সৈয়দপুরে পূর্ব শত্রুতার জেরে লিচু বাগানের ২ শতাধিক গাছ কেটে ধ্বংস

editor ১৪ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ সারাদেশ

শাহজাহান আলী মনন, নীলফামারী জেলা প্রতিনিধিঃ ১৩ সেপ্টেম্বর-২০২০,রবিবার। 
নীলফামারীর সৈয়দপুরে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে একটি লিচু বাগানের ২ শতাধিক গাছ কেটে ফেলেছে দূর্বৃত্তরা। বৃষ্টি পেয়ে নতুন পাতায় ছেয়ে যাওয়া বাড়ন্ত গাছগুলোর গোড়া থেকে সম্পূর্ণভাবে কেটে ধ্বংস করা হয়েছে। ফলে বাগান মালিক আয়ের একমাত্র উৎসের ক্ষতিতে নিঃস্ব হয়ে পথে বসেছে। বিচার চেয়ে চেয়ারম্যান মেম্বারের কাছে ধর্না দিয়েও কোন সুরাহা না পেয়ে চরমভাবে হতাশ ও দিশেহারা হয়ে পড়েছে। নিরুপায় হয়ে ঘটনার বিচারের দাবীতে সংবাদকর্মীদের শরণাপন্ন হয়েছেন অসহায় প্রান্তিক কৃষক জাহেদুল ইসলাম।
ঘটনার বিবরণে তিনি জানান, উপজেলার কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের পূর্ব বেলপুকুর সাতপাই গ্রামে তার বাড়ি। বাড়ি থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে উত্তর-পূর্ব দিকে চিকলী নদীর পাড়ে ময়নারকুড়া নামক শশ্মানঘাট সংলগ্ন পৈত্রিক ৪৫ শতক জমিতে উন্নত জাতের ২ শ’ টি লিচু ও ৫০ টি আম গাছ লাগিয়েছিলেন। প্রায় এক বছর যাবত পরিচর্যায় বাগানের কলম গাছগুলো এখন ফল ধারনের উপযোগী হয়ে উঠেছে। গত মৌসুমে বেশ ফুল এসেছিল। কিন্তু ভালো ফলন পাওয়ার জন্য এবার তা ভেঙে দেয়া হয়। তাই আশা করছিলো আগামী মৌসুমে আশাতীত ফল ধরবে। কিন্তু তার আগেই বাড়ন্ত গাছগুলো কেটে ফেলেছে দূর্বৃত্তরা।
মৃত জাহান উদ্দিনের ছেলে জাহেদুল জানান, বাগান করার সময় থেকেই পাশের বিশাল সরকারী খাস জমি দখল করে ভোগকারীরা বিরোধিতা করে আসছে। তাদের দাবী আমার পৈত্রিক জমিও নাকি তাদের। এজন্য ইতোপূর্বে বাগানের জমিটির সীমানা দিয়ে লাগানো ইউক্যালিপটাস গাছের অধিকাংশ উপড়ে ফেলে এবং মাল্লি (আইল) কেটে নেয়। তাছাড়া প্রায়ই গরু-ছাগল লাগিয়ে ফসল নষ্ট করা সহ মাঝে মাঝেই গাছ ভেঙে ফেলার মত ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছে। এরই জের ধরে গত মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে গরু বাধা নিয়ে ঝগড়া হয় নদীর উত্তর পাড়ের বাগিচাপাড়ার মোঃ সামাদের ছেলে ধনির ও দুলু এবং তাদের চাচা সিরাজুল (খাটিয়া) এর সাথে। তারা জোর করেই বাগানের পাশে গরু বেধে ঘাস খাওয়াবে অথচ তাতে নিষেধ করা যাবেনা। কিন্তু গরু ঘাসের সাথে যে বাগানের গাছ খেয়ে ফেলে নষ্ট করছে সে ব্যাপারেও কিছু বলা যাবেনা। তারা গায়ের জোরেই সব করে চলেছে। তর্ক-বিতর্কের এক পর্যায়ে হুমকি দিয়ে বলে কি করে এখানে বাগান করিস তা দেখবো, বাগানে কোন গাছই থাকবেনা। আর দিবাগত রাতেই বাগানের সব গাছ কেটে ফেলে তারা। পরদিন বুধবার সকালে এসে দেখি বাগানে ২০-৩০ টা গাছ বাদে সবগাছ গোড়া কাটা এবং কাটাগাছগুলো এলোমেলোভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা হয়েছে। বিষয়টা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ এনামুল হক চৌধুরী কে জানানো হলেও তিনি কোন সুরাহা তো দূরের কথা উল্টো আমাকেই দোষারোপ করে বলছেন আমাদের পৈত্রিক জমিও নাকি খাস। তাই এখানে বাগান করা ঠিক হয়নি। তাছাড়া যেহেতু চাক্ষুষ কোন সাক্ষী নাই তাই ধনির দুলু দের দোষ দিয়ে লাভ নাই। তাই তিনি গত ৪ দিনেও কোন সুরাহা করেননি। শুধুমাত্র সাংবাদিকরা বাগান সরেজমিনে দেখে গেছেন জানতে পেরে গত শনিবার দুপুরে বাগান দেখতে আসেন। অথচ গত কয়েকদিন যাবত বার বার বলাতেও কোন কর্ণপাত করেনি।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক জাহেদুল বাগানের কাটা গাছের গোড়ায় বসে কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, অনেক কষ্ট করে নিজের সর্বস্ব দিয়ে এই বাগানটা করেছি। অভাবের সংসারে একটু স্বচ্ছলতার আশায়। সেই দিনাজপুরের স্বপ্নপুরী থেকে উন্নত জাতের থাই ও বোম্বে লিচু এবং ফজলি ও আম্রপালি আম গাছ এনে লাগিয়েছিলাম। প্রতিটা কলম চারা প্রায় ৫শ’ টাকা খরচ পড়েছে। সর্বমোট প্রায় দেড় লাখ টাকা ইনভেস্ট করেছি। সে সাথে পরিশ্রম আর ত্যাগ। দিন রাত পরিচর্যা করে লাভের মুখ দেখার প্রাক্কালেই সব ধ্বংস করে দিলো প্রতিহিংসার আগুনে। এখন আবার হুমকি দেয়া হচ্ছে গাছ কাটা নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে গাছের মত আমাকে কেটে ফেলা হবে। তাই চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।  এর প্রতিকার না পেলে আমি নিঃস্ব হয়ে যাবো। তাই আমাকে বাঁচতে দিন।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ধনির দুলু ও সিরাজুলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা কোন মন্তব্য করতে চায়নি

সম্প্রতি সংবাদ