বিদেশে পাঠানোর প্রয়োজন নেই ইউএনও ওয়াহিদাকে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

editor ১৪ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ breaking জাতীয়

কালের কাগজ ডেস্ক:০৬ সেপ্টেম্বর ২০২০,

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে দুর্বৃত্তের হামলায় গুরুতর আহত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানমের অবস্থার উন্নতি হওয়ায় তাকে এখন আপাতত দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

ভবিষ্যতে যদি প্রয়োজন হয়, তখন এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলেও জানান তিনি। রোববার সকালে রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে ইউএনও ওয়াহিদা খানমের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, চিকিৎসার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবসময় খোঁজখবর রাখছেন। রোগী এখন যে পর্যায়ে আছে, তাতে করে দেশের বাইরে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।

ওয়াহিদা খানমের চিকিৎসার প্রয়োজনে যা যা দরকার, তার সবই দেয়া হবে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ইউএনও ওয়াহিদা আমার সঙ্গে কথা বলেছেন। আমার কাছে মনে হয়েছে উনি এখন অনেক ভালো অবস্থায় আছেন।

তিনি বলেন, ইউএনও ওয়াহিদা খানমের ডান দিকের অংশটা এখনও অবশ আছে। ডাক্তারা বলেছেন– ফিজিক্যাল থেরাপি দিলে আস্তে আস্তে এটা ভালো হয়ে যাবে। এ রকম একটা জটিল রোগীকে সফলতার সঙ্গে নিউরোসায়েন্স চিকিৎসা দেয়ায় আমরা গর্বিত। প্রধানমন্ত্রী নিজেও রোগীর সম্পর্কে সবসময় খোঁজখবর রাখছেন।

জাহিদ মালেক বলেন, সোমবার সকালে ৭২ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণ শেষ হবে। এখনও ইনফেকশনের লক্ষণ দেখা যায়নি। দোয়া করি, ইনফেকশন যেন না হয়। আমি নিজ চোখে দেখে আসছি। রোগী সুন্দর ব্যবস্থাপনায় আছেন এবং সব কিছু ভালোভাবে চলছে।

উল্লেখ্য, ২ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে দুর্বৃত্তরা মই বেয়ে ইউএনও ওয়াহিদার সরকারি বাসায় ঢুকে এবং ভেন্টিলেটর ভেঙে ইউএনওর রুমে প্রবেশ করে তাকে হাতুড়া দিয়ে আঘাত শুরু করে।

একসময় ইউএনওর চিৎকার শুনে তার মুক্তিযোদ্ধা বাবা পাশের রুম থেকে ছুটে এসে মেয়েকে বাঁচানোর চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা তাকেও হাতুড়িপেটা করে। পরে পাশের কোয়ার্টারের বাসিন্দারা বিষয়টি টের পেয়ে পুলিশকে খবর দেন।

গুরুতর আহতাবস্থায় ওই রাতেই প্রথমে ঘোড়াঘাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পর দিন সকালে রংপুর কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে বৃহস্পতিবার বাবা-মেয়েকে ঢাকায় আনা হয়। ভর্তি করা হয় রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে।

ওই দিন রাতেই প্রায় ২ ঘণ্টার চেষ্টায় ৬ সদস্যের চিকিৎসক দল ইউএনও ওয়াহিদার মাথার জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন। অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হওয়ার পর ইউএনও ওয়াহিদাকে ৭২ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

তিনি এখনও শঙ্কামুক্ত নন। তবে তার সেরে ওঠার বিষয়ে আশা দেখছেন হাসপাতালের চিকিৎসকরা। ওই হাসপাতালেই ওয়াহিদার মুক্তিযোদ্ধা বাবাও চিকিৎসাধীন আছেন।

সম্প্রতি সংবাদ