ব্রেকিং নিউজ

দৌলতপুরে সিএনজি ও বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের ৬ জনসহ ৭ জন নিহত

editor ১৩ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ breaking সারাদেশ

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি: ৪ ডিসেম্বর-২০২০,শুক্রবার।
অসুস্থ্য মেয়ে রাঁধাকে নিয়ে আর হাসপাতালে যাওয়া হলো না বাবা গোবিন্দ মনিদাশের। মর্মান্তিক এক সড়ক দুর্ঘটনায় মেয়েসহ পরিবারের ৬ সদস্যসহ ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।শুক্রবার মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে সিএনজি ও বাসের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে এই দুঘর্টনা ঘটে। পরিবারের এক মাত্র জীবিত সদস্য গোবিন্দর মা ঝর্ণা মনিদাশকে সমবেদনা জানাচ্ছেন আত্মীয়স্বজনসহ প্রতিবেশীরা ।
দুঘর্টনায় নিহতরা হলেন, গোবিন্দ মনিদাশ(২৮) তার মেয়ে রাঁধা মনিদাশ (৪) স্ত্রী ববিতা মনিদাশ(২৫)বাবা হরে কৃষ্ণ মনিদাশ(৫৫), ঠাকুর মা খুশি বালা (৭২), কাকাতো ভাই রামপ্রসাদ মনিদাশ (৩২) ও সিএনজি চালক জামাল শেক(৩০) । নিহতের মধ্যে চালকের বাড়ি দৌলতপুর উপজেলার সমেতপুর গ্রামে ও যাত্রী ৬ জনের বাড়ি টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর উপজেলার চাষাভাদ্রা গ্রামে।

 


গোবিন্দর মা ঝর্ণা মনিদাশ জানান,তার নাতনি রাঁধা কয়েক দিন ধরে ডায়রিয়ায় ভূগছিল । শুক্রবার দুপুরে অবস্থা খারাপ হলে রাঁধাকে নিয়ে বাড়ির সবাই একটি সিএনজি করে মানিকগঞ্জ হাসপাতালে চিকিৎসার নিয়ে যাচ্ছিল।পরে সড়ক দুঘর্টনায় বাড়ির সকলেই মারা যায়।

দৌলতপুর থানার ওসি রেজাউল করীম জানান, মানিকগঞ্জের দৌলতপুরের ঘিওর-দৌলতপুর আঞ্চলিক সড়কের শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে দৌলতপুর মুলকান্দি এলাকায় সিএনজিটি পৌছালে বিপরীত দিক থেকে আসা ভিলেজ লাইনের একটি যাত্রীবাহি বাস ( ঢাকা মেট্রো-জ-১৪-১৪৪৭) সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে হয়। এই দুঘর্টনায় একই পরিবারের ৬ জনসহ ৭ জন নিহত হয়েছে । দুঘর্টনার পর বাসের চালক ও হেলপার পালিয়ে গেলেও দুঘর্টনা কবলিত বাস ও সিএনজি পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। নিহতদের মৃত দেহ দৌলতপুর হাসপাতালে রাখা হয়েছে।
প্রতিবেশী রেনু বালা জানান, পেশায় নরসুন্দরের কাজ করতো গোবিন্দ।তার বাবা হরে কৃষ্ণ পেশায় একজন অটো চালক। এ দুঘর্টনায় গোবিন্দর মা ছাড়া বাড়ি সবাই মারা গেছেন । তাদের এই মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে ।

এদিকে চাষাভাদ্রা গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে এক মাত্র ছেলে, স্বামী, পুত্রবধু ও নাতনিকে হারিয়ে নির্বাক হয়ে পড়েছে ঝর্না মনিদাশ । প্রতিবেশী ও আত্মীয় স্বজনরা শান্তনা দিচ্ছে পরিবারের সকল সদস্যদের হারানো ঝর্ণা মনিদাশকে।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সন্ধায় ৬ টা পর্যন্ত মৃত দেহ গুলো এখনো গ্রামে এসে পৌছেনি।

সম্প্রতি সংবাদ