ব্রেকিং নিউজ

নীলফামারীত অন্তঃসত্বা গৃহবধু বর্ষা হত্যা মামলায় দেশ ত্যাগের সময় স্বামী গ্রেপ্তার

editor ১০ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ সারাদেশ

শাহজাহান আলী মনন,  নীলফামারী জেলা  প্রতিনিধিঃ০৮ সেপ্টেম্বর-২০২০,মঙ্গলবার।
নীলফামারীতে অন্তঃসত্বা গৃহবধু মাহবুবা হােসেন বর্ষা (১৯) হত্যা মামলার প্রধান আসামী স্বামী তাওহিদ ইসলাম সিজারকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। ৮ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার বিকালে তাকে আদালতে সােপর্দ্দ করা হয়েছে।
এর আগে দেশ ত্যাগের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় সােমবার রাত ৯টার দিকে যশাের জেলা শহরের রুপদিয়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
 নীলফামারীর সদর থানার পরির্দশক (অপারেশন) মােঃ হাবিবুর রহমান হাবিব জানান, গত ২৩ আগাস্ট রাত ১১টার দিকে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতাল থেকে ওই গৃহবধুর মরদেহ উদ্ধার করে নীলফামারী সদর থানা পুলিশ। ২৪ আগাস্ট সকালে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মােঃ বাবুল হােসেন বাদী হয়ে ২৫ আগাস্ট রাত সাড়ে আটটার দিকে নীলফামারী সদর থানায় বর্ষার স্বামী তাওহিদ ইসলাম সিজারকে প্রধান করে চার জনের নামে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকে বর্ষার স্বামীসহ অন্যান্য আসামীরা আত্ম গােপন করেন।
মামলার বিবরণ দিয়ে পুলিশ জানায়, ২০১৯ সালের ৩০ অক্টাবর জেলা সদরের ইটাখােলা ইউনিয়নের কড়লা বোচাটারী গ্রামের মৃত খায়রুল ইসলামের ছেলে তাওহিদ ইসলামের সঙ্গে বিয়ে হয় জেলা সদরের পঞ্চপুকুর বালিকা উচ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও নীলফামারী পৌরসভার পূর্ব কুখাপাড়া গ্রামের বাবুল হােসেনের মেয়ে মাহবুবা হােসেন বর্ষার (১৯)।
বিয়ের পর থেকে ১৫ লাখ টাকা যৌতুকের দাবীতে স্বামী ও তার পরিবারের লােকজন বর্ষার উপর বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানষিক নির্যাতন চালাতাে। এরই মধ্যে গৃহবধু মাহবুবা হােসেন ৬ মাসের অন্তঃসত্বা হয়ে পড়েন। গত ঈদুল আযহার পর থেকে যৌতুকের টাকার দাবিতে বর্ষার উপর নির্যাতনের মাত্রাও বৃদ্ধি করে স্বামীসহ পরিবারের লােকজন। এমতাবস্থায় গত ২৩ আগস্ট পরিকল্পিতভাবে বর্ষাকে হত্যা করে ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহের জন্য নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় স্বামী ও তাঁর পরিবারের লােকজন।
নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কে এম আজমিরুজ্জামান বলেন, “ঘটনা এবং মামলার পর থেকে প্রধান আসামীসহ অন্যান্য আসামীরা আত্মগােপন করেন। পরে মােবাইল ট্রাকিংয়ের মাধ্যমে মামলার প্রধান আসামী ওই গৃহবধুর স্বামী তাওহিদ ইসলাম সিজারকে সােমবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয়।
সিজার যশাের জেলা শহরের রুপদিয়া মহল্লায় তার চাচার বাসায় ছিলেন এবং সেখান থেকে ভারতে পালানাের চেষ্টা করছিল। মঙ্গলবার তাকে আদালত সােপর্দ্দ করা হয়েছে।
ওই মামলায় পলাতক থাকা বাকী তিন আসামীকেও গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান ওসি  কে এম আজমিরুজ্জামান।

সম্প্রতি সংবাদ