ব্রেকিং নিউজ

মানিকগঞ্জে পুলিশের উদ্যোগে নির্মাণ হচ্ছে মাদকাসক্ত পুনর্বাসন ও নিরাময় কেন্দ্র

editor ১৭ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ breaking সারাদেশ

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি:০৭ সেপ্টেম্বর-২০২০,সোমবার।
মানিকগঞ্জে মাদকের ভয়াল থাবায় ধ্বংস হচ্ছে তরুণ ও যুব সমাজ। তাঁদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ। জেলা সদরের বাঘিয়া বিলপাকশিয়া এলাকায় পুলিশের উদ্যোগে পাইলট প্রজেক্ট হিসেব নির্মাণ করা হবে মাদকাসক্ত পুনর্বাসন ও নিরাময় কেন্দ্র। ইতিমধ্যে কেন্দ্রটি নির্মাণে জমি দান করেছেন তিন ব্যক্তি।
সোমবার সকালে ভাড়ারিয়া ইউনিয়নের ওই জমি পরিদর্শন করেছেন পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মো. হাবিবুর রহমান। পরে স্থানীয় বাঘিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, দেশে মাদক একটি বড় সমস্যা। কারণ, এটি শুধু মাদকাসক্ত ব্যক্তিকেই ধ্বংস করে না, পুরো পরিবারকে শেষ করে দেয়। মাদক নির্ম‚লে এবং মাদকের চোরকারবারীদের বিরুদ্ধে পুলিশ কাজ করছে। এরই অংশ হিসেবে মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে সুস্থ এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. বেনজির আহমেদের নির্দেশে প্রতিটি জেলায় মাদকাসক্ত পুনর্বাসন ও নিরাময় কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই ধারবাহিকতায় মানিকগঞ্জেও মাদকাসক্ত পুনর্বাসন ও নিরাময় কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে, যা দেশে প্রথম ধাপের মাদক নিরাময় কেন্দ্র হবে এটি।
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মাঈন উদ্দিন বলেন, জায়গাটি কালীগঙ্গা নদীতীরবর্তী স্থানে মাদকাসক্ত পুনর্বাসন ও নিরাময় কেন্দ্রটি নির্মিত হচ্ছে। ভাঙনের ঝুঁকি এড়াতে নদীর তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
মাদকাসক্ত পুনর্বাসন ও নিরাময় কেন্দ্র নির্মাণে স্থানীয় জলিল শিকদারের স্ত্রী দেলোয়ারা বেগম ৬৫ শতক এবং ফজলুল হক ও তাঁর ভাই আবুল খায়ের ১৭ দশমিক ৫ শতক জমি দান করেন। পুলিশ সুপার রিফাত রহমানের প্রচেষ্টায় নিরাময় কেন্দ্রটি নির্মাণে ৮২ দশমিক ৫ শতক এই জমি বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শকের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীম এর  সভাপতিত্বে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন মাদকাসক্ত পুনর্বাসন ও নিরাময় কেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক এবং পুলিশ সুপার শহীদুল ইসলাম, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মাঈন উদ্দিন, স্থানয়ি বাড়ারিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল কাদের জমিদাতা জলিল শিকদার প্রমুখ। সভায় পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
সভায় পুলিশের পক্ষ থেকে জমিদাতাদের সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন ডিআইজি হাবিবুর রহমান। এর আগে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে তিনি অপরাধ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে পুলিশের নিজস্ব অর্থায়নে জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপ‚র্ণস্থানে স্থাপিত ১৬০টি সিসি ক্যামেরা উদ্বোধন করেন পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মো. হাবিবুর রহমান। পরে তিনি পুলিশ লাইনে মাছে পোনা অবমুক্ত ও মুক্তিযুদ্ধের টেরাকাটা উদ্বোধন করেন । এছাড়াও মানিকগঞ্জ পৌর সভার ৬ নং ওয়ার্ডের পুলিশের বিটকার্যক্রম পরিদর্শন করেন।

সম্প্রতি সংবাদ