এ বছর এইচএসসিতে পাস করবে সবাই জেএসসি-এসএসসির ফলে মূল্যায়ন আগামী ডিসেম্বরে ফল প্রকাশ

editor ১৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ breaking জাতীয়

কালের কাগজ ডেস্ক:০৭ অক্টোবর-২০২০
করোনার সংক্রমণ এড়াতে ২০২০ সালে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সরাসরি না নিয়ে ভিন্ন পদ্ধতিতে মূল্যায়ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগের দুটি পাবলিক পরীক্ষা জেএসসি-এসএসসি ও সমমানের ফলাফলের গড় অনুসারে এইচএসসির ফল নির্ধারণ করা হবে। আর এ পরীক্ষায় পাস করানো হবে সব শিক্ষার্থীকেই। সে জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের সমন্বয়ে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি করা হয়েছে। কমিটির সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে ফল তৈরি করে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকাশ করবে শিক্ষা বোর্ডগুলো।

গতকাল বুধবার দুপুরে ‘২০২০ সালের এইচএসসি পরীক্ষা’ নিয়ে অনলাইনে ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। এ সময় মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, মন্ত্রণালয়ের দুই সচিব, বোর্ড চেয়ারম্যানরা যুক্ত ছিলেন। মূল্যায়নে জেএসসি এবং এসএসসির কোনটি থেকে কত শতাংশ নম্বর নেওয়া হবে সেটি পরামর্শক কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, মূল্যায়নের জন্য জেএসসি এবং এসএসসির ফল বিবেচনায় নেওয়া হবে। ফলের সার্বিক মূল্যায়নের বিষয়ে আমরা একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছি। এ কমিটিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান, যিনি সব বোর্ডের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন, তিনি এ পরামর্শক কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে থাকবেন। কমিটিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষা অধিদপ্তর এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের একজন করে প্রতিনিধি এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান থাকবেন।

মন্ত্রী বলেন, জানুয়ারি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি শুরু হতে পারে সে জন্য ডিসেম্বরের মধ্যে ফল প্রকাশের চেষ্টা করব। এইচএসসিতে যারা বিভাগ পরিবর্তন করেছে তারা মনে করতে পারে যে, জেএসসি এবং এসএসসি পরীক্ষার ফলের ওপর মূল্যায়ন করলে তাদের মূল্যায়ন সঠিক হবে না? আরও অনেক বিষয় আসতে পারে। সব বিষয় মূল্যায়ন কমিটি দেখবে। গড় মূল্যায়নে ভালো প্রস্তুতি ছিল, এমন পরীক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে কি না- এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ‘অসুস্থতার কারণে হোক বা অন্য কোনো কারণে হোক তার পরীক্ষাটা ভালো নাও হতে পারত। হতে কী পারে, কী হতে পারত সেরকম অনেক প্রশ্ন থাকতেই পারে। সেগুলো বিবেচনায় নেওয়ার সুযোগ নেই। কারণ আমরা একটি অস্বাভাবিক সময় পার করছি। আমাদের কাছে দুটি পাবলিক পরীক্ষার ফল আছে। এর বাইরে যদি অন্য কোনো ধরনের মূল্যায়নে যেতে হয়, সেটি প্রায় ১৪ লাখ পরীক্ষার্থী নিয়ে এই মুহূর্তে, এই পরিস্থিতিতে যাওয়া সম্ভব নয়। আবার টেস্ট পরীক্ষার ফলাফল মূল্যায়নে নেব কি না প্রশ্ন করতে পারেন। সেখানেও তো অনেক ধরনের সমস্যা আছে।’ ‘এই মুহূর্তে প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সেই ফল নিতে গেলে সেখানেও নানা ধরনের জটিলতার উদ্ভব হতে পারে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পদ্ধতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমরা তো আশা করছি, এবার সমন্বিত পদ্ধতিতেই সব ধরনের বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিতে পারব। সেই পরীক্ষাগুলো কীভাবে হবে সেটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আলোচনা করেই এবং তখনকার করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।’

