ব্রেকিং নিউজ

সৈয়দপুরে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের ফলেধ্বসে গেছে পুকুরপাড়ের বাড়ির ভিত ও দেয়াল

editor ৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ সারাদেশ

শাহজাহান আলী মনন, নীলফামারী  প্রতিনিধিঃ০৬ অক্টোবর-২০২০
আবাসিক এলাকায় একটি পুকুর থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে অনেক গভীর করে কেটে বালু উত্তোলন করায় পাশের বাড়ির ভিত ধ্বসে গেছে। তিনটি ঘরের দেয়াল ও মেঝে ভেঙ্গে  বিশাল ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে। দেয়ালের ফাটল থেকে প্লাস্টার সরে গিয়ে ইটগুলো খুলে পড়ার উপক্রম হয়েছে। এতে বাড়িটি ভয়াবহ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় এ পরিস্থিতিতেই প্রাণহানির আশংকা সত্বেও বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছে ১০ জন মানুষ। এ কারনে যে কোন সময় বড় ধরনের দূর্ঘটনার আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের।
কিন্তু তারপরও বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার না পেয়ে চরম হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছে ভুক্তভোগী পরিবারটি। সে সাথে পুকুরের মালিকপক্ষের দিক থেকে নানা ধরনের হুমকির সম্মুখীন হয়ে প্রতি মুহুর্তে হয়রানী ও দুশ্চিন্তায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বাঙ্গালিপুর ইউনিয়নের বাড়াইশালপাড়া কদমতলী এলাকায় এমন ঘটনা ঘটেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুকুরটি অত্যন্ত গভীর। নিয়মানুযায়ী প্রয়োজনীয় কোন পাড় বাধানো নেই। উত্তর ও পূর্বদিকে একেবারে ফসলী জমিতে মিশে গেছে এবং পূর্ব ও দক্ষিণ পাশে বাড়ির সীমানা ঘেষেই পুকুরটি বিদ্যমান। ফলে এদিকের পাড়ও বিলিন হয়ে দূ’পাশের বাড়ির মাটিই এখন পুকুরে চলে যাওয়ার উপক্রম। পূর্বদিকের বাড়ির মালিক অবসরপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ সরকার সীমানায় নিজ উদ্যোগে মাটি ভরাট করে গাছ লাগানোয় উপরের মাটি রক্ষা পেয়েছে। কিন্তু দক্ষিণের বাড়ির মালিক ভ্যান চালক আব্দুল করিম দরিদ্র হওয়ায় মাটি দিতে না পারায় তার বাড়ির অনেকাংশ ক্ষয়ে ক্ষয়ে পুকুরে চলে গেছে। এমনকি তার টয়লেটের সেনেটারী ট্যাংকের আশেপাশের মাটি সরে গিয়ে স্লাবগুলো বেড়িয়ে পড়েছে। ফলে চরম দূর্ভোগে পড়েছে পরিবারটি। হাতে এনে পাতে খাওয়াই দূরহ হয়ে পড়া অবস্থায় ট্যাংক মেরামত করা কোনভাবেই সম্ভব হচ্ছেনা। তাই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশেই বাস করতে বাধ্য হচ্ছে।
ভুক্তভোগী আব্দুল লতিফ সরকার জানান, পুকুরের পাড় না থাকায় আমার ও প্রতিবেশীর বসত বাড়ির মাটি খসে পড়ছে পুকুরে। প্রায় বর্ষাতেই এ পরিস্থিতি প্রকট আকার ধারন করে। পুকুর মালিক মোঃ ইদ্রিস আলীকে বার বার তার পুকুরের পাড় বাধতে বলা সত্বেও তিনি বিন্দু মাত্র কর্ণপাত করেননি। বাধ্য হয়ে কয়েক বছর আগে নিজেই মাটি ভরাট করে গাছ লাগিয়েছি।
কিন্তু এ পরিস্থিতিতেও পুকুর থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু তোলায় নিচে অনেক গভীর হয়েছে। ফলে পানির মধ্যেই দিন দিন বালু সরে গিয়ে আশেপাশের উচু বসতভিটার ভূগর্ভস্থ অংশের মাটি ক্রমেই ক্ষয়ে ক্ষয়ে পুকুরে চলে গেছে। একারনে আমার বাড়ির নিচের দিকে হয়তো খনির মত ফাকা অংশ বা গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
 গত ২৬ সেপ্টেম্বর শনিবার সৈয়দপুর সহ রংপুর বিভাগে শতবর্ষের রেকর্ড বৃষ্টি পাতের ফলে ধ্বস নামে। এতে আমার টিনসেড আধাপাকা বাড়ির ভিত এর নিচের মাটি সরে গিয়ে ধ্বসে পড়েছে। পাশে গাছ থাকায় পুকুরের ভিতরে হেলে না গেলেও তিনটি ঘরের দেয়াল ও মেঝে ভেঙে বিশালাকার ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে। এতে আমি চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি এবং পরিবার পরিজন নিয়ে জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় পড়েছি। বড় ধরনের দূর্ঘটনার আশংকা থাকলেও নিরুপায় হয়ে এ অবস্থাতেও ঝুঁকিপূর্ণ ঘরেই থাকতে হচ্ছে।
ব্যপারটা পুকুর মালিককে জানালে তিনি কোন সমাধানতো দূরে থাক উল্টো দোষারোপ করে বলছেন পুকুরপাড়ের বাড়ি কেনার সময় হুশ ছিলনা। বাড়িটা আমাদের নেয়ার কথা ছিল, কিন্তু আমাদের না জানিয়েই তলে তলে নিয়েছেন। এখন মজা বোঝেন। আমরা কিছুই করতে পারবোনা।
এমনকি প্রতিকার চেয়ে মেম্বার চেয়ারম্যান ও থানায় জানানোয় এখন তারা রাস্তা দিয়ে চলতে দিবেনা বা এখান থেকে উচ্ছেদ করবে বলে নানা ভাবে হুমকি দিচ্ছে।
তারা স্থানীয় ও প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে না পারায় দিন দিন সকলের সাথে অনাচার করে যাচ্চেন। বাড়িটি কেনার পর থেকে বিগত ১১ বছর যাবত তারা নানাভাবে হয়রানী করে চলেছে।
এদিকে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসন কোন সুরাহা না করায় তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এবং প্রকাশ্যেই মামলায় জড়ানোসহ প্রাণনাশেরও হুমকি দিচ্ছে। ফলে হয়রানী ও হতাশার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছি। তিনি এ ব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সহযোগীতা কামনা করেন।
তিনি বলেন, বাড়ি যে পরিমান ক্ষতি হয়েছে তাতে এখন মেরামত করতে গেলে প্রায় ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা খরচ হবে। এমূহূর্তে এত টাকা ব্যয় করার মত সামর্থ্য আমার নেই। পেনশনের টাকায় কোনরকম জীবন নির্বাহ করি। কেউ সহযোগীতা না করলে চরম দূরাবস্থায় পড়বো আমরা।
বাঙ্গালিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শ্রী প্রণোবেশ চন্দ্র বাগচী বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। পুকুরের কারনে বাড়িটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিষয়টি সমাধানে চেষ্টা করছি। দুই একদিনের মধ্যে উভয়পক্ষ কে নিয়ে বসে সুরাহা করা হবে। (ছবি আছে)
শাহজাহান আলী মনন
সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি
মোবাইল – ০১৭৭৩০২০২১৬
তারিখ – ০৪/১০/২০২০ ইং

সম্প্রতি সংবাদ