ব্রেকিং নিউজ

মানিকগঞ্জে শহীদ রফিকের বাড়ির সামনের রাস্তাজুড়ে গুচ্ছগ্রাম তৈরীর প্রতিবাদে মানববন্ধন

editor ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ সারাদেশ

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি:১৩ নভেম্বর-২০২০,শুক্রবার।

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে ভাষা আন্দোলনের প্রথম শহীদ রফিক উদ্দিন আহমেদের বাড়ির সামনের রাস্তাজুড়ে গুচ্ছগ্রাম তৈরীর প্রতিবাদে মানববন্ধন হযেছে। আজ (শুক্রবার) দুপুরে সিংগাইর উপজেলার উত্তর পারিল গ্রামে নির্মিতব্য গুচ্ছগ্রাম এলাকায় এই মানববন্ধন করে শহীদ রফিকের পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী।

 

ঘন্টাব্যাপী এই মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন শহীদ রফিকের ছোট ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা খোরশেদ আলম, মেজো ভাই আব্দুর রশিদের ছেলে আব্দুর রউফ, স্থানীয় বলধরা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন, কাতার প্রবাসী আরিফুর রহমান জিন্নত, একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান লুডু।

শহীদ রফিকের ছোট ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা খোরশেদ আলম বলেন, ‘আমার বড় ভাই ভাষা আন্দোলনের প্রথম শহীদ।আমি, আমাদের ভাইসহ পরিবারের আটজন সদস্য মুক্তিযোদ্ধা। অথচ, আমাদের পরিবার সবসময় নানাধরণের বৈষম্যের স্বীকার হচ্ছি।বাড়ির সামনে শহীদ রফিকের নিজবাড়িতে শহীদ মিনার হওয়ার সময় বাঁধা দেওয়া হয়েছিলো।নানা প্রতিবন্ধকতা পেড়িয়ে সেখানে শহীদ মিনারটি নির্মিত হয়। এখন, শহীদ রফিকের বাড়িতে কিংবা সেই শহীদ মিনারে প্রবেশের পথে বাড়ির সামনে নির্মিত হতে চলেছে গুচ্ছ গ্রাম। শহীদ রফিকের বাড়ির সামনে এই গুচ্ছগ্রামটি নির্মিত হলে শহীদ রফিকের বাড়িটি ঢাকা পড়ে যাবে। আমি মনে করি, এটি শহীদ রফিকের বাড়ির মর্যাদা ক্ষুন্ন হচ্ছে। আমি ইতিমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং জেলা প্রশাসক বরাবর পত্র দিয়েছি। কিন্তু গুচ্ছগ্রাম নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। এব্যাপারে আমি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যাতে সেখানে গুচ্ছগ্রামের পরিবর্তে শহীদ রফিকের ভাস্কর্য কিংবা একটি শিশু পার্ক করা হয়।’

শহীদ রফিকের মেজো ভাই আব্দুর রশিদের ছেলে আব্দুর রউফ বলেন, ‘আমরা শহীদ রফিকের পরিবারের সদস্য।আমরা অর্থনৈতিকভাবে খুবই দুর্বল। তবে, অত্যন্ত সততা ও নিষ্ঠার সাথে জীবন যাপন করছি। আমাদের বাড়ির মোট জমি ৩৮ শতাংশ। এর মধ্য থেকে তিন শতাংশ জমি শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য দেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট জমির ওপর শহীদ রফিকের নামে একটি ফাউন্ডেশন করার কাজ চলছে। বর্তমানে ওই বাড়িতে এখন আমার এক চাচী আর তার সন্তানরা থাকে। অন্যরা বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। আমার বাড়ির সামনে বাড়িতে প্রবেশের রাস্তাজুড়ে ৫৯ শতাংশ সরকারী খাস জায়গার ওপর একটি গুচ্ছগ্রাম করা হচ্ছে।  একুশে ফেব্রূয়ারীর অনুষ্ঠানে হাজার হাজার নারী-পুরুষ শত শত গাড়ীতে আসে এবং সেইস্থানে গাড়ীগুলি পার্ক করা হয়। ওই স্থানে গুচ্ছগ্রাম করা হলে আগত মানুষ খুবই সমস্যায় পড়বেন। এছাড়া, আমি মনে করি, এটি শহীদ রফিকের বাড়ির মর্যাদা হানি হচ্ছে।’

বলধরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সিংগাইর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর মাজেদ খান বলেন, আমি এই প্রকল্প সম্পর্কে আগে কিছুই জানতাম না। প্রকল্প পাশ হওয়ার পর জানলাম, সেখানে একটি সরকারী আবাসন প্রকল্প হবে। আমাকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডেকে নিয়ে কাজটি বাস্তবায়নে একটি কমিটির করার নির্দেশনা দেন। সেই অনুযায়ী সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্যকে সভাপতি করে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি করা হয়। নির্মাণ কাজটি চলমান রয়েছে। মোট ৫৯ শতাংশ জমির মাঝখানে ১৬ ফুট দীর্ঘ সড়ক করার জন্য ১০ শতাংশ জমি বাদে বাকী ৪৯ শতাংশ জমির ওপর ১৫টি ঘর নির্মাণ করা হবে। এই ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে দু:স্থ, অসহায় এবং ভূমিহীন ১৫টি পরিবার বাছাই করা হয়েছে। নির্মাণ শেষে তাদের মাঝে ঘরগুলি হস্তান্তর করা হবে। ইতিমধ্যে জমির ওপর মাটি ভরাট কাজ চলছে। অল্প সময়ের মধ্যেই ঘরগুলি নির্মাণ সম্পন্ন হবে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুনা লায়লা বলে, ‘আবাসন প্রকল্পটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মাধ্যমে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বাস্তবায়ন করছে। আমি এই উপজেলায় যোগদানের আগেই মাটি ভরাটের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখন ঘর নির্মাণের জন্য অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেছে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছ থেকে জানতে পেরেছি, আবাসন প্রকল্প এলাকার বাইরে ইটের প্রাচীর নির্মাণ করা হবে যাতে শহীদ রফিকের বাড়ির মর্যাদা ক্ষুন্ন না হয়। এটা চলমান কাজ। এইস্থানে এটার পরিবর্তন করে অন্য কিছু করা সুযোগ আছে কিনা তা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যোগাযোগ করে জানতে হবে।’

 

সম্প্রতি সংবাদ