ব্রেকিং নিউজ

মানিকগঞ্জে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ : রং তুলির কাজে মহাব্যস্ত শিল্পীরা

editor ৮ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ সারাদেশ

রামপ্রসাদ সরকার দীপু ,স্টাফ রিপোটার:০৭ অক্টোবর-২০২০
আগামী ২২ অক্টোবর থেকে বাঙ্গালী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হবে। জেলার ৭টি উপজেলার বিভিন্ন মন্ডপে প্রতিমা তৈরীতে ব্যস্ত শিল্পীরা। এবার করোনা প্রভাব পড়েছে দুর্গাপূজাতে। ফলে মানিকগঞ্জে পূজার সংখ্যা কমে গেছে। সামাজিক নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধিমেনে সকল প্রকার কার্যক্রম চলছে প্রতিটি মন্দিরে।
পঞ্জিকা মতে, এবার দুর্গাদেবীর দোলায় আগমন এবং গজে গমন। শরৎকালে দেবতাদের হয়ে অসুরকে ধ্বংস করার লক্ষে পৃথিবীতে দুর্গার আগমন ঘটে। শরৎকালে দেবীর এ পুজাকে বলা হয় অকাল বোধন। বিভিন্ন মন্দির গুলোতে শিল্পীরা ফরমায়েশ অনুযায়ী প্রতিমা তৈরির কাজে মহাব্যস্ত। প্রতিমা কাঠামোতে খড় এবং মাটি লাগানোর কাজ শেষ। রং এবং তুলির কাজ চলছে। প্রতিমার চোখ, হাতের আঙ্গুল, মুখমন্ডল, তৈরিসহ প্রতিটি কাজের জন্য ভিন্ন কারিগর রাতদিন নিরলশ পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। রং এবং তুলির ছোয়ায় প্রতিমার রুপ ও সৌন্দয্য আনার কাজ নিয়ে শিল্পীরা মহাব্যস্ত । এবার পূজার সংখ্যা কমে যাবার ফলে তাদের আয় কমে গেছে। দেশে করোনা ভাইরাস বিস্তার করায় মানিকগঞ্জে কৃর্তন এবং মার্চ মাসে বাসন্তি পূজাসহ কোন ধরনের অনুষ্ঠান হয়নি। এ শিল্পকে বাঁচাতে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রতিমা শিল্পের সাথে জড়িত লোকজন।

