ব্রেকিং নিউজ

বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের নির্মাণ কাজ শেষ না হতেই খানাখন্দে ভরা

editor ৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ সারাদেশ

মুক্তার হাসান, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি ঃ১১ অক্টোবর-২০২০,রবিবার।

বঙ্গবন্ধুসেতু-ঢাকা মহাসড়কে জয়দেবপুর থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত চারলেন প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। এরমধ্যেই বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ ও ঢেউয়ের সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে মহাসড়কে যানবাহন, যাত্রী ও পথচারীদের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। কর্তৃপক্ষ কোন রকমে জোড়াতালি দিয়ে সংস্কার করায় স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহনের শ্রমিক, পথচারী ও যাত্রীরা। জানাগেছে, ভ‚মি জটিলতার কারণে গোড়াই ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে যানবাহন চলাচলের সময় গোড়াই বাসস্ট্যান্ড এলাকায় প্রায় ৪০০গজ সড়কে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়। এ বছর এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে অতিবৃষ্টির কারণে নির্মাণাধীন মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ ও ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়েছে। টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্র জানায়, জনসাধারণের দুর্ভোগ লাঘবে সরকার যমুনা নদীর ওপর বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণ করে। ১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধুসেতু উদ্বোধনের পর থেকে এ মহাসড়কে টাঙ্গাইল জেলাসহ প্রায় ২৬টি জেলার যানবাহন চলাচল করে। যানবাহনের চাপ প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাওয়ায় মাহাসড়টি যানজটের মহাসড়কে পরিণত হয়। যাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘবে জয়দেবপুর-চন্দ্রা-টাঙ্গাইল-এলেঙ্গা পর্যন্ত ৭০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীত করার প্রকল্প গ্রহন করা হয়। ২০১৩ সালে একনেক সভায় অনুমোদিত হয়ে ২০১৬ সালে কাজ শুরু হয়। সড়কটি প্রথমে চার লেনে উন্নীত করণের কাজ শুরু হলেও পরবর্তীতে মহাসড়কটিতে ৬ লেনের কাজের অনুমোদন দেয়া হয়। মহাসড়কে ১৩টি আন্ডারপাস ও ৭টি ফ্লাইওভার রয়েছে। যার নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ হাজার ৯০০কোটি টাকা। ভূমি অধিগ্রহণসহ প্রতি কিলোমিটারের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৪ কোটি টাকারও বেশি। মহাসড়কটি চার প্যাকেজে উন্নীত করণের কাজ চলছে। প্রতিটি প্যাকেজের জন্য আলাদা আলাদা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। প্যাকেজ-১ জয়দেবপুর থেকে কালিয়াকৈর পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার। এ অংশের নির্মাণ কাজ করছেন স্প্রেকট্রা নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্যাকেজ-২ কালিয়াকৈর থেকে মির্জাপুরের কুরণী পর্যন্ত ১৮ কিলোমিটার। এ অংশের নির্মাণ কাজ করছে আব্দুল মোমেন লি. ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। প্যাকেজ-৩ কুরণী থেকে টাঙ্গাইল পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার। এ অংশের কাজ করছে দক্ষিণ কোরিয়ার সামহোয়ান ও বাংলাদেশের মীর আকতার লি. ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। প্যাকেজ-৪ টাঙ্গাইল থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার। এ অংশের কাজ করছে ঢাকার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ডিয়েনকো লিমিটেড। বর্তমানে সড়কের নির্মাণ কাজ ৮৩ ভাগ শেষ হয়েছে বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে। সরেজমিনে রোববার (১১ অক্টোবর) মহাসড়কের টাঙ্গাইল শহর বাইপাস রাবনা, মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই শিল্পাঞ্চলের সোহাগপাড়া ও নাজিরপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কর্তৃপক্ষ খানাখন্দগুলো কোন রকমে জোড়াতালি দিয়ে সংস্কার করে রেখেছে। কোন কোন স্থানে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন সংস্কার কাজ করছে। টাঙ্গাইল সদর উপজেলার রসুলপুর ও কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা এলাকায় বিটুমিন সরে গিয়ে জমাট বেঁধে ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়েছে। এসব খানাখন্দ ও ঢেউয়ের মধ্যদিয়ে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। ঢেউয়ের কারণে যানবাহন চলাচলে ঝাঁকুনির শিকার হচ্ছে এবং বৃষ্টির জমে থাকা গর্তের পানি ও পাথরকুচি যানবাহনের চাকার ঘর্ষণে পথচারীদের শরীরে গিয়ে লাগছে। ফলে যেকোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন যানবাহনের শ্রমিক, যাত্রী ও পথচারীরা। স্থানীয়রা জানায়, মহাসড়কের পাশ দিয়ে সাইড লাইন এখনও নির্মাণ সম্পন্ন হয়নি। এজন্য ঝুঁকি নিয়ে হেঁটে চলাচল করতে হয়। মহাসড়কের গর্তগুলো বৃষ্টির পানিতে ভরে যায়। ফলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সহজেই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। স্থানীয়রা আরও জানায়, মহাসড়কটি হওয়ায় তারা খুবই আনন্দিত। কিন্তু নির্মাণ চলাকালেই বিভিন্ন স্থানে ঢেউ ও গর্ত তৈরি হওয়ায় ঝুঁকির মধ্যে যানবাহন চলাচল করে থাকে। মহাসড়কে চলাচালকারী বাস চালক আব্দুর রহমান, আমজাদ হোসেন, মো. রণি, ট্রাক চালক মালেক মিয়া, আ. জব্বার, পিকআপ চালক মহসিন মিয়া সহ অনেকেই জানান, চরলেন মহাসড়কের উদ্বোধনই হয়নি- অথচ সড়কের বিভিন্ন স্থানে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে, রাস্তার পিচ(বিটুমিন) সরে গিয়ে জমাট বেঁধে ঢেউ সৃষ্টি হওয়া। ওই ঢেউয়ের কারণে অজান্তেই গাড়িতে ঝাঁকুনি লাগে। আচমকা ঝাঁকুনিতে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চারলেন প্রকল্পের সেকশন-২ প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. খোরশেদ আলম বলেন, মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ ও ছোটখাট ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়েছে। এসব ছোটখাট গর্ত সঙ্গে সঙ্গেই সংস্কার করা হয়ে থাকে। তাছাড়া সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে অবহিত করা হয়েছে। তারা ওইসব এলাকায় সংস্কার কাজ করছে।

সম্প্রতি সংবাদ