অনিয়মিত সাড়ে তিন লাখ পরীক্ষার্থীর কপাল খুলল

গত বছর এক থেকে সর্বোচ্চ দুই বিষয়ে (চারটি পত্র) ফেল করা পরীক্ষার্থীদের কপাল খুলল। অর্থাৎ গতবার যারা এক বা দুই বিষয়ে ফেল করেছে তাদেরও জেএসসি ও এসএসসির ওই বিষয়ের ফলের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গতবার এইচএসসি পরীক্ষায় ১৩ লাখ ৩৬ হাজার ৬২৯ জন অংশ নিয়ে পাস করে ৯ লাখ ৮৮ হাজার ১৭২ জন। সেই হিসাবে তিন লাখ ৪৮ হাজার ৪৫৭ জন পরীক্ষার্থী, যারা এবার আর কোনো পরীক্ষায় অংশ না নিয়েও উচ্চ মাধ্যমিকের সনদ পাবেন।

পরীক্ষা না নেওয়ার ৭ যুক্তি দিলেন শিক্ষামন্ত্রী

করোনা পরিস্থিতিতে পরীক্ষা না নেওয়ার জন্য বেশ কয়েকটি যুক্তি দেখিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। এ পরীক্ষাটি একজন শিক্ষার্থীর জীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তার শিক্ষা, শিখন কার্যক্রম কোন অবস্থায় আছে সেটা যাচাই, দেশে বা বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ এবং তার কর্মজীবনে প্রবেশের মানদন্ড এটি। পরীক্ষাটি নিতে বিকল্প অনেক পদ্ধতি ছিল আমাদের সামনে; কিন্তু কোনোটিই নেওয়া সম্ভব হয়নি। মন্ত্রী বলেন, ‘বিষয় কমিয়ে কিংবা সিলেবাস কমিয়ে হয়তো পরীক্ষা নেওয়া যেত; কিন্তু উচ্চ মাধ্যমিকের প্রতিটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। যে বিষয় কমিয়ে পরীক্ষা নেব, সে বিষয়টিতেও কোনো পরীক্ষার্থীর ভালো প্রস্তুতি ছিল। কিন্তু পরীক্ষা শুরুর পর পরীক্ষার্থী বা তার পরিবারের কেউ আক্রান্ত হলে কী হবে? বিশ্বের অন্যান্য দেশে কী করা হয়েছে তা আমরা দেখেছি। ভারত, চীন, হংকংসহ বেশিরভাগ দেশে পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে বা এখনো স্থগিত রয়েছে। পরীক্ষার্থীদের জীবনের নিরাপত্তা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় একটু ভিন্ন পদ্ধতিতে মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। মন্ত্রী বলেন, করোনা পরিস্থিতি কখন স্বাভাবিক হবে এর কোনো নিশ্চয়তা নেই। এটা সবাই বুঝতে পারছি। পরীক্ষা চলাকালে সৃষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকি কীভাবে এড়ানো বা হ্রাস করা যায়, এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে কাটছাঁট করে পরীক্ষা নিলেও ৩০ থেকে ৩২ কর্মদিবসের প্রয়োজন। প্রতি বেঞ্চে দুজনের জায়গা একজন বসালে দুই হাজার ৫৭৯টি কেন্দ্রের জায়গায় প্রায় দ্বিগুণ কেন্দ্র প্রস্তুত করতে হবে। কেন্দ্র বাড়লে কেন্দ্রভিত্তিক প্রশ্নপত্র প্যাকেট করতে হবে, এতে আগের প্যাকেট ভেঙে নতুন প্যাকেট করার কোনো সুযোগ নেই। এছাড়া কেন্দ্র দ্বিগুণ করতে হলে প্রশাসনিক জনবল দ্বিগুণ করতে হবে। শুধু আমাদের জনবল নয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের জনবল দ্বিগুণ করার প্রয়োজন হবে। এসব বিষয় পরীক্ষা না নেওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে বলে মন্ত্রী জানান।

সম্প্রতি সংবাদ