ব্রেকিং নিউজ

ঘিওরের আশ্রয়ন প্রকল্পটি নানা সমস্যায় জর্জরিত প্রশাসনের নজরদারী প্রয়োজন

editor ১১ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ সারাদেশ

রামপ্রসাদ সরকার দীপু ষ্টাফ রিপোর্টার :০৯ অক্টোবর-২০২০
মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার মাইলাগী আশ্রয়ন প্রকল্পটি শুষ্ট রক্ষনাবেক্ষনের অভাবে সরকারের লাখ-লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত প্রকল্পের অধিকাংশ ঘড়গুলো ধ্বংসের দারপ্রান্তে। দীর্ঘ ১৫ বছর যাবৎ সংস্কার না করার দরুন অধিকাংশ ঘড়গুলো ব্যবহারে অযোগ্য হয়ে পরেছে। নদীর তীরবর্তী হওয়ায ঝড় বৃষ্টির সময় তাদের আতংক বেড়ে যায়। অধিকাংশ ঘড়গুলো দিয়ে বৃষ্টির সময় পানি পরে। টয়লেট, লেট্রিন ও নলকুপগুলো ব্যবহারের একেবারে অযোগ্য। প্রসাবখানা নেই বললেই চলে। যত্রতত্র নোংরা পরিবেশ এখানে প্রায় ২ শতাধিকঅসহায় দরিদ্র লোকজন বসবাস করে। অধিকাংশ পরিবারের লোকজন অভাব অনটন,দুঃখ কষ্ট আর দারিদ্রের কষাঘাতে বিপর্যস্থ হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।
জানা গেছে, ২০০৪-০৫ অর্থ বছরে ঘিওর উপজেলা পুরাতন ধলেশ^রী নদীর পাশে মাইলাগী গ্রামে ১২৭ শতাংশ জমির উপরে সুন্দর মনোরম পরিবেশে আশ্রয়ন প্রকল্পটি নির্মান করা হয়। বিভিন্ন এলাকার ছিন্নমূল, হতদরিদ্র ভ’মিহীন লোকজনের জন্য ৮টি ব্যারাক নির্মান করা হয়। প্রায় ২ শতাধিক লোকজন প্রথমে বসবাস শুরু করে। ইতোমধ্যে ১৫টি ব্যারাক ধলেশ^রী নদীতে বিলিন হয়ে গেছে। ৩টি ব্যারাকে বর্তমানে ২৮টি কক্ষ আছে। এখানে ১৭০ থেকে ১৮০ জন লোকজন বসবাস করে। ৫টি পরিবারের জন্য ১টি টয়লেট, ১টি ল্যাট্রিন নির্মান করা হয়। অধিকাংশ টয়লেটগুলো ব্যবহারে অযোগ্য হয়ে পরেছে। শুরুতে ২৮টি টিউবওয়েল দেওয়া হয় । বর্তমানে ৩টি টিউবওয়েল ব্যবহার করা যায়। বাকিগুলো ব্যবহারের অযোগ্য। এ ছাড়া ময়লা,আর্বজনায় ও দুর্গন্ধ থাকায় বর্তমানে এগুলো ব্যবহারের একে বারেই অযোগ্য। কর্মদাক্ত শ্যাতশ্যাতে জায়গায় নলকুপ থাকায় পানি পান করাও নিরাপদ নয়। প্রসাবখানা নেই বললেই চলে। ৫টি ব্যারাকের লোকজন অন্যত্র চলে গেছে। বিশুদ্ধ পানি,টয়লেট, প্রসাবখানাসহ নূন্যতম নাগরিক সুযোগ সুবিধা নেই। শুধু মাত্র মাথা গোজার ঠাই হিসাবে অনেক পরিবার অনেকে বসবাস করছে। তবে এখানকার লোকজনের জন্য কর্মসংস্থানমুখী কর্মসূচি হাতে নেয়া হলে লোকজনের দুঃখ দুর্দশা কমে যাবে। আশ্রয়ন প্রকল্পগুলোতে বসবাসরত লোকজনের বয়স্কভাতা, বিধবাভাতা, ভিজিডি কার্ড এবং কি ১০ টাকা কেজি দরের চালের কার্ডও পর্যাপ্ত নেই। হতদরিদ্র অধিকাংশ পরিবারগুলো অন্যবাড়িতে কাজ করে। আবার অনেকে রাজমিস্ত্রী ও মাটি কেটে জীবন যাপন করে।
আশ্রয়ন প্রকল্পের সভাপতি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আমাদের আশ্রয়ন প্রকল্পে প্রায় ২ শতাধিক লোকজন বসবাস করে। প্রতি বছর ধলেশ^রী নদীর ভাঙ্গনে আমরা আর্তকে থাকি। বর্তমানে প্রতিটি ব্যারাকের রুমগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ। বৃষ্টির সময় পানি পরে। অধিকাংশ টিউবওয়েল, প্রসাবখানা ব্যবহারের একেবাড়েই অযোগ্য। আমাদের এখানে বসবাসরত লোকজনের খবর কেউ রাখেনা বললেই চলে ।
ঘিওর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ অহিদুল ইসলাম টুটুল জানান আশ্রয়ন প্রকল্পটি বর্তমানে সংস্কার করা জরুরী প্রয়োজন। কিন্তু বরাদ্দ না আসায় এখানে কোন ধরনের কাজ করা যাচ্ছেনা । তবে আমার এখানে কোন কিছু আসলে আমি তাদের সাহায়্য এবং সহযোগিতা করে থাকি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আইরিন আক্তার জানান, আমি আশ্রয়ন প্রকল্পগুলো সরেজমিন পরিদর্শন করেছি। তবে ব্যবহারের ঘড়গুলোর অবস্থা খুববই খারাপ। মেরামতের জন্য ইতোমধ্যে আমাদের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কে জানিয়েছি। উঠান বৈঠক করে বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সরকারি বরাদ্দ আসলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে তিনি জানান।
এলাকার অভিজ্ঞ মহল জরুরি ভিত্তিত্বে আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘড়সহ সকল প্রকার মেরামত কাজের জন্য প্রধানমন্ত্রীর জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করছেন্

সম্প্রতি সংবাদ