ব্রেকিং নিউজ

দৌলতদিয়ায় পদ্মার ভাঙ্গনে ঝুঁকিতে ফেরিঘাট ও কয়েকশ পরিবার

editor ৭ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ সারাদেশ

আবুল হোসেন,গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি:২৩ সেপ্টেম্বর-২০২০,বুধবার।
তৃতীয় দফায় পানি বৃদ্ধির কারণে পদ্মা নদীতে আবারো তীব্র স্রোতের সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে গুরুত্বপূর্ণ দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটের ২৫০ মিটার এলাকায় নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে।
ভাঙনের কারণে হুমকির মুখে পড়েছে ২ ও ৩ নম্বর ফেরি ঘাট। ভাঙন ঠেকাতে ইতোমধ্যে ফেরিঘাট এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলা হলেও সে কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
সরেজমিন দেখা যায়, দৌলতদিয়ার লঞ্চ ঘাট থেকে ৩নম্বর ফেরি ঘাট প্রর্যন্ত প্রায় ৫৫০ মিটার এলাকার বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ২ নম্বর থেকে ৩ নম্বর ফেরি ঘাটের প্রায় ২০০ মিটার এলাকার কয়েক স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে বেশি।নদী পাড়ের ঢাল জুড়ে জিও ব্যাগ ফেলা হলেও সেখানে পাড়ের ওপর কোন ব্যাগ ফেলা হয় নি। পানি বেড়ে উপরে ওঠায় এখন সেখানে উপর থেকে পাড় ভাঙ্গতে শুরু করেছে। ২ নম্বর ঘাটের এ্যাপ্রোচ সড়কের মাথার অংশের অনেকটা ইতিমধ্যে বিলীন হয়েছে।
এখানে ভাঙন ঠেকাতে সড়কের মাথায় ইটের আদলা ভর্তি বস্তা এবং বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হলেও তা বিলীন হয়েছে। ঘাটের এক পাশে বড় বড় কার্গো জাহাজ হতে পণ্য নামাতে দেখা যায়। বলগেটগুলোর ঘর্ষণে তলদেশের জিওব্যাগ ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে ঘাটটিতে ভাঙন দেখা দিয়েছে বলে অনেকেই অভিযোগ করেন।
ভাঙ্গনের ঝুকিতে থাকা সিদ্দিক কাজীর পাড়ার জাহাঙ্গীর শেখ বলেন, গত বছর ১ নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় ভাঙনে ভিটেমাটি বিলীন হলে ৩ নম্বর ফেরি ঘাটের কাছে এসে ঘর তোলেন। এবছর এখানেও ভাঙন দেখা দিয়েছে। এখন কোথায় যাব তা ভেবে পাচ্ছি না। তাদের মতো এখানকার শতাধিক পরিবার এ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
স্থানীয় ২নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য আশরাফুল ইসলাম বলেন, লঞ্চ ঘাট থেকে ৩নম্বর ফেরিঘাট পর্যন্ত প্রতি বছর ভাঙন দেখা দেয়। এবারও লঞ্চ ঘাট থেকে ১ নম্বর ফেরিঘাট এলাকার মজিদ শেখের পাড়ার প্রায় ৫০০ পরিবার এবং ২-৩ নম্বর ফেরি ঘাট এলাকার সিদ্দিক কাজী পাড়ার প্রায় ৩০০ পরিবার ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে দ্রæত পদক্ষেপ না নিলে বড় ধরনের বিপর্যয় হতে পারে। বিষয়টি রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলী সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।
বিআইডবিøউটিসি আরিচা কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) মেরিন আব্দুস সাত্তার বলেন, প্রতি বছর সাধারণত সেপ্টেম্বর মাসে ফেরিঘাট এলাকায় ভাঙন দেখা দেয়। জরুরী ভিত্তিতে ভাঙন ঠেকানো না হলে গত বছরের মতো এবারো ফেরিঘাট বিলিন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিআইডবিøউটিএ’র আরিচা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী নিজাম উদ্দীন পাঠান বলেন, বন্যার আগ পর্যন্ত লঞ্চঘাট থেকে ৬ নম্বর ফেরিঘাট পর্যন্ত তারা প্রায় সাড়ে ১২ কোটি টাকা ব্যায়ে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলেছে। বন্যা পরবর্তী সময়ে লঞ্চঘাট থেকে ৩ নম্বর ফেরিঘাট পর্যন্ত প্রায় ৫৫০ মিটার এলাকার বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ২৫০ মিটার এলাকা অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। জরুরী ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে উর্দ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পেলেই কাজ শুরু করা হবে।

 

সম্প্রতি সংবাদ