নারী তাই মজুরী কম! সৈয়দপুরে বৈষম্যের শিকার কয়েক হাজার শ্রমিক

editor ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ সারাদেশ

শাহজাহান আলী মনন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধিঃ০৪ নভেম্বর-২০২০,বুধবার।
একই কাজ করেও মজুরী প্রাপ্তির ক্ষেত্রে চরম বৈষম্যের শিকার তারা। শুধুমাত্র নারী হওয়ার কারণে তারা পুরুষ শ্রমিকদের থেকে প্রায় এক তৃতীয়াংশ টাকা কম মজুরী পাচ্ছেন। সে সাথে পুরুষরা কাজের ফাঁকে দুপুরের খাবার হিসেবে ভাত পেলেও নারীদের দেয়া হচ্ছে শুধু নাস্তা। অথচ নারী শ্রমিকরা অনেক ক্ষেত্রেই পুরুষ শ্রমিকদের থেকে বেশি সময় ও শ্রম দিয়ে থাকে। এহেন বৈষম্যের মধ্যে জীবন কাটছে নীলফামারীর সৈয়দপুরের কয়েক হাজার নারী শ্রমিকের। ফলে তারা পুরুষের সমানতালে কর্ম করলেও পিছিয়ে যাচ্ছে আর্থিক স্বচ্ছলতার দিক থেকে। এ থেকে উত্তরণের জন্য তারা সরকারের শ্রমিক অধিকার বিষয়ক অধিদপ্তরসহ নারী অধিকারের জন্য কাজ করা বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থাগুলোর দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন।
সরেজমিনে ৩ অক্টোবর মঙ্গলবার সকালে সৈয়দপুর পৌর এলাকার কুন্দল পশ্চিমপাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানে কৃষি ক্ষেতে শীতকালীন সব্জির পরিচর্চার কাজ করছিল কয়েকজন নারী শ্রমিক। এদের মধ্যে দিপালী রানী (৩০) নামের এক নারীর সাথে কথা হলে তিনি জানান, এমনিইতো করোনার জন্য কাজ কাম নাই। তারপরও এখন যে কাম পাই তাই করছি। কিন্তু সেখানেও মজুরী বৈষম্যের শিকার হচ্ছি আমরা। বলা হয় নারী-পুরুষ সমান অধিকার। কিন্তু আমরা আমাদের কর্মক্ষেত্রে এর কোন প্রতিফলন দেখিনা। একই কাজ করে একজন পুরুষ যে পরিমান মজুরী পায় আমরা নারীরা তার থেকে এক তৃতীয়াংশ কম পাই। যেমন সব্জি ক্ষেতের এই দিন মজুরী করে আমরা নারীরা পাই ৩ শ’ টাকা। অথচ এই কাজই আমাদের সাথে যে পুরুষরা করেন তাদের দেয়া হয় ৪শ’ ৫০ টাকা। আবার দুপুরে পুরুষদের পেটপুড়ে খাওয়ার জন্য ভাত দেয়া হয়। আর আমাদের দেয় শুধুমাত্র বিস্কিট চিড়া মুড়ি জাতীয় নাস্তা। একারণে আমরা বাড়ি থেকেই ভাত নিয়ে আসতে বাধ্য হই। এতে একদিকে আমরা মজুরী কম পাই তার উপর খাবারের ক্ষেত্রে বঞ্চিত হই। ফলে আমরা মানুষ হয়েও শুধু নারী হওয়ার কারণে কম মূল্য পাচ্ছি।
একইভাবে দুঃখ প্রকাশ করে প্রমিলা নামে আরেক নারী শ্রমিক জানান, আমরা পাঁচজন একসাথে কাজ করি। ধান রোপন, ধান কাটা, মাড়াই, ফসলের ক্ষেত নিড়ানীসহ কৃষিজাত নানা ধরণের কাজ করে থাকি। এসব কাজে সকাল ৮ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত শ্রম দেই। বিনিময়ে মাত্র ৩০০ টাকা পাই। তাই দিয়ে কোন রকমে সংসার খরচ নির্বাহ করার পাশাপাশি সন্তানদের লেখাপড়া ও অন্যান্য প্রয়োজন মিটাই। কিন্তু অনেক সময় কাজ না পেয়ে আমাদেরকে বসে থাকতে হয়। এসময় অনেক কষ্টে কাটে আমাদের দিন। না খেয়েও থাকতে হয়। তাই আমাদের দাবি যদি স্থায়ী কোন কর্মের সংস্থান হতো তাহলে সংসারের খরচ নির্বাহের সাথে সাথে কিছুটা সঞ্চয় করার মাধ্যমে আমাদের জীবন মানের উন্নয়নসহ সাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পেতাম। বিষয়টি সরকারসহ এনজিওগুলোর দৃষ্টি আকর্ষন করার জন্য তারা অনুরোধ জানান।

সম্প্রতি সংবাদ