ব্রেকিং নিউজ

গোয়ালন্দে চুক্তিবদ্ধ জমির ১২শ কলাগাছ কেটে ফেলেছে জমির মালিক

editor ১১ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ সারাদেশ

আবুল হোসেন,রাজবাড়ী প্রতিনিধি:১৯ সেপ্টেম্বর-২০২০,শনিবার।

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে লিজ দেয়া জমির অন্তত ১২শ কলা গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে দুই জমি মালিকদের বিরুদ্ধে। এর প্রতিকার চেয়ে কলাচাষী যুবক শুক্রবার গোয়ালন্দ ঘাট থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে ওই জমির মালিকরা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন চুক্তির মেয়াদ আরো ৩ বছর আগে শেষ হয়ে গিয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্থ যুবকের নাম মোঃ শরিফুল ইসলাম (২৪)। তিনি ফরিদপুর জেলার ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের চর চাঁদপুর গ্রামের হানিফ মোল্লার ছেলে।
অভিযুক্ত দুই জমি মালিক হলেন গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের দুলাল বেপারী পাড়ার মৃত ফটিক শেখের ছেলে গোপাল শেখ (৪০) ও চর দৌলতদিয়া আদু বেপারী পাড়ার তেছের শেখের ছেলে হায়দার শেখ।
ক্ষতিগ্রস্থ যুবক শরিফুল ইসলাম জানান, তিনি গোয়ালন্দ উপজেলার চর কর্ণেশন এলাকায় ৫ বছর আগে বিভিন্ন জমি মালিকদের কাছ থেকে বাৎসরিক জমি লিজ নিয়ে কলা চাষ শুরু করেন। বর্তমানে তার বাগানের পরিমান প্রায় ৪০ বিঘা। এর মধ্যে গোপাল শেখ ও হায়দার শেখদের পারিবারিক জমি রয়েছে ৮ বিঘা। চুক্তি অনুযায়ী বিঘা প্রতি তাদের বছরে ৪ হাজার টাকা করে দেই। এ বছর চলতি আশ্বিন মাস পর্যন্ত চুক্তির মেয়াদ রয়েছে। এ অবস্থায় আমাকে কিছু না জানিয়ে গোপাল শেখ, হায়দার শেখসহ অজ্ঞাত আরো ৩/৪ জন গত বুধবার সন্ধ্যা ৬ টার দিকে বাগানে প্রবেশ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে প্রায় ৩ বিঘা জমির অন্তত ১২ শ কলাগাছ কেটে ফেলে। এর মধ্যে বহু ফলবান কলাগাছ ছিল। ক্ষতির পরিমান অন্তত ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
খবর পেয়ে পরদিন বৃহস্পতিবার আমি গোপাল শেখের বাড়িতে গেলে তারা আমাকে অকথ্য গালাগাল দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। এ নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে প্রাননাশেরও হুমকি দেয়।
তিনি জানান, ৫ লাখ টাকা লোন নিয়ে তিনি চরের পতিত জমিতে কলা বাগান শুরু করি। এই ঘটনায় তার ক্ষতি পুষিয়ে উঠা খুব কষ্ট হবে। লোনের কিস্তি ঠিকমতো পরিশোধ করতে পারবেন না।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত গোপাল শেখ বলেন, আমরা দরিদ্র কৃষক। ৩ বছর আগে জমির চুক্তি শেষ হয়ে গেছে। এরপর থেকে শরিফুলকে ৩ বছর ধরে আমাদের অংশের ৩ বিঘা জমি ছেড়ে দিতে বলছি। কিন্তু না ছেড়ে উল্টো ভয়ভীতি দেখায়।এবারের বন্যায় বাগানের প্রায় সব কলাগাছ মরে গেছে। অল্প কিছু আধা মরা গাছ ছিল তা কেটে ফেলে সেখানে আমরা বেগুন-টমেটোর আবাদ করতে চাচ্ছি।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য আ. গফুর খাঁন বলেন, ওই জমি নিয়ে মিমাংসার জন্য বারবার কলাচাষী শরিফুল ডাকা হলেও সে শালিশে হাজির হয় না।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আল তায়াবীর জানান, এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ যুবক শরিফুল ইসলাম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সম্প্রতি সংবাদ