ব্রেকিং নিউজ

এমসি কলেজে গণধর্ষণের দায় স্বীকার আইনুদ্দিন রাজন ও রনির

editor ৬ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ breaking জাতীয়

নিজস্ব প্রতিবেদক:০৪ অক্টোবর-২০২০,রবিবার।
এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গৃহবধূ ধর্ষণ মামলায় আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন আসামি আইনুদ্দিন, রাজন ও মাহবুবুর রহমান রনি। পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে শনিবার দুপুর ১টায় তাদের আদালতে নেওয়া হয়। আসামিদের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক জিয়াদুর রহমানের আদালতে হাজির করা হয়। জবানবন্দি আদায়ের আগে তাদের প্রত্যেককে রিফ্রেশমেন্টের জন্য প্রায় ৩ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়।

জবানবন্দি নেওয়ার জন্য রাজনকে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে, অন্য দুজনকে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুর রহমান ও শারমিন খানম নিলার আদালতে নেওয়া হয়। সেখানে আসামিরা ঘটনার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

এদিকে, গতকাল তারেক আহমদ ও মাহফুজুর রহমান নামে আরও দুই আসামিকে ওসমানী মেডিকেলে নিয়ে তাদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পুলিশ। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় পুলিশ পাহারায় তাদের সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ দুজন পুলিশের কাছে পাঁচ দিনের রিমান্ডে রয়েছেন।

এর আগে ধর্ষণ মামলায় পুলিশ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) প্রধান আসামি সাইফুর রহমান, অর্জুন লস্কর, রবিউল ইসলাম, শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, রাজন মিয়া এবং আইনুদ্দিনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে। আসামিদের ডিএনএ নমুনার সঙ্গে ধর্ষণের শিকার ওই গৃহবধূর ডিএনএ মিলিয়ে দেখা হবে। পৃষ্ঠা ২ কলাম ২

সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (গণমাধ্যম) জ্যোর্তিময় সরকার বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় পুলিশ দুজনকে ওসমানী মেডিকেলে নিয়েছে।

এসআই সোহেল রানার সাহসিকতা

সিলেট এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে নববধূকে গণধর্ষণের পর সব আলামত নষ্ট করতে চেয়েছিল অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এ লক্ষ্যে নববধূর স্বামীর গাড়িটি ছাত্রাবাসের ভিতরে আটকে রেখেছিল তারা। কিন্তু পুলিশের সাহসি এসআই সোহেল রানা কলেজ অধ্যক্ষের অনুমতির অপেক্ষা না করে ছাত্রাবাসের ভেতরে প্রবেশ করে মামলার আলামত গাড়িটি জব্দ করেন।

আসামির জবানবন্দি অনুসারে, এমসি কলেজের ছাত্রাবাসের ফটকে দাঁড়িয়ে পুলিশের ভেতরে প্রবেশের জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষের অনুমতির অপেক্ষার সুযোগ নিয়ে গাড়িটি ধুয়ে ধর্ষণের আলামত নষ্ট করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। তবে সিলেট মহানগর পুলিশের শাহপরান থানার এসআই মো. সোহেল রানা এ সময় ঢুকে পড়ায় তা করতে পারেনি সাইফুর ও তার সহযোগীরা।

ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি সাইফুর রহমান ও অর্জুন লস্করের দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি থেকে পাওয়া গেছে এসব তথ্য। শুক্রবার রাতে সিলেটের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তারা এ জবানবন্দি দেয়।

জবানবন্দিতে এই দুই আসামি বলেন, তারা দুজনসহ মোট চারজন নববধূকে ছাত্রাবাসে গাড়িতেই চারবার ধর্ষণ করেছেন। এ সময় রবিউল ইসলাম ধর্ষণে সহযোগিতা করেছেন। পরে নববধূ ও তার স্বামীকে বিদায় করে ধর্ষণকান্ড আড়াল করতে গাড়ি থেকে ধর্ষণের আলামত মুছতে চেয়েছিলেন তারা, কিন্তু একজন পুলিশ ছাত্রাবাসে ঢুকে পড়ায় এটি করতে পারেননি তারা।

এ বিষয়ে শাহপরান থানার এসআই সোহেল রানা বলেন, ‘প্রত্যেকেরই মা-বোন ও বউ রয়েছেন। এরা যখন আমাকে অধ্যক্ষের দোহাই দিয়ে ভিকটিম উদ্ধার অভিযানে বাধা দিচ্ছিল, তখন আমি অধ্যক্ষের অনুমতির প্রয়োজন মনে করিনি। ওই সময়ে দায়বোধ থেকে আমি ওসি স্যারের অনুমতি নিয়ে ছাত্রাবাসের ভেতরে প্রবেশ করি ও মামলার আলামত জব্দ করি।’

উলেস্নখ্য, গত ২৫ সেপ্টেম্বর এমসি কলেজে স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার হন এক গৃহবধূ। স্বামীর কাছ থেকে ওই তরুণীকে জোর করে তুলে নিয়ে ছাত্রাবাসে ধর্ষণ করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় কলেজের সামনে তার স্বামীকে বেঁধে রাখা হয়। এ ঘটনায় ভিকটিমের স্বামী বাদী হয়ে শাহপরান থানায় মামলা করেন। মামলায় ছাত্রলীগের ছয় নেতাকর্মীসহ অজ্ঞাত আরও ২-৩ তিনজনকে আসামি করা হয়।

সম্প্রতি সংবাদ