ব্রেকিং নিউজ

মাত্র ২ বছরেই এলাকাবাসীর মন জয় করেছেসৈয়দপুরের মহিলা কাউন্সিলর সাবিয়া সুলতানা

editor ১৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ সারাদেশ

শাহজাহান আলী মনন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি :২৪ অক্টোবর-২০২০

নীলফামারীর সৈয়দপুর পৌরসভার ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের মহিলা কাউন্সিলরের মৃত্যুতে মধ্যবর্তী উপনির্বাচনে মায়ের স্থলে নির্বাচন করে প্রখম বারেই যেমন বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছিলেন সাবিয়া সুলতানা। তেমনিভাবে মাত্র ২ বছরেই মায়ের মতই এলাকাবাসীর মন জয় করতে সক্ষম হয়েছেন তার নিবেদীত প্রাণ কার্যক্রম ও আন্তরিক সহযোগিতার মাধ্যমে। ওই তিন ওয়ার্ডের ভোটার নারী-পুরুষসহ আবালবৃদ্ধবণিতা সকলের মুখে এখন তারই নাম। যখন যেখানে যার প্রয়োজন খবর পাওয়া মাত্রই তিনি ছুটে যান এবং সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন তার সাধ্য অনুযায়ী। একারণে তার প্রতি এলাকার জনগণ অত্যন্ত খুশি এবং আগামীতে আরও বিপুল পরিমানে ভোট দিয়ে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচনে প্রতিশ্র“তিবদ্ধ। কেননা বিগত দিনগুলোতে তার মা যেভাবে তাদের সার্বিক প্রয়োজনে উদার মনে এগিয়ে এসেছেন তেমন করেই সাবিয়া সুলতানাও তাদের পাশে দাড়িয়েছেন সব সময়। যা অনেক নির্বাচিত প্রতিনিধিরা ৫ বছরেও করে উঠতে পারেন না। পৌর মেয়র অধ্যক্ষ মোঃ আমজাদ হোসেন সরকারের অনুপ্রেরনায় স্বল্প সময়েই এলাকার বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি। তাই তাকে ওয়ার্ডবাসী আপন করে নিয়েছেন তাদের প্রতিনিধি হিসেবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের নতুন ভোটার ও প্রবীণ নারী ভোটারদের মাঝে যেন তিনি এখন একমাত্র ভরসার স্থল। নিজে সরকার প্রদত্ব সামাজিক নিরাপত্তা সহায়তা বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধি ও মাতৃত্বকালীন ভাতা প্রদানের জন্য তালিকা প্রণয়নের সুযোগ না পেলেও তার মায়ের করে যাওয়া কাজের ফলে এসব ভাতার কার্ডপ্রাপ্ত সুবিধাভোগীদের মাঝে যথার্থভাবে কার্ড পৌছে দেয়াসহ অর্থ উত্তোলনে যাবতীয় সহযোগিতা করেছেন তিনি। যার ফলে তার বিরুদ্ধে কার্ড ইস্যূ করা বা তালিকায় নাম অন্তর্ভূক্তিকরণের নামে অর্থ আদায়ের কোন অভিযোগ যেমন উঠেনি তেমনি নিস্বাার্থভাবে নিবেদীত প্রাণ হয়ে কাজ করায় তার প্রতি মানুষের ইতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হয়েছে। যেখানে সাবেক কাউন্সিলর রাজিয়া খাতুন মারা যাওয়ার সুযোগে অনেকে বিভিন্ন ভাতা কার্ড করে দেয়ার নামে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে এবং উপজেলা সমাজসেবা অফিসের কতিপয় দূর্নীতিবাজ কর্মচারীর সাথে যোগসাজসে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে দরিদ্র অসহায় ব্যক্তির পরিবর্তে স্বচ্ছল ও বিত্তবানদের নামে কার্ড করিয়ে দিয়ে নিজেদের পকেট ভরেছে। সেখানে সাবিয়া সুলতানা ওই অনিয়মগুলো ধরিয়ে দিয়ে এবং প্রকৃত দুস্থদের মাঝে পরিবর্তন করে কার্ড ইসূ্যুর ব্যবস্থা করে জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব পালনে জনগণের কাঙ্খিত উপমা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
