ব্রেকিং নিউজ

পাংশার কশবামাজাইলে আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা জজ আলী বিশ্বাসের ইন্তেকাল\ এলাকায় শোকের ছায়া

editor ১৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ সারাদেশ

 মোক্তার হোসেন, পাংশা রাজবাড়ী) প্রতিনিধি :০৭ নভেম্বর-২০২০,শুক্রবার।

রাজবাড়ী জেলার কশবামাজাইল ইউপি আওয়ামী লীগের সহসভাপতি জজ আলী বিশ্বাস (৭০) শুক্রবার ৬ নভেম্বর রাত আড়াইটার দিকে তার শান্তিখোলা নিজ গ্রামের বাড়ীতে ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নাইলাহি রাজিউন)। শুক্রবার আসর নামাজের পর শন্তিখোলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজার নামাজ শেষে শান্তিখোলা গোরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
জানাজার নামাজে ইমামতি করেন শান্তিখোলা জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা রুহুল আমীন। জানাজার নামাজে পাংশা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি একেএম শফিকুল মোরশেদ আরুজ, পাংশা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাঃ এএফএম শফীউদ্দিন (পাতা), পাংশা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন বিশ্বাস, কশবামাজাইল ইউপির চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান খান, পাট্টা ইউপির চেয়ারম্যান আব্দুর রব (মোনা বিশ্বাস), কলিমহর ইউপির চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল মন্ডল, সরিষা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুস সোবাহান, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার হাজারো মানুষ জানাজার নামাজে অংশগ্রহণ করেন।
জানা যায়, জজ আলী বিশ্বাস ২০১৬ সালে কশবামাজাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করে পরাজিত হন। তার আগেরবার ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী শামসুদ্দিন মন্ডলের পক্ষে জোড়ালোভাবে মাঠে থেকে কাজ করেন তিনি। তৎকালীন সময়ে কশবামাজাইল ইউপি আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চেয়ারম্যান প্রার্থী হাবিব বিশ্বাসের বিরুদ্ধে শামসুদ্দিন মন্ডলকে চেয়ারম্যান দাঁড় করিয়ে নির্বাচন করার ফলে হাবিব বিশ্বাসের (বর্তমান রাজবাড়ী জেলা পরিষদের সদস্য) সাথে জজ আলী বিশ্বাসের দূরত্বের সৃষ্টি হয়। তবে ২০১৬ সালের নির্বাচনে শামসুদ্দিন মন্ডল বর্তমান চেয়ারম্যান কামরুজ্জামানের পক্ষে নির্বাচন করেন। জজ আলী বিশ্বাসের অনুরোধ রক্ষা করেন নাই দলের বর্তমান সভাপতি শামসুদ্দিন মন্ডল।
স্থানীয়রা জানায়, নানা কারণে দলের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হলে উভয় গ্রæপের নেতা কর্মীরা হামলা-মামলার শিকার হয়। জজ আলী বিশ্বাসও হত্যাসহ কয়েকটি মামলার আসামী। বছরখানেক হলো তিনি ক্যান্সার ও ডায়াবেটিস রোগে ভুগছিলেন। ভারতসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তার চিকিৎসা চলে। সাম্প্রতিক সময়ে অসুস্থ্য অবস্থায় জজ আলী বিশ্বাসসহ দলের বেশকিছু সংখ্যক নেতাকর্মী একযোগে আটকের ঘটনা চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। আটক অবস্থায় বিধিমোতাবেক তাকে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কয়েকদিন আগে উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্তি এবং হাসপাতাল থেকে রিলিজ হয়ে বাড়ীতে ফেরেন তিনি। বাড়ীতে ফিরে অসুস্থ হয়ে পড়লে শুক্রবার রাত আড়াটার দিকে তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে স্ত্রী, ৩ ছেলে, ৪ মেয়ে, বহু আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন তিনি।

সম্প্রতি সংবাদ