ব্রেকিং নিউজ

সৈয়দপুরে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির কার্ড আত্মসাৎ করে চাল চুরি ও কম দেয়ায় ডিলারের লাইসেন্স বাতিল

editor ১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ সারাদেশ

শাহজাহান আলী মনন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধিঃ ২২ অক্টোবর-২০২০,বৃহস্পতিবার।
সরকার কর্তৃক অসহায় ও গরীব মানুষদের জন্য চালুকৃত খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির আওতায় দেয়া ১০ টাকা কেজির চালের সুবিধাভোগীর কার্ড আত্মসাৎ করে চাল চুরি ও ওজনে কম দেয়ার ঘটনা হাতে নাতে ধরা পড়ায় ডিলারের লাইসেন্স বাতিল ও জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নে বুড়ির বাজারে।
জানা যায়, ওই ইউনিয়নের ডিলার আবু সাইদ চৌধুরী বাবু। তিনি স্থানীয় প্রভাবশালী চৌধুরী পরিবারের সদস্য ও ইউপি চেয়ারম্যানের আত্মীয় হওয়ায় প্রথম থেকেই ওজনে কম দিয়ে আসছিল। ৩০ কেজির স্থানে ২৫ থেকে ২৭ কেজি করে চাল দেয়ায় সুবিধাভোগীরা প্রতিবাদ করলেই তাদেরকে নানাভাবে হয়রানী ও অপমান করা হতো। বিশেষ করে ইউনিয়নের পশ্চিমাংশের ওয়ার্ডগুলোর কার্ডধারীদের ব্যাপকভাবে হেনস্তা করে। এনিয়ে অভিযোগ করায় অনেকের কার্ড কেড়ে নিয়ে আত্মসাৎ করেছে ডিলার।
গত ২১ অক্টোবর বুধবার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে  এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ করেন ১ নং ওয়ার্ডের বোতলাগাড়ী নাপিতপাড়ার শ্রী খোকা চন্দ্রের ছেলে অশ্বিনী চন্দ্র (কার্ড নং ৩৪৭), যতীন চন্দ্রের ছেলে রনজীৎ চন্দ্র (কার্ড নং ৩৫৪), তাতীপাড়ার আব্দুল আজিজের ছেলে মোঃ মজিদুল (কার্ড নং ৩২৮), ধুলাতিপাড়ার মোঃ জাফর আলীর ছেলে মোঃ জাহিদুল (কার্ড নং ৫৮) ও পশ্চিম হাজীপাড়ার মৃত কাছান মামুদের ছেলে আব্দুল খালেক (কার্ড নং ২৯৮)।
তারা জানান, বিগত ২০১৬ সালে আর্থিক অসচ্ছলতার কারনে ওয়ার্ড মেম্বার আব্দুল মোতালেব কার্ড করে দেয়। অক্টোবর মাসে কার্ড পেয়ে মাত্র ২ মাস চাল উত্তোলন করেছি। এরপর চাল আনতে গেলে আমাদের কার্ড বাতিল করা হয়েছে বলে কেড়ে নিয়েছে ডিলার আবু সাইদ চৌধুরী। বিষয়টি নিয়ে মেম্বারের মাধ্যমে চেয়ারম্যান আল হেলাল চৌধুরীর কাছে অভিযোগ দিলেও দীর্ঘ দিনেও তিনি কোন সুরাহা করেন নাই। এতে সুবিধা পাওয়ার উপযোগী হয়েও বঞ্চিত হয়েছি। এভাবেই কেটে গেছে ৪ বছর। সম্প্রতি জানতে পারি যে আমাদের কার্ড বহাল আছে এবং কে বা কাহারা তা দিয়ে বিগত দিনগুলোতে চাল তুলে আত্মসাৎ করেছে। ফলে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানান তারা।
এদিকে গত ১২ অক্টোবর একজন সাংবাদিক চাল দেয়ার সময় উপস্থিত হয়ে অনেকের চালের বস্তা ওজন করে কম পাওয়ায় বিষয়টি ইউএনও কে মুঠোফোনে অবগত করেন। এসময় সাংবাদিকের মোবাইলেই ডিলারের সাথে কথা বলেন ইউএনও। এতে ডিলার অভিযোগ অস্বীকার করে এবং সাংবাদিক কে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। এর প্রেক্ষিতে ওই সাংবাদিক ডিলারের অপকর্মে ভুক্তভোগীদের তথ্য সংগ্রহ করেন এবং বিষয়টি হাতে নাতে ধরতে ওতপেতে থাকেন। এরই ধারাবাহিকতায় ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ডিলার আবু সাইদ চৌধুরী চাল কম দেয়ার অভিযোগ পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নাসিম আহমেদ ও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ তৌহিদুর রহমান তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সরেজমিনে তদন্ত করে চাল কম দেয়ার সত্যতা নিশ্চিত হন এবং হাতে নাতে বিষয়টি ধরে ফেলেন।
এর প্রেক্ষিতে ডিলার লাইসেন্স বাতিল করে ডিলার আবু সাইদ চৌধুরী বাবু’র বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে প্রশাসন।
সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নাসিম আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন। চাল কম দেয়ার অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ডিলারের লাইসেন্স বাতিল ও জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। চাল আত্মসাৎ ও কার্ড কেড়ে নেয়ার কারনে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বোতলাগাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ আল হেলাল চৌধুরী বলেন, এ পর্যন্ত আমার কাছে কেউ এমন অভিযোগ নিয়ে আসেনি। ডিলারশীপ বাতিল হওয়ার বিষয়েও আমি কিছু জানিনা। তাই এ ব্যপারে আমার কোন মন্তব্য নেই। (ছবি আছে)

সম্প্রতি সংবাদ