ব্রেকিং নিউজ

চৌহালিতে যমুনার ভাঙ্গণে বিলিন গ্রামের পর গ্রাম

editor ৮ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ সারাদেশ

   মো: মুমীদুজ্জামান জাহান, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি :০৩ অক্টোবর-২০২০
সিরাজগঞ্জের চৌহালি উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে যমুনা নদীর ভাঙ্গণে বিলিন হচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম। ইউনিয়ন গুলি হল,বাঘুটিয়া,খাসপুখুরিয়া,ঘোরজান,স্থল ও উমারপুর। গ্রাম গুলি হল,শাকপাল,্ উত্তর খাসপুখুরিয়া,দক্ষিণ খাসপুখুরিয়া,রেহাইপুখুরিয়া,চর নাকালিয়া,চর বিনানুই,হাটাইল,চর সলিমাবাদ,দক্ষিণ চর সলিমাবাদ,ভুতের মোড়,মেটুয়ানি,আরমাশুকা,বীরবাউনিয়া,খাসপুখুরিয়া,বাঘুটিয়া,চৌবাড়িয়া,হাপানিয়া,চর সলিমাবাদ পশ্চিমপাড়া সহ ২০টি গ্রাম। ইতোমধ্যেই এ সব গ্রামের পাঁচ শতাধিক বাড়িঘর ও ২ হাজার বিঘার ফসলি জমি যমুনা গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে পড়েছে ২ শতাধিক ঘরবাড়ি ও স্থাপনা। এ ভাঙ্গণ রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যকরি ব্যবস্থা না নেওয়ায় এলাকাবাসি ফুসে উঠেছে। তারা ভাঙ্গণ রোধে কার্যকরি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবীতে যমুনা পাড়ে মিছিল মিটিং ও মানববন্ধন করেছে। তারপরেও কর্তৃপক্ষের টনক নড়ছে না। কর্তৃপক্ষ কুম্ভুকর্ণ হয়ে ঘুমাচ্ছে। এ দিকে ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব মানুষ পথে বসে গেছে। চোখের সামনে একের পর এক ঘরবাড়ি, জমি জমাসহ বিভিন্ন স্থাপনা যমুনা গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে বীরবাউনিয়া গ্রামের সাইফুল ইসলাম,শাকপাল গ্রামের আইয়ুব আলী,খাসপুখুরিয়া গ্রামের আব্দুল মালেক,মেটুয়ানি গ্রামের গোলাম মোস্তোফা,বাঘুটিয়া গ্রামের আবু মুছা,চর সলিমাবাদ গ্রামের কামরুল ইসলাম,ঘুষুরিয়া গ্রামের সেলিম হোসেন,সম্ভুদিয়া গ্রামের সালাউদ্দিন জানান,এ বছর বর্ষা মৌসুম শুরুর পর থেকেই চৌহালি উপজেলার এ ৫টি ইউনিয়নে ব্যাপক ভাঙ্গণ শুরু হয়। এরই মধ্যে শতাধিক বাড়িঘর, ২ হাজর বিঘা ফসলি জমি নদী গর্ভে চলে গেছে। ভাঙন আতঙ্কে মানুষ বাড়িঘর সরিয়ে নিচ্ছে।
এ বিষয়ে চৌহালি উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল কাহার সিদ্দীকি, প্রায় এক যুগ ধরে চৌহালি উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের গ্রাম গুলি যমুনা নদী ভাঙ্গণের মুখে পড়েছে। গ্রাম গুলি ভাংতে ভাঙতে ক্রমশ মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। অথচ এ ভাঙ্গণ রোধে বার্যকরি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছেনা। ফলে এ সব এলাকার শা শত ঘরবাড়ি,সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন স্থাপনা ও ফসলি জমি একের পর এক যমুনা নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যাচ্ছে। এতে এ উপজেলার অন্তত ১০ হাজার মানুষ সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে। নিরুপায় হয়ে তারা আন্দোলন শুরু করেছে।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন,চৌহালির ভাঙ্গণ রোধে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ করছে। তারা এ বিষয়ে কি ব্যবস্থা নিয়েছে তা তারাই ভাল বরতে পারবে।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম বলেন, ভাঙ্গণ রোধে এখন ওই এলাকায় জিওটেক্স বালুর বস্তা ফেলার কাজ চলছে। এ ছাড়া ওই এলাকায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য সাড়ে ৬০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প জমা দেওয়া আছে। প্রকল্পটি অনুমোদন হলেই ওই এলাকায় স্থায়ী বাধ নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে। #

#

সম্প্রতি সংবাদ