ব্রেকিং নিউজ

নীলফামারীতে গরম কাপড়ের বাজারে ক্রেতার ভীড় বেড়েছে

editor ১৩ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ সারাদেশ

শাহজাহান আলী মনন, নীলফামারী জেলা প্রতিনিধিঃ০২ ডিসেম্বর-২০২০

হিমালয়ের কাছাকাছি উত্তরের জেলা নীলফামারীর অবস্থান। তাই ধীরে ধীরে নিচে নামছে তাপমাত্রা। ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা ভাব জানান দিচ্ছে শীত চলে এসেছে। রাত বাড়ার পর থেকেই শীত অনুভূত হলেও ভোরের দিকে শীত বেশি অনুভূত হচ্ছে। কুয়াশায় মোড়ানো রাত, শিশির ভেজা সকাল ও হালকা ঠাণ্ডার কারণে স্থানীয় গরম কাপড়ের দোকানে ক্রেতাদের ভীড় বেড়েছে।

সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন বাজারের দেখা যায়, জমে উঠেছে ফুটপাতের ভ্রাম্যমাণ শীত বস্ত্রের দোকানগুলো। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত ওই সব কাপড়ের দোকানে গরম কাপড় কিনতে ভিড় করছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্র পৌর মার্কেট, মাধার মোড়, উকিলের মোড়, কালিতলা বাস স্ট্যান্ড ও ডালপট্টি মহল্লায় ও ফুটপাতে ভ্যানগাড়িতে করে বাহারি রঙের এসব শীত বস্ত্র বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা।

সবচেয়ে বেশি জমে উঠেছে জেলার সৈয়দপুর উপজেলার পাইকারী শীত বস্ত্রের মার্কেট। উত্তরাঞ্চলের সব জেলা উপজেলা থেকে খুচরা বিক্রেতা দোকানদার ও ফেরী করে বিক্রিকারীরাসহ সাধারন ক্রেতারা দিন রাত কেনা কাটায় ব্যস্ত।

জেলা শহরের বড় বাজারের ফেরিওয়ালা আব্দুল হাকিম জানান, কয়েকদিন ধরেই প্রায় সব দোকানে কম-বেশি শীতের কাপড় কেনাকাটা শুরু হয়েছে। ক্রেতাদের চাহিদার কথা ভেবে ছোট-বড়দের জ্যাকেট, মাফলার, সোয়েটার, হাত মোজা, কোট, টুপি ও মাংকি টুপিসহ সব ধরনের শীত বস্ত্র মিলছে এসব দোকানে।

নীলফামারী হাই স্কুলের বড় মাঠে, রাস্তার দুইধারে বসা দোকানগুলোতে গরম কাপড় কেনাবেচায় ব্যস্ত সময় পার করছেন দোকানি ও ক্রেতারা।

প্রতি বছর শীত মৌসুম এলেই তাদের বিক্রি বেড়ে যায়। কয়েকদিন ধরে শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় সাধ্যের মধ্যে পছন্দের পোশাক কিনতে ফুটপাতের দোকানগুলোতে ভীড় জমাচ্ছেন ক্রেতারা।

ওই বাজারের ফেরিওয়ালা মোফাচ্ছের আলী জানান, উলের সোয়েটারের দাম পড়ছে ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা। জ্যাকেট ২০০ থেকে সাড়ে ৩০০ টাকা, ফুলহাতা গেঞ্জি ও বাচ্চাদের জামাসেট ৬০-১৩০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

শীতের পোশাক কিনতে আসা পৌর শহরের নিউবাবু পাড়া মহল্লার আলেয়া বেগম বলেন, অনেক খোঁজ করে ছেলে-মেয়ে ও পরিবারের সবার জন্য সোয়েটারসহ কয়েকটি শীতের কাপড় কিনেছি। নিজের জন্য একটি উলের সোয়েটার কিনেছি। শীত বেশি পড়ায় দোকানিরা দামও বেশি চাচ্ছে। অনেক দর দামের পর তিনটি ট্রাউজার কিনেছি সাড়ে ৩০০ টাকায়। শাশুড়ির জন্য একটি সোয়েটার কিনেছি ১২৬ টাকায়। অন্য সময় এগুলো ৬০-৭০ টাকায় পাওয়া যেতো বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, কম দামে ভাল কাপড় পাওয়া যায় ফুটপাতে। তাই আমাদের শেষ ভরসা ফুটপাত।
জেলা শহরের বড় বাজারের স্মৃতি গার্মেন্টসের মালিক মোঃ মকবুল হোসেন জানান, গত এক সপ্তাহ থেকে শীতের প্রভাব দেখা দিয়েছে। এখন কাটা কাপড়ে চাহিদা অনেকটা কমে গেছে। মানুষ এখন ফুটপাতের গরম কাপড়ের দোকানে বেশি ভিড় করছেন। উলের সোয়েটার, ট্রাউজার, মাফলার, জ্যাকেটসহ গরম কাপড় কিনতে ক্রেতারা ব্যস্ত বলে জানান তিনি।

এদিকে সৈয়দপুরের গরম কাপড়ের আড়ত হিসেবে পরিচিত শহীদ ডাঃ সামসুল হক সড়কজুড়ে প্রতিষ্ঠিত লন্ডা বাজারের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান আমদানীকারক হাজী মোঃ আল মামুন জানান, এবার করোনার কারনে বিদেশ থেকে নতুন করে কোন লট আমদানী করা হয়নি। তাই দাম একটু বেশী। তবে আমাদের কাছে যে মজুদ আছে তা দিয়েই চলতি শীত মৌসুমের চাহিদা মেটানো সম্ভব

সম্প্রতি সংবাদ