এ প্রসঙ্গে ১ নং ওয়ার্ডের উত্তরা আবাসন এলাকার কয়েকজন বয়স্ক ভোটারের সাথে কথা হলে তারা জানান, সাবিয়া অনেক
অনেক সহযোগিতা করেছে আমাদের বিভিন্ন সময় ত্রাণ প্রদানের ক্ষেত্রে। বিশেষ করে করোনার সময় সে নিজে বাড়ি বাড়ি ঘুরে প্রকৃত কর্মহীন মানুষের মাঝে সরকারের বরাদ্দকৃত ও পৌর মেয়র কর্তৃক প্রদত্ব সহায়তা সঠিক ভাবে বিতরণের মাধ্যমে। তাছাড়া তিনি নিজে এসে খুজে খুজে বয়স্ক ও বিধবা ভাতার কার্ড পৌছে দিয়েছেন তালিকা অনুযায়ী।
২ নং ওয়ার্ডের তরুণ ভোটার সালমান জানান, আমাদের ওয়ার্ডটি মাদকের জন্য একটা অভয়ারন্য হিসেবে পরিচিত। এই ওয়ার্ডের সিংহভাগ তরুণ যুবক শ্রেণীর ছেলেরা মাদকের সাথে জড়িয়ে পড়েছিল এবং একারণে তারা নানা অপকর্মে লিপ্ত হওয়ায় এলাকার পরিবেশ দিন দিন নষ্ট হতে বসেছিল। সেখানে সাবিয়া আপা কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে পাড়ায় পাড়ায় তরুণ যুবকদের নিয়ে ক্রীড়া ও সৃজনশীল কর্মকান্ড সৃষ্টির মাধ্যমে মাদকমুক্ত করার প্রয়াস নিয়েছেন। তার এ তৎপরতা অব্যাহত থাকলে অচিরেই আমরা মাদকমুক্ত হয়ে একটি সমৃদ্ধ এলাকা হিসেবে নিজেদেরকে পরিচিত করে তুলতে পারবো। একইভাবে মন্তব্য করেন ৩ নং ওয়ার্ডের নতুন ভোটার আসিফ। তিনি জানান, অন্যসব প্রার্থীর চেয়ে কাউন্সিলর সাবিয়া অত্যন্ত মিশুক ও দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে জনগণের পাশে দাড়ান এবং যথাসাধ্য সহযোগিতা করেন। এমনকি মধ্যরাতেও যদি কেউ তাকে প্রয়োজনে ডাকেন তাহলে তাৎক্ষনিক তাকে হাজির পান। যা অন্যদের ক্ষেত্রে কল্পনাই করা যায়না। কেননা তারা নিজেদেরকে একটা অন্য জগতের মানুষ মনে করেন। সেক্ষেত্রে সাবিয়া নিজেকে সাধারণ মানুষের কাতারে এনে সকলের সাথে মিলে মিশে অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে কাজ করে চলেছেন। যার ফলে মাত্র ২ বছরেই তিনি আমাদের কাছে একজন উদীয়মান যোগ্য নেতৃত্ব হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। আমার জীবনের প্রথম ভোটটি আমি তাকেই দিবো ইনশা আল্লাহ।
মহিলা কাউন্সিলর সাবিয়া সুলতানা বলেন, আমি আমার মায়ের সাথে দীর্ঘদিন কাজ করেছি। এ কারণে এলাকার লোকজনের সাথে একটা সম্পর্ক তৈরী হয়েছে। ফলে তাদের সুখ-দুঃখে সবসময়ই পাশে থাকার সুযোগ হয়েছে। এমতাবস্থায় হঠাৎ করে আমার মা দীর্ঘ ১৫ বছর একটানা সৈয়দপুর পৌরসভার সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী রাজিয়া সুলতানার মৃত্যুর পর বাধ্য হয়ে তার অসমাপ্ত কাজ শেষ করার মানসে উপনির্বাচনে অংশগ্রহণ করি। আশাতিত ভোট দিয়ে এলাকাবাসী আমাকে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করেন। