ব্রেকিং নিউজ

সৈয়দপুরে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের হস্তক্ষেপে খাদ্যগুদাম কর্র্তৃপক্ষ ও মিল মালিকেরজোগসাজশে নিম্নমানের চাল গুদামজাত করার অপচেষ্টা ভেস্তে গেলো

editor ১৫ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ সারাদেশ

শাহজাহান আলী মনন, নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি :১৩ সেপ্টেম্বর-২০২০,রবিবার।
নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (এসি ল্যান্ড) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এর হস্তক্ষেপে উপজেলা খাদ্যগুদাম (এলএসডি) কর্র্র্র্তৃপক্ষ ও মিল মালিকের জোগসাজশে নিম্নমানের চাল গুদামজাত করার অপচেষ্টা ভেস্তে গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে ১৩ সেপ্টেম্বর রোববার সকাল সাড়ে ১১ টায়। এ ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং প্রশ্ন উঠেছে ইতোপূর্বে সংগৃহিত চালের মান নিয়ে। সে সাথে দাবি করা হচ্ছে গুদামে সংরক্ষিত চালের মান যাচাইয়ের জন্য।
জানা যায়, সৈয়দপুর সরকারী গুদামে চলতি মৌসুমে ২ হাজার ৫ মেট্রিক টন চাল ক্রয়ের মাধ্যমে সংগ্রহ পূর্বক সংরক্ষনের জন্য নির্দেশনা দিয়েছে সরকার তথা খাদ্য কর্র্তৃপক্ষ। সে অনুযায়ী সৈয়দপুর উপজেলাধীন কৃষকদের কাছ থেকে ওই পরিমান চাল ক্রয় করার কথা। কিন্তু এলএসডি কর্র্তৃপক্ষ তথা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফজলুল হক কৃষকদের কাছ থেকে এসব চাল না নিয়ে তার আস্থাভাজন মাত্র কয়েকজন মিল মালিকের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় চাল ক্রয় করেন। যার মধ্যে এক তৃতীয়াংশ অর্থাৎ প্রায় ১ হাজার ৯শ’ মেট্রিক টন চালই ক্রয় করেন মেসার্স আফজাল অটো রাইস মিল মালিকের কাছ থেকে। এই ক্রয়কৃত চালের সিংহভাগ ইতোমধ্যে গুদামজাত করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় রোববারও ট্রাক নং-ঢাকা-মেট্রো-ট-১৬৫৪৪০ এর মাধ্যমে ১ হাজার ৩ শ’ টন ২শ’ গ্রাম চাল গুদামজাত করার জন্য এলএসডি তে আনা হয়। ৩০ কেজি ওজনের  প্রায় ৪৪৪ বস্তায় প্রায় ৪ লাখ ৭৫ হাজার ২৮০ টাকা মূল্যমানের চাল সরবরাহ করে আফজাল অটো রাইস মিল কর্তৃপক্ষ। যা অত্যন্ত নিম্ন মানের ছিল। লালচে রংয়ের এই চাল এলএসডি’র ওসি গুদামজাত করতে কোন রকম বাধা না দিয়ে বা যাচাই বাছাই না করেই জোগসাজশের মাধ্যমে তড়িঘড়ি করে ট্রাকটি ভিতরে প্রবেশ করিয়ে খামাল দেয়ার চেষ্টা করে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ বিষয়ে অবগত হয়ে সৈয়দপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট রমিজ আলম তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ট্রাকের চালের বস্তা যাচাই বাছাই করেন। এতে মিল কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ইতোপূর্বে সরবরাহকৃত নমুনার সাথে মিল না পেয়ে এবং চালের রং লালচে হওয়ায় তা ফেরত পাঠিয়ে দেন। এ ঘটনায় ইতোপূর্বে ওই মিল কর্তৃক সরবরাহকৃত ১ হাজার ৯ শ’ মেট্রিক টন চালের ক্ষেত্রেও নিম্নমানের দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সচেতন মহল বিষয়টি যাচাই করার জন্য দাবি জানিয়েছেন।
একটি সূত্র মতে, আফজাল অটো রাইস মিল কর্তৃক সরবরাহকৃত নিম্নমানের চাল আনার ক্ষেত্রে যাতে কোন প্রকার প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি না হয় সেজন্য এলএসডি’র এক কর্মকর্তার নিজস্ব ট্রাক ব্যবহার করা হয়েছে। যা তদন্তের জন্যও দাবি জানিয়েছেন মিল মালিকরাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
এ ব্যাপারে মেসার্স আফজাল অটো রাইস মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ আফজাল হোসেনের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমাদের মিল মূলত অটো। যা সার্বিকভাবে বিদ্যুতের উপর নির্ভরশীল। তাই কোন সময় যদি মেশিন চালু অবস্থায় বিদ্যুৎ চলে যায় তাতে কিছু ধান নষ্ট হয়। এই ধানের চালগুলোই মূলতঃ লাল রংয়ের হয়ে থাকে। অনেক সময় এই চালগুলো আলাদা করা সম্ভব হয় না। এধরণের কিছু চাল কোন কারণে এলএসডিতে চলে গেলে তারা দেখে ফেরত দিলে আমরা তা পরিবর্তন করে দেই। মাঝে মাঝে এমন হয়ে থাকে। তাই আজকের ঘটনা কোন বড় ব্যাপার নয়।
সৈয়দপুর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ ফজলুল হক বলেন, মিল মালিকরা চালসহ ট্রাক পাঠালে আমরা স্কেল করে ওজন যাচাই করি এবং গুদামজাত করি। সে অনুযায়ী চাল গুদামজাত করা কালে কোন মাধ্যমে খবর পেয়ে এসি ল্যান্ড সাহেবও এসেছিলেন এবং চালের নমুনার সাথে মিল না থাকায় এবং চালগুলো লালচে হওয়ায় ফেরত দেয়ার নির্দেশ দেন। ইতোপূর্বেও আফজাল অটো মিল কর্তৃক সরবরাহকৃত চাল যা গুদামজাত করা হয়েছে সেগুলোর মধ্যেও একই ধরণের নিন্মমানের ও লাল রংয়ের চাল রয়েছে তা যাচাই না করেই গ্রহণ করা হয়েছে বলে আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি সঠিক নয়। কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন মনে করলে অভিযোগ তদন্ত করে দেখতে পারেন।
সৈয়দপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ রমিজ আলম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপস্থিত হয়ে দেখতে পাই ট্রাকের চালগুলো লালচে রংয়ের এবং নমুনার সাথে মিল নেই। একারণে ট্রাকসহ চাল ফেরত দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জানানো হয়েছে।

সম্প্রতি সংবাদ