ব্রেকিং নিউজ

সৈয়দপুরে বিজিবি সদস্য কর্তৃক ছাত্রী ধর্ষণের সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিকদের উপর সন্ত্রাসী হামলা

editor ১০ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ সারাদেশ

শাহজাহান আলী মনন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি :২২ নভেম্বর-২০২০,রবিবার।
নীলফামারীর সৈয়দপুরে বিজিবি সদস্য কর্তৃক মেধাবী ছাত্রীকে ক্লিনিকে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিকদের উপর ক্লিনিক মালিকের নেতৃত্বে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী কর্তৃক হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত ২১ নভেম্বর শনিবার রাত ৯ টায় শহরের শহীদ ডাঃ জিকরুল হক রোডের জিআরপি ক্যান্টিন সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে সন্ত্রাসীরা দুইজন সাংবাদিককে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে গুরুত্বর আহত করেছে এবং তাদের মোবাইল, ক্যামেরা ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে। এ ঘটনায় শহরজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রভাবশালী ক্লিনিক মালিক হামলা করার পরও চাঁদাবাজি মামলায় জড়িয়ে হয়রানীসহ প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছে।
সন্ত্রাসী হামলার শিকার সাংবাদিক ্মীর রমজান আলী টুটুল জানান, গত ৯ নভেম্বর উপজেলার বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নের লক্ষণপুর গ্রামের বালাপাড়ার (ব্রা²ণপাড়া) নবম শ্রেণীর মেধাবী ছাত্রীকে পরিবারের অগোচরে তার প্রতিবেশী বিজিবি সদস্য আখতারুজ্জামান মোটর সাইকেল করে শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কস্থ সাজেদা ক্লিনিকে নিয়ে আসে। সেখানে সন্তান প্রসবের পর চিকিৎসাধীন আখতারুজ্জামানের বোন রোকেয়া বেগমের কাছে রাত যাপন করে। ১০ নভেম্বর রবিবার রাত ৯ টায় ছাত্রীটিকে আখতারুজ্জামান বাড়িতে পৌছে দেয়। তারপর থেকেই ছাত্রীটি অস্বাভাবিক আচরণ করতে থাকলে বাধ্য হয়ে পরিবারের লোকজন বিষয়টি সরকারী হেল্প ডেস্ক নম্বরে কল করে জানায়। তারা নীলফামারী সদর হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেয়। সে অনুযায়ী ছাত্রীটিকে নীলফামারী সদর আধুনিক হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রোগীর অবস্থা বেগতিক দেখে তাকে তাৎক্ষনিক রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওসিসি সেন্টারে প্রেরণ করেন। বর্তমানে মেয়েটি সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এদিকে নীলফামারী সদর হাসপাতাল থেকে রেফার্ড করার সময় দেয়া ছাড়পত্রে উলে­খ করা হয়েছে যে, মেয়েটি যৌন নির্যাতনের শিকার। এর প্রেক্ষিতে গত ২০ নভেম্বর শুক্রবার রাতে আখতারুজ্জামানকে আসামী করে ধর্ষণের মামলা দায়ের করে মেয়েটির মা। এই মামলা সূত্রে কয়েকজন সাংবাদিক সংবাদ প্রকাশ করে। এরই জের ধরে গত ২১ নভেম্বর রাত আনুমানিক ৯ টার দিকে সাজেদা ক্লিনিকের পরিচালক ও উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের শ্বাষকান্দর তালতলাপাড়ার মৃত জিকরুল হক গোয়ালার ছেলে মোঃ শরিফুল ইসলাম, তার সহযোগী ওয়ালটন শোরুমের পরিচালক বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নের চৌমহনী বাজার সংলগ্ন এলাকার মোঃ জাহাঙ্গীর আলম ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের পাঠানপাড়ার মৃত. আশরাফের ছেলে জাহাঙ্গীর ফিরোজ ও শহরের বাঁশবাড়ী বটগাছ সংলগ্ন মৃত মঈন উদ্দিনের ছেলে সাহাব উদ্দিন অজ্ঞাতনামা আরও ১০/১২ জন সন্ত্রাসীকে নিয়ে অতর্কিত আক্রমন করে। শহরের জিআরপি ক্যান্টিনে চা খেতে যাওয়ার প্রাক্কালে ওই এলাকায় সন্ত্রাসীরা আগে থেকে ওৎ পেতে থেকে লাঠি সোটা ও দেশিয় অস্ত্রসহ হামলা চালিয়ে বেধড়ক মারপিট করা সহ পকেটে থাকা ১ হাজার ২ শত টাকা, স্যামসাং ডিজিটাল ক্যামেরা (যাতে বিভিন্ন রিপোর্টের ভিডিও ও তথ্য সংগ্রহীত ছিল) ছিনিয়ে নেয়।
অপরদিকে পার্বতীপুর থেকে প্রকাশতি দৈনিক মানব বার্তার স্টাফ রিপোর্টার জয়নাল আবেদীন হিরো জানান, সন্ত্রাসী হামলায় তিনিও গুরুত্বরভাবে আহত হয়েছেন এবং এসময় তার পকেট থেকে ৩ হাজার ৯ শত টাকা ও স্যাম্ফনি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়া হয়। এ ব্যাপারে সৈয়দপুর থানায় গত ২১ নভেম্বর রাতেই অভিযোগ দেয়া হয়েছে। এদিকে হামলাকারীরা প্রভাবশালী হওযায় বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে চলেছে এবং স্থানীয় থানায় চাঁদাবাজির মিথ্যা অভিযোগও দেয়া হয়েছে ৪ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে।
সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিকের উপর হামলার ঘটনায় শহরজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহল সন্ত্রাসী হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নের্য়া দাবি জানান। নয়তো জাতির বিবেক সাংবাদকিরা নিরাপত্তাহীনতায় সমাজের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে পিছপা হলে তা দেশ ও জনগণের জন্য কল্যাণকর হবেনা।