ঘিওরে আর্সেনিক আতংক২৩ বছর ধরে পরীক্ষা হয়না

editor ৮ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ সারাদেশ

রামপ্রসাদ সরকার দীপু ,স্টাফ রিপোর্র্টার:১০ সেপ্টেম্বর-২০২০,বৃহস্পতিবার।

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার সর্বত্রই আর্সেনিক ও আয়রন আতংক বিরাজ করছে এলাকার লোকজন। বিভিন্ন নলকুপের পানিতে অতিমাত্রায় আর্সেনিক পাওয়া গেছে। নিরাপদ পানির অভাবে মানুষ জেনে শুনে বিষপান করে চলেছে। স্থানীয় জনস্বাস্থ্য বিভাগের এক শ্রেনীর টাউট ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা কর্মচারীদের দায়িত্বে-কর্তব্যে গাফলতির কারনে বিগত ২৩ বছর ধরে ঘিওরে আর্সেনিক পরীক্ষা করন করা হচ্ছেনা। ফলে এলাকার হাজার- হাজার লোকজন আর্সেনিক যুক্ত পানি পান করে আর্সেনিকোসিস রোগ সহ বিভিন্ন মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। ভয়ে অনেক লোকজন নলকুপের পানি পান করা বন্ধ করে দিয়েছে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তর সূত্র জানা গেছে, ১৯৯৭ সালের প্রথম দিকে আর্সেনিক পরীক্ষার কার্যক্রম শুরু হয়। ১৭ মাসে মাত্র ১হাজার ৩শ’ ৩৪টি নলকূপের পানি পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার পরে নলকুপগুলোর পানি যাতে কেউ পান না করে, সেই জন্য কর্তৃপক্ষ প্রতিটি নলকুপের গায়ে লাল রংয়ের চিহ্ন দিয়ে দেয়। দীর্ঘ দিন অতিবাহিত হবার পরে নলকুপগুলো পরীক্ষা করা হয়নি। ফলে এলাকার লোকজনের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নব্বই দশকের আগে আর্সেনিক সমন্ধে মানুষের তেমন কোন ধারনা ছিলনা। কিছু মানুষের ত্বক খসখসে, ঘাঁ, চুলকানি এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে ক্ষত সৃষ্টি হওয়ায় চিকিৎসা করাতে গিয়ে আর্সেনিকের অস্তিত্ব ধরা পরে। বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় খবর প্রচারিত হলে দেশের মানুষের আর্সেনিকের সম্পর্কে ধারনা লাভ করে। নলকুপের প্রতি লিটার পানিতে দশমিক শূন্য পাঁচ থেকে মিলিগ্রাম থেকে আর্সেনিক থাকলে তা মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর নয়। কিন্তু এর চেয়ে বেশি মাত্রায় আর্সেনিক থাকলে তা মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর।
উপজেলাতে কাগজে কলমে বিভিন্ন ধরনের প্রায় ২ হাজার ৬শ’ নলকুপ আছে। এছাড়া ৭টি ইউনিয়নের বাসা বাড়িতে হাজার-হাজার নলকুপ রয়েছে। দীর্ঘ ২৩ বছর যাবত এই সমস্ত নলকুপগুলো আর্সেনিক পরীক্ষা করা হয়না। গত ৩ বছর আগে এডিপি থেকে ২১টি নলকুপ বরাদ্দ দেওয়া হয়। নলকুপগুলো বিতরনে নয়ছয় করা হয়েছে। অধিকাংশ নলকুপগুলো নি¤œমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় বর্তমানে ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পরেছে। ৬নং হ্যান্ড পাম্প নলকুপ, অগভীর, নলকুপসহ ৪৩টি তারা গভীর নলকুপ বিতরনের ব্যাপক অনিয়ম করা হয়েছে। বর্তমানে ঘিওরের অধিকাংশ নলকুপ থেকে পানি উঠছে না। প্রতিটি ৬নং হস্তচালিত নলকুপ (অগভীর) নলকুপের জন্য চালানের মাধ্যমে গ্রহীতাকে ১হাজার ৫শ’ টাকা জমা দিতে হয়। খরচ হয় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। গভীর নলকুপের জন্য সাধারন গ্রহিতাকে ৭ হাজার টাকা জমা দিতে হয়। খরচ হয় ৯০ হাজার থেকে ১লাখ ২০ হাজার টাকা। রিং ওয়েলের জন্য জমা দিতে হয় ৩ হাজার ৫শ’ টাকা। খরচ হয় ৭৫ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকা। উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অফিসের এক শ্রেনীর দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও কমচারীদের সহযোগিতায় নিন্মমানের উপকরনের মাধ্যমে এই সমস্ত নলকুপগুলো নির্মান করা হয়। জনৈক ঠিকাদারের সাথে অফিসের মেকানিক গোপাল মন্ডল ও রুবেল তারা ঠিকাদারের কাছ থেকে সাব- কন্টাক নিয়ে রিং অয়েল,হ্যান্ড নলকুপ ও গভীর নলকুপ তৈরি করেন। নি¤œমানের সামগ্রী ব্যবহারের কারনে অল্প দিনেই ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পরে। সঠিক তদারকি ও মনিটরিং না করায় নি¤œ মানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। এদিকে, ভবনটির ভীতরের পলেষ্টার উঠে রড বেড়িয়ে পরে এবং বিভিন্ন স্থানের পলেষ্টার উঠে যাবার পরে ২০১২ সালে উপজেলা এলজিইডি অফিস জনস্বাস্থ্য অফিসের এই ভবনটি ঝুঁকিপূন ঘোষনা করে। তার পরেও জুঁকিপূর্ন ভবনটি গত ২ বছর আগে প্রায় ৪ লাখ টাকা ব্যয় করে টাইলস ও চুনকাম করা হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ সৌমেন চৌধুরী জানান, আর্সেনিকে আক্রান্ত রোগীদের প্রথমে হাত,পায়ে এমনকি শরীরে ফোসকা পরে কালো রং গোলাকৃত আকার ধারন করে। পরীক্ষা নিরিক্ষা করে আর্সেনিকে আক্রান্ত রোগি সনাক্ত করা হয়। আর্সেনিকযুক্ত পানি পান করলে যে কোন সময় একজন মানুষের লিভার সিরোসিস,জন্ডিস,কিডনী ডেমেজ, চর্মসহ নানা ধরনের জটিল ও কঠিন রোগ হতে পারে। কাজেই পরীক্ষা ছাড়া কোন নলকুপের পানি পান করা নিরাপদ নয়।
জনস্বাস্থ্য উপসহকারী প্রকৌশলী মোঃ দবিরুল ইসলাম জানান, উপজেলাতে পাইপ লাইনের মাধ্যমে বিশুদ্ধ পানি ব্যবস্থা করা হলে এলাকার জনগনের সুবিধা হবে। আমি একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছি। তবে পর্যপ্ত উপকরন না থাকার দরুন আর্সেনিক পরীক্ষা নিরিক্ষা করা যাচ্ছেনা। আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি উপজেলার সকল নলকুপগুলোতে আর্সেনিক আছে কিনা তা পরীক্ষা করার জন্য। অফিসে কেউ পানি নিয়ে আসলে পরীক্ষা করে দেওয়া হয়। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করে দ্রæত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে তিনি জানান।

সম্প্রতি সংবাদ