কামাল ইবনে ইউসুফ কখনও আদর্শ বিচ্যুত হননি–ফখরুল

editor ৭ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ breaking জাতীয়

কালের কাগজ ডেস্ক: ০৯ ডিসেম্বর ২০২০, ১৮:১২

রাজনীতির দীর্ঘ জীবনে চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ ফরিদপুর অঞ্চলে বিএনপিকে সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করতে নিবেদিতপ্রাণ হয়ে কাজ করেছেন। এছাড়াও মন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে থাকাবস্থায় নীতি-আদর্শ থেকে তিনি কখনও বিচ্যুত হননি।

সদ্য প্রয়াত বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফের মৃত্যুতে শোক জানিয়ে এসব কথা বলেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার মৃত্যুতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও শোক জানিয়েছেন।

শোকবার্তায় বিএনপি মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ ও শহীদ জিয়ার নীতি ও আদর্শই নিয়েই ছিল চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফের রাজনৈতিক জীবনের পথচলা। রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হিসেবে তিনি আদর্শনিষ্ঠ জীবন-যাপন করেছেন। এজন্য জনগণ তাকে চিরদিন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, কামাল ইবনে ইউসুফের গণতন্ত্রের প্রতি ছিল অবিচল আস্থা। তিনি ছিলেন একজন জনঘনিষ্ঠ মানবহিতৈষী রাজনীতিবিদ। জনকল্যাণের মহান ব্রত নিয়ে তিনি রাজনীতি করতেন। আর এজন্যই তিনি এলাকাবাসীর কাছে ছিলেন অত্যন্ত প্রিয়ভাজন।

কামাল ইবনে ইউসুফ মন্ত্রী অবস্থায় নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন দাবি করে ফখরুল বলেন, সরকারের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে দেশ-জাতি-জনগণের কল্যাণে নিরলসভাবে তিনি কাজ করেছেন। এসব দায়িত্বে থাকাকালীন নীতি ও আদর্শ থেকে তিনি কখনও বিচ্যুত হননি। বিনয়ী, সদালাপী ও মানবিক গুনাবলী সম্পন্ন মানুষ হিসেবে এলাকায় তিনি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ছিলেন।

করোনায় আক্রান্ত হয়ে বুধবার দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে মারা যান প্রবীণ রাজনীতিক চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ। গত ১৯ নভেম্বর নিউমোনিয়াজনিত কারণে বিএনপির এই নেতাকে ঢাকার এভার কেয়ার (সাবেক অ্যাপোলো) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর তার নমুনা পরীক্ষায় করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে।

চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ ১৯৪০ সালের ২০ মে ফরিদপুরের ঐতিহ্যবাহী জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতামহ ছিলেন জমিদার চৌধুরী মঈজউদ্দীন বিশ্বাস। তার পিতা ইউসুফ আলী চৌধুরী (মোহন মিয়া) একজন বিশিষ্ট মুসলিম লীগ নেতা ছিলেন। তার চাচা চৌধুরী আবদুল্লাহ জহিরউদ্দীন (লাল মিয়া) আইয়ুব খানের সরকারে মন্ত্রিসভায় ছিলেন এবং অন্য চাচা এনায়েত হোসেন চৌধুরী পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের সদস্য ছিলেন। ১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গঠিত হলে চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ এতে যোগ দেন। ১৯৭৯ সালের জাতীয় নির্বাচনে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮১ সালে তিনি বিচারপতি আব্দুস সাত্তার সরকারের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। ১৯৯১ সালে তিনি আবার নির্বাচিত হন এবং বেগম খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হন। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনেও তিনি সংসদ সদস্য হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে জিতে তিনি খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী হন।

সম্প্রতি সংবাদ