মনিকগঞ্জের জেলা সদরে ৯৭টি, ঘিওরে ৭৪টি, শিবালয়ে ৮১টি, দৌলতপুরে ৩৮টি, সিংগাইর পৌরসভায় ১১টি, সিংগাইর সদরে ৬২টি, হরিরামপুরে ৫৯টি, সাটুরিয়া ৫৭টি সহ মোট ৪৬৮টি মন্দিরে দুর্গা পুজা অনুষ্ঠিত হবে। তবে গত বছর ৫০১টি মন্দিরে পুজা অনুষ্ঠিত হয়। মানিকগঞ্জের বিভিন্ন মন্দিরে এবার পূজা কমেছে ৩৩টি। ষষ্ঠীতে দেবীর আমন্ত্রন ও অধিবাস,সপ্তমীতে আগমন, অষ্টমীতে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়। সব নারীর মধ্যেই দেবী দুর্গার শক্তি আছে। তাই নারীদের মায়ের দৃষ্টিকোন থেকে একজন কুমারীকে দেবীর আসনে বসিয়ে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়। অষ্টমী ও নবমী তিথির সন্ধি স্থলে সন্ধি পূজা করা হয়। শেষে দশমী পূজার মাধ্যমে দেবীদুর্গাকে বিদায় জানানো হয়। ঘিওর লোকনাথ মন্দিরে প্রতীমা তৈরির কারিগর অবিণাশ পাল জানান, এ সময়ে তাদের দম ফেলার সময় থাকেনা। তবে করোনা ভাইরাসের কারনে অন্য চিত্র। প্রায় ৬ মাস ধরে কাজকর্ম নেই বললেই চলে। ভবিষ্যত খুবই অন্ধকার দেখছি। তিনি সরকারিভাবে সহযোগিতা চেয়েছেন। প্রতি বছর অনেক প্রতীমা তৈরি করলেও এবার তিনি ৩টি প্রতিমা গড়ার কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। মাটির ভাস্কর্য্য তৈরিতে সে খুবই পারদর্শী। নরম কাঁদা মাটি দিয়ে শৈল্পিক ছোঁয়ায় তিল তিল করে তুলেছেন দশভুজ্য দুর্গাদেবীর প্রতিমা। একই সঙ্গে গনেশ,কার্তিকসহ অন্যান্য প্রতিমার। অবিণাশ পাল দুর্গাদেবীর মুখাকৃতি রাগান্বিত করলেও কৃতিম হাঁসির মাঝে তা ফুঁটিয়ে তুলেছেন। ১০ হাতে দুর্গা ত্রিসূল দিয়ে বধ করছেন যমদুত অশুরকে। আর ১০ হাতে দুর্গার ১০ চক্র লীলা ভঙ্গীতে নতুনন্ত আনার চেষ্টা করছেন শিল্পীরা। লীলা এবং গুনের বিষয়টি অত্যন্ত নিখঁতভাবে ধরা হয়েছে। শরতের ঋতুতে এবার পৃথিবী শান্তিময় থাকবে। অভব অনটন দুরে থাকবে। সমস্ত ক্ষেত্রে সাফলতা আসতে। ফলন ভাল হবে। এ যেন শষ্যপূর্ণা বসুন্ধরা। শরৎকালে দুর্গোৎসবে আনন্দ এখন থেকেই ভক্তরা প্রহর গুনছে সেই মাহেন্দ্রক্ষনের। ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের মনে সাজ সাজ রব। এ সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের ছেলে মেয়েরা মাতৃত্ব বন্দনায় অপার মহিমায় সাঁজে। বিধাতার অপার মহিমায় এ ঋতুতে বিলে ঝিলে ফোঁটে লালপদ্ম ও শাপলা। বিস্তৃর্ণ আকাশে চাঁদের হাঁসির সাথে সমস্ত আনন্দ উল্লাস একাকার হয়ে যায়। শরৎকালে রঙ্গীন পৃথিবীতে দুর্গা দেবীর নতুন আবির্ভাব। সাদাকাশ ফুলে প্রকৃতি যেন সবার মন রাঙ্গিয়ে দেয়। এ যেন শস্যপূর্ণা বসুন্ধরা। তবে আর কয়েক দিনের মধ্যেই দুর্গাদেবী উঠবে বেদীতে। বাজবে ঢাক, ঢোল, শঙ্খ আর সানাই। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে দেবীদুর্গা মহাশক্তির প্রতীক। সেই মহাশক্তিকেই তারা প্রতিমার মধ্য দিয়ে চিম্ময়ী ব্রম্বাশক্তিকে দর্শন করে। এবার পূজা মন্ডপগুলোতে দর্শনার্থীদের কমপক্ষে তিনফুট দুরে শাররীক দুরত্ব মেনে প্রতিমা দর্শন করতে হবে। দর্শনার্থী ও পুরোহিতকে বাধ্যতা মুলোকভাবে মাস্ক পরিধান করতে হবে। আগত দর্শনার্থীদের জিবানুমুক্ত করতে প্রয়োজনীয় হ্যান্ডস্যানিটাইজার ও সাবানের ব্যবস্থা করতে হবে। সামাজিক দুরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধিসহ ২৬টি দফা মেনে সকল প্রকার কার্যক্রম চালাতে ইতোমধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জেলা পূজা উৎযাপন পরিষদের সাধারন সম্পাদক অনির্বান পাল জানান,পূজা উৎযাপন কমিটির উদ্যোগে একটি টিম সার্বক্ষনিক ৭টি উপজেলার বিভিন্ন মন্দিরগুলো পরিদর্শন করবে। ইতোমধ্যে আমরা ৭টি উপজেলার মন্দিরের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করেছি। তবে এবার ৪৬৮টি মন্দিরে পূজা অনুষ্ঠিত হবে।

মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীম জানান,শারদীয় দুর্গোৎসবে আইন শৃঙ্খলা সুন্দর ও স্বাভাবিক রাখার জন্য প্রতিটি মন্দিরে পুলিশ,আনসার মোতায়ন করা হবে। পুলিশ , আনসার, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সকলের সাথে পর্যায়ক্রমে মিটিং করা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিকতা মেনে মন্দিরগুলোতে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মোবাইল টিম সার্বক্ষনিক মন্দিরগুলো পরিদর্শন করবে। শহরের এবং উপজেলার সব মন্দিরগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক এস. এম ফেরদৌস জানান, করোনা ভাইরাসের কারনে আমাদের সবাইকে সামাজিক নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধিমেনে সকল প্রকার কার্যক্রম চালাতে হবে। উচ্চশব্দে মাইক ও কোন ধরনের গনজমায়েত এবং মেলা বসানো যাবেনা। মোবাইল টিম সার্বক্ষনিক প্রতিটি উপজেলা পর্যবেক্ষন করবে। রাত ৮ টার মধ্যে প্রতিমা বিসর্জন এবং মেলা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ একটি দেশ। আবহমানকাল থেকে আমাদের এ দেশে হিন্দু, মুসলমান বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের লোকজন মিলে মিশে বসবাস করে। কাজেই দুর্গা পূজাটি সার্বজনীন। আসুন আমরা সকলেই সংঘাত সংঘর্ষ সহ সমস্ত খারাপ কিছু পরিহার করে মানুষের জন্য একটি শান্তিপূর্ন পৃথিবী গড়ে তুলি।

সম্প্রতি সংবাদ