ব্রেকিং নিউজ

মানিকগঞ্জে ৭টি উপজেলাতেখেজুর রস সংগ্রহে ব্যস্ত গাছিরা

editor ১০ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ সারাদেশ

রামপ্রসাদ সরকার দীপু ষ্টাফ রিপোর্টার :১০ নভেম্বর-২০২০,মঙ্গলবার।
শীতের শুরুতেই প্রতি বছরের মত এবারও মানিকগঞ্জের ৭টি উপজেলার গাছিরা আগাম খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করার জন্য ব্যস্ত হয়ে উঠেছে। শীত শুরু হবার সাথে সাথেই খেজুর গাছ কাটার জন্য প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে গেছে গাছিদের মধ্যে। হালকা কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় চলছে শীতের আমেজ। রস আহরনের জন্য গাছিরা এখন থেকেই গাছের অপ্রয়োজনীয় ডালপালা ঝেড়ে পেলার পরে গাছের বুক চিড়ে সাদা ছাল বের করার কাজ ইতোমধ্যে সেরে ফেলা হয়েছে। মানিকগঞ্জে প্রায় তিন হাজার মানুষ রস সংগ্রহে জরিত বলে জানা গেছে। বছর জুরে অযতেœ পরে থাকা খেজুর গাছগুলো পড়ে থাকলেও শীতকালে গাছের চাহিদা ও যতœ বেড়ে যায়। কারন,গাছ থেকে আহরিত হয় সুমধুর রস। রস জাল করে পাটালিগুর, ঝোলাগুর, দানাগুরসহ বিভিন্ন ধরনের গুর তৈরি করে দেশ বিদেশে বিক্রিয় করা হয়ে থাকে। খেজুর রসের তৈরি পাটালি গুরের ঘ্রান এলাকা মৈমৈ করে। তবে যত বেশি ঠান্ডা পরবে তত বেশি খেজুরের রস উৎপাদন হবে। পুরো মৌসুম চলবে রস আহরন। গাছিরা রস আহরন করে বাড়িতে জাল দিয়ে গুড় তৈরি করে বিভিন্ন হাট বাজারে বিক্রি করে থাকেন। আর কয়েক দিন পরে নতুন গুড়ের মিষ্টি গন্ধে ধীরে ধীরে আমোদিত হয়ে উঠবে গ্রাম-বাংলা। তবে সবে মাত্র শুরু হয়েছে রস সংগ্রহের কাজ।
উপজেলার গোলাপনগর গ্রামের মোঃ সফিজ উদ্দিন (৬৫) বছর। প্রায় ৪৩ বছর যাবত খেজুর গাছ জোরার কাজ করেন। তার বাবা মৃত শহিমুদ্দিন এ পেশার সাথে জরিত ছিল । মুলোত পৈতিক সুত্রে রস সংগ্রহের কাজ করেন। আর্থিক সংকটের কারনে তিনি ১৮/২০ বছর বয়সে খেজুর গাছ জুরার কাজ করেন। প্রথমে তার বাবার সাথে কাজ শুরু করেন। বাবার কাছ থেকেই তিনি কাজটি শিখেছেন। তার বাবা মারা যাবার পরে এলাকার গাছি হিসাবে তিনি পরিচিতি লাভ করেন। চলতি বছরে তিন মাসের জন্য সফিজ উদ্দিন প্রায় ২০টি খেজুর গাছ অগ্রিম টাকা দিয়ে কিনে নিয়েছে। এছাড়া ভাগে আছে আরো ২০/২৫টি খেজুর গাছ। গত বুধবার থেকে গাছের অপ্রয়োজনীয় ডালপালা ও লতাপাতা জেড়ে ফেলার পরে গাছের বুক চিড়ে সাদা ছাল বের করার কাজ ইতোমধ্যেই শেষ করেছেন। আগামী সপ্তাহ থেকে পুরোদমে খেজুর রস সংগ্রহের কাজ শুরু হবে। তিন মাসের রস বিক্রির টাকা দিয়ে তাকে ৬টি চলতে হয়। বাকি ৬মাস কৃষি কাজ করতে হয়। স্ত্রীসহ ৬ সদস্য নিয়ে মাত্র ৮ শতাংশ জমির উপরে তার বসবাস। কিন্তু দুঃখের বিষয় এপর্যন্ত তার ভাগ্যে একটি বয়স্ক ভাতা জোটেনি। জুটেনি একটি ভিজিডি কিংবা ভিজিএফ কার্ড। তিনি আরো বলেন, বর্তমানে খেজুর গাছের সংখ্যা কমে গেছে। পরিকল্পিতভাবে খেজুর গাছের আবাদ করা প্রয়োজন।
কুঠিবাড়ি গ্রামের ফরিদ জানান, এ বছর প্রায় ৩০টি গাছ রস সংগ্রহের জন্য তৈরি করছেন। কিন্তু আগামী সপ্তাহ থেকেই খেজুর রস সংগ্রহের কাজ শুরু হবে। যারা খেজুর রসের পাগল তারা শহর থেকে গ্রামে ছুটে আসবে। এই সময়ে রস আহরনকারী গাছিদের প্রাণ ভরে উঠবে আনন্দে। যদিও আগের মতো সেই রমরমা অবস্থা আর নেই। তবে মানিকগঞ্জের ৭টি উপজেলাতে কমবেশি খেজুরের গাছ রয়েছে। সারা বছর অযতœ অবহেলায় পরে থাকে। শীতের সময় এদের কদর বেড়ে যায়। তবে এ মৌসুমে চোরের উপদ্রব বৃদ্ধি পায়। এ কারনে রাত জগে পাহারা দিতে হয় গাছিদের। রস জাল দেবার পরে গুর তৈরি করে বিভিন্ন হাট বাজারে বিক্রি করা হয়। প্রতি কেজি খাটি গুর ৪শ’৫০ টাকা তেকে ৬’শ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা হয়ে থাকে। জেলার হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকা হাজারীগুর দেশ বিদেশে রপ্তানি করা হয়ে থাকে। এছাড়া দৌলতপুর, শিবালয়, সাটুরিয়া, সিংগাইরে প্রচুর পরিমানে খেজুর গুর তৈরি হয়। তবে এ সময়ে এক শ্রেনীর অসাধু গুড় ব্যবসায়ীরা চিনি, রং এবং মোকামি গুর দিয়ে কৃত্তিম উপায়ে বিভিন্ন উপকরনের সাহায়্যে খেজুর গুর তৈরি করে বিক্রি করে হাট বাজারে বিক্রি করেন। ঘিওর বাজারে প্রতিদিন কৃত্তিম উপায়ে খেজুরের গুর তৈরি করে বিক্রি করা হয়।
উপজেলা কৃষি অফিসার শেখ বিপুল হোসেন জানান, সারাদেশে পরিকল্পিতভাবে খেজুর গাছ রোপণ করা দরকার। তাহলে শীত মৌসুমে উপাদেয় রস দেশীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নে আমাদের বিরাট ভ’মিকা রাখতে পারবে। সরকারি উদ্যোগে বেশি করে খেজুর গাছ রোপন করতে বন বিভাগকে দায়িত্ব দেওয়া দরকার। খেজুরের ঐতিহ্য ধরে রাখতে গবেষনার প্রয়োজন। দেশি চারার পাশাপাশি পরীক্ষামূলোক ভাবে আরব দেশীয় খেজুরের চারাও রোপণ করা প্রয়োজন বলে তিনি জানান।

রামপ্রসাদ সরকার দীপু
প্রতিনিধি, মানিকগঞ্জ।
০১৯১৮৪০৬৬৭৫