ব্রেকিং নিউজ

দৌলতপুরে যমুনার ভাঙ্গনে তিন শতাধিক বাড়ি-ঘর নদী গর্ভে বিলীন

editor ৮ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ breaking সারাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক::০৫ অক্টোবর-২০২০,সোমবার।
প্রবল বর্ষণ ও অসময় যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে যমুনা নদীর ব্যাপক ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রায় তিন শতাধিক বাড়ি-ঘর আবাদি জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে । ভাঙ্গনের শিকার বাচামারা ইউনিয়নের কল্যানপুর,্সকিমুদ্দিনের পাড়া,হাজিপাড়া,শুকুর মোল্যার পাড়া,শেকপাড়া,চরকাটারী ইউনিয়নের কাঠালতুলি,মন্ডল পাড়া,করিম মোল্যার পাড়া,চেয়ারম্যান পাড়া, বাঘুটিয়া ইউনিয়নেরপাচুরিয়া,ইসলামপুর,বাঘুটিয়াপুড়ানপাড়া,জিয়নপুর ইউনিয়নের বড়টিয়া,আবুডাঙ্গা,লাউতারা,আমতুলীসহ ১২টি গ্রাম । ইতোমধ্যেই এ সব গ্রামের তিন শতাধিক বাড়িঘর ও ২ হাজার বিঘার ফসলি জমি যমুনা গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে পড়েছে আরো দুই শতাধিক ঘরবাড়ি ও প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ অনেক স্থাপনা। এ দিকে ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব মানুষ পথে বসে গেছে। চোখের সামনে একের পর এক ঘরবাড়ি, জমি জমাসহ বিভিন্ন স্থাপনা যমুনা গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে চরকাটারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল বারেক মন্ডল,সাবেক চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশিদ কর্মকার,ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলী হিপু,চরকাটারী সবুজ সেনা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: জহুরুল হক জানান,এবছর বর্ষার মৌসুমের শুরু পর থেকে চরকাটারী ইউনিয়নে ব্যাপক ভাঙ্গন শুরু হয়। চরকাটারী সবুজ সেনা উচ্চ বিদ্যালয়,বাজার,প্রাথমিক বিদ্যালয়,বাড়ি-ঘরসহ অনেক স্থাপনা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে । ভাঙ্গনের শিকার কয়েক শত মানুষ বাড়ি-ঘর ,জিনিষপত্র,গরু-ছাগল নিয়ে পাশ^বর্তী নাগরপুর উপজেলায় অন্য মানুষের জমি ভাড়া নিয়ে কোন রকম জীবন যাপন করছে। চরকাটারী সবুজ সেনা উচ্চ বিদ্যালয়টি নদী গর্ভে চলে যাওয়ায় প্রায় ৬/৭ ছাত্র-ছাত্রীর লেখা পড়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে বাচামারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ জানান, মাননীয় সংসদ সদস্য এ.এম নাঈমুর রহমান দুর্জয় এর নির্দেশে বাচামারা,চরকাটারী এলাকায় প্রায় কোটি টাকা জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙ্গন রোধে চেস্টা করা হয়েছে । কিন্তু নদীতে প্রবল শ্রোতে ফলে এ সব এলাকায় জিও ব্যাগ দিয়ে ভাঙ্গন ঠেকানো যাচ্ছে না । প্রতি বছর শত শত ঘরবাড়ি,সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন স্থাপনা ও ফসলি জমি একের পর এক যমুনা নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যাচ্ছে। আবার অসময় পানি বৃদ্ধির ফলে আবার ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে, গত কয়েক দিনে ভাঙ্গনের ফলে ৫০/৬০ টি বাড়ি যমুনা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। কিন্তু যমুনা নদী ভাঙ্গনে গ্রাম গুলি ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে ক্রমশ মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে।

বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: ইমরুল হাসান জানান, আমি কিছু দিন আগে ইউএনও হিসাবে যোগদান করেছি। যতটুকু জানি ওই এলাকায় মাননীয় সংসদ সদস্য এ.এম নাঈমুর রহমান দুর্জয় স্যারের নির্দেশে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙ্গণ রোধে চেস্ট করা হয়েছে । অসময়ে আবার পানি বৃদ্ধির ফলে নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে । চেয়ারম্যানদের নিকট ভাঙ্গনের তালিকা চাওয়া হয়েছে, তালিকা হাতে পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে ।

সম্প্রতি সংবাদ