতে লাঞ্চিত হয়েছেন সহকর্মী নার্স থেকে শুরু করে হাসপাতালের ফার্মাসিস্ট, ওয়ার্ড বয়, রোগী, রোগীর স্বজন ও চিকিৎসকগণ।

এ নিয়ে হাসপাতালের ভুক্তভোগী কর্মচারী, কর্মকর্তা ও সহকর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় অঙ্গীরকারনামা রেখে আপোস-মীমাংসাও করেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে শাহীনের অপকর্ম বন্ধ করতে পারেননি তারা। নিতে পারেননি বিভাগীয় ব্যবস্থা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত বছরের ২৫ মে হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স সাইফুল ইসলামকে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করে শাহীনুর রহমান। ওই দিনই বিষয়টি নিয়ে দরবারে বসেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এ সময় শাহীন তার কৃতকর্মের দ্বায় স্বীকার করে মাফ চান। ভবিষ্যতে এরকম কোন কিছু করবেন না বলে অঙ্গীকার করেন। এর আগেও একাধিকবার স্টাফদের সাথে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে অঙ্গীকার নামায় উল্লেখ করেন। সে সময় অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর দেন হাসপাতালের আবাসিক কর্মকর্তা ডা. মো. লুৎফর রহমান, ডা. রাজিব বিশ্বাস, নার্স সুপারভাইজার আনিছুর রহমান ভূইয়া, নার্স পারভীন আক্তার ও মোতালেব মিয়া।

অঙ্গীকার নামা দিলেও থেমে থাকেনি তার অপকর্ম। চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি শাহীনুরের হাতে লাঞ্চিত হতে হয় ফার্মাসিস্ট সেলিমুল হককে। নার্স হোসনেয়ারা, পারভীন, মোতালেব, ফার্মাসিস্ট লুৎফর ও পৌরসভার টিকাদানকারী শিউলীকেও লাঞ্চিত করেন শাহীন। শাহীনের কাছে অপমানিত হতে হয়েছে খোদ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার আরশ্বাদ উল্লাহকেও।

এ বিষয়ে নার্স সাইফুল ইসলাম বলেন, “আমি দীর্ঘদিন জরুরি বিভাগের ইনচার্জ ছিলাম। গত বছরের ২৫ মে ট্রলিম্যানকে খুঁজে পাচ্ছিলাম না। সে সময় শাহীন এসে জানায়, সে ট্রলিম্যানকে জরুরি বিভাগ থেকে বের করে দিয়েছে। আমি এর প্রতিবাদ করে তাকে বলি, আমি ইনচার্জ আমার অনুমতি ছাড়া আপনি তাকে বের করে দিলেন কেন? এ কথা বলার সাথে সাথে তখন সে আমাকে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করে।”

নার্স হোসনেয়ারা বলেন, “নার্স সুপারভাইজার আনিছুর রহমান ভূইয়ার নির্দেশ অমান্য করায় আমি প্রতিবাদ করেছিলাম। এজন্য সে আমাকেসহ সকল নার্সকে হাসপাতাল থেকে বের করে দেবে বলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে হুমকি দেয়।  আমি আল্লাহর কাছে বিচার দিয়ে রাখছি।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নার্স শাহীনুর রহমান শাহীন বলেন, আমি সব সময় অন্যায়ের প্রতিবাদ করি, এজন্য অনেক সময় অনেকের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। তবে সেসব তুচ্ছ ঘটনা। তাৎক্ষণিকভাবে সেসব ঘটনার মিমাংসা হয়ে গেছে।

নার্স শাহীনের বিরুদ্ধে উল্লেখিত অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেন মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আরশ্বাদ উল্লাহ। তিনি বলেন, এর আগেও নার্স শাহীনুর রহমান শাহীন অনেককে লাঞ্চিত করেছেন। তার বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছি। নার্স শাহীনুর রহমান একজন বদমেজাজী বলেও উল্লেখ করেন ডা. আরশ্বাদ উল্লাহ।

 

 

সম্প্রতি সংবাদ