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও মায়ের সম্মান রক্ষার্থে এবং নিজের আদর্শিক চরিত্র প্রস্ফুটিত করতেই আমি নিবেদিত প্রাণ হিসেবে আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব সুচারুরুপে পালনের চেষ্টা করছি। অন্যরা যেখানে ৫ বছর সময় পেয়েছেন সেখানে আমি মাত্র ২ বছর হলো জনগনের সাথে ওতোপ্রতভাবে আছি। এই স্বল্প সময়ে আমার করা কাজের মূল্যায়ন করেই জনগণ তাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করবেন। সেক্ষেত্রে আমি আশাবাদী যে এলাকাবাসী আমার প্রতি ভরসা রাখবেন এবং আমাকে পূনঃরায় নির্বাচিত করতে তাদের মূল্যবান ভোট প্রদান করবেন। গতবার মায়ের প্রতি এলাকাবাসীর সহমর্মিতা বা সিম্পপ্যাথী স্বরুপ ৩৯৯৫ ভোট পেয়েছিলাম। আমার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি পারভীন নাজ পেয়েছিলেন ৩৪৯৯ ভোট। অন্য দুইজন তো তাদের জামানতই হারিয়েছিলেন। এবার তার সাথে যুক্ত হবে আমার নিজস্ব কর্মকান্ডের প্রতিফলন। তাই আমি শতভাগ বিশ্বাস করি আমার ভোটাররা আমাকে তাদের আন্তরিক প্রচেষ্টা দ্বারা আবারও বিজয়ী করবেন।
তিনি বলেন, আমি যতটুকু সুযোগ পেয়েছি তার মধ্যেই পৌর মেয়র অধ্যক্ষ মোঃ আমজাদ হোসেন সরকারের সহযোগিতায় ও তার অনুপ্রেরণা এবং নির্দেশনায় কাজ করছি। যে ৩টি টিআর এর কাজ পেয়েছি তা দিয়ে ৩ নং ওয়ার্ডে হরিজন পল্লীর মন্দিরের টাইলস লাগানো, ১ নং ওয়ার্ডের ডাঃ মোঃ নজরুল ইসলাম বুলুর বাড়ির সামনের একটি রাস্তা ও একই ওয়ার্ডের গাজী মাস্টারের বাড়ির পাশের একটি রাস্তার সিসি ঢালাইকরণ সম্পন্ন করেছি। এতে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের সম্পৃক্ত করে জনগণের মতামতের ভিত্তিতেই করা হয়েছে। একইভাবে করোনাকালে পৌরসভা থেকে প্রাপ্ত ১শ’ সহ নিজস্ব তহবিল থেকে ২শ’ মাস্ক ক্রয় করে বিতরণ করেছি। ১শ’ টি সাবানও বিতরণ করা হয়েছে। জনগণের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করতে নিজেই হ্যান্ড মাইকে প্রচারণা চালানোসহ পৌরসভার ব্লিচিং পাউডার নিয়ে নিজে এলাকায় ¯েপ্র করেছি। তাছাড়া পৌর মেয়রের দেয়া ১৫০ টি স্লিপের মাধ্যমে প্রত্যেককে ১০ কেজি করে চাল দিয়েছি।
আগামীতে আমি আমার এলাকার অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি কাজকে প্রাধান্য দিতে চাই। এরমধ্যে সরকারপাড়া থেকে জামবাড়ী পর্যন্ত রাস্তা, নতুন সরকারপাড়ার রাস্তা ও বসুনিয়াপাড়ার রাস্তা সংস্কার করা। উত্তরা আবাসনের পিছনে পুলপাড়ায় বৈদ্যূতিক খুটির ব্যবস্থা করা এবং ওয়াপদা মোড় থেকে আবাসন পর্যন্ত একটি বড় ড্রেণ নির্মাণসহ প্রতিটি ওয়ার্ডের ছোট ছোট ড্রেণ ও রাস্তাগুলো সংস্কার করার উদ্যোগ আমার রয়েছে।
সেসাথে এলাকাকে সম্পূর্ণরুপে মাদকমুক্ত করে আগামী প্রজন্মকে একটি সুন্দর ও সৃজনশীল জীবন উপহার দেয়া এবং নারীদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে তাদেরকে সাবলম্বি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে স্থায়ী আয়মূলক কাজের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন সরকারী প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসবো।
উল্লেখ্য, গত ২০১৮ সালের ২৯ এপ্রিল পৌরসভার ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর রাজিয়া সুলতানা মৃত্যুবরণ করেন। তার প্রেক্ষিতে ওই বছরই ৩ অক্টোবর উক্ত পদে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তাদের মধ্যে ২ জন প্রার্থী ইতোপূর্বেও নির্বাচন করেছিলেন। তাদেরকে পিছনে ফেলে সাবিয়া সুলতানা প্রথম বারেই বিপুল সংখ্যক ভোট পেয়ে বিজয়ী হন।

সম্প্রতি সংবাদ