ব্রেকিং নিউজ

ঘিওরের বাঠুইমুড়ি বেড়ি বাঁধের বেহাল দশা ৪৫ বছর ধরে চলছে ভোগান্তি

editor ১৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ সারাদেশ

রিপন আনসারী, স্টাফ রিপোটার:০৪ নভেম্বর-২০২০,বুধবার।
৪৫ বছর ধরেই চলছে ভোগান্তি। ৫ কিলোমিটার রাস্তার বেরী বাঁধে মাত্র তিনটি সেতু নির্মান হলেই লাখো মানুষের ভোগান্তি দূর হয়ে যায়। কিন্ত প্রদীপের নীচে অন্ধকার বলে কথা। স্বাধীনতা পরবর্তী মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরী-বাঠুইমুড়ি বেড়ি বাঁধের এই বেহাল দশা চলছে। একটু বৃষ্টি,কাঁদা আর বর্ষা-বন্যায় সাধারন মানুষের দুর্ভোগের সীমা থাকে না। কর্তৃপক্ষের আশ্বাসের বাণীতে কেটে যাচ্ছে যুগের পর যুগ। তবে এবার আশ্বাস নয় এই অর্থবছরেই তিনটি সেতু নির্মান হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন এলজিইডির ঘিওর উপজেলা  প্রকৌশলী সাজ্জাকুর রহমান। সেতু তিনটি নির্মান হলে মানিকগঞ্জের কয়েকটি উপজেলার লাখো মানুষের দুর্ভোগ লাঘব হবে।
সরজমিন বানিয়াজুরী-বাঠুইমুড়ি বেরী বাঁধ ঘুরে দেখা গেলো,মানুষের দুর্ভোগের চিত্র। ৫ কিলোমিটার বেরীবাঁধের এই দীর্ঘ পথে নেই কোন পাকা সেতু। বেরীবাঁধের তাড়াইল,নয়াচর ও বানিয়াজুরী অংশে তিনটি জায়গায় পানি প্রবাহের জন্য পথ রাখা হলেও দীর্ঘ ৪৫ বছরেও সেখানে কোন পাকা সেতু নির্মান করা হয়নি। ফলে বছরের প্রায় ৬ মাস ওই তিনটি স্থানে পানিতে ভরপুর থাকে। বর্ষা মওসুমে বাঁশের সেতু আর না হয় নৌকায় খেয়া পাড়াপার হয়ে মানুষজন যে যার গন্তব্যে পৌছান। অথচ বেরীবাঁধের এই ৫ কিলোমিটার পথে তিনটি সেতু নির্মান করা হলে জেলার হরিরামপুর,ঘিওর,দৌলতপুর,শিবালয় ও মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার সাথে যোগাযোগ সহজ হতো। দীর্ঘ প্রায় ৪৫ বছর ধরে সেতু তিনটি নির্মানের আশ্বাসের বাণী শোনা যাচেছ। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন এই অর্থ বছরেই সেতু তিনটি নির্মান হবে। শুধু মাত্র টেন্ডারের অপেক্ষায় রয়েছে।
তাড়াইল অংশের বাঁধের ওপরে প্রায় ১৫-১৬ বছর ধরে ছোট্র একটি ছাপড়া ঘর তুলে ৭৫ বছরের বৃদ্ধ রাজু খান চায়ের দোকান করছেন। তিনি নিজ চোখে দেখে যাচ্ছেন মানুষের দুর্ভোগ। বলেন,এক সময় জেলার ঐহিত্যবাহী ঝিটকা হাটে যাতায়াতের অন্যতম রাস্তা ছিল বানিয়াজুরী-বাঠুইমুড়ি বেরী বাঁধটি। বিশেষ করে ঘিওর,দৌলতপুর,শিবালয় এমনকি অন্যসব জেলার হাজার হাজার মানুষজন এই বেরী বাঁধ ব্যবহার করে ঝিটকা হাটে বিক্রি কেনাবেচার জন্য আসা যাওয়া করতো। কিন্ত বেরী বাঁধের যোগাযোগ ব্যবস্থা এতোই নাজুক হয়ে পড়েছে যার ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই অচল হয়ে পড়ে মানুষের যাতায়াত। আর বর্ষার সময় বাধের তাড়াইল,নয়াচর ও বানিয়াজুরী অংশের পানি প্রবাহের তিনটি জায়গা পানিতে ভরপুর থাকায় প্রায় ৬ মাস মানুষের দুর্ভোগের সীমা থাকে না। তিনটি ব্রীজ নির্মান করা হলে হাজার হাজার মানুষের দুর্ভোগ থাকবে না।
ঘিওর উপজেলা এলজিইডির  প্রকৌশলী সাজ্জাকুর রহমান বলেন,বানিয়াজুরী-বাঠুইমুড়ি বেরী বাঁধে তিনটি সেতুর অনুমোদন আমরা পেয়েছি। সয়েল টেস্ট করার পর ডিজাইন ও সেতু নির্মানের বাজেট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। আশা করছি চলতি মাসেই টেন্ডার হবে। তিনি আরো বলেন করোনা ও বন্যার কারনে কাজে কিছুটা ব্যহত হয়েছে। তবে বন্যার পানি কমে যাচ্ছে আশা করি এই অর্থ বছরেই সেতু তিনটির কাজ শুরু হয়ে যাবে।

সম্প্রতি সংবাদ