ব্রেকিং নিউজ

সিনহা হত্যায় প্রদীপসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

editor ৫ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ breaking জাতীয়

কালের কাগজ ডেস্ক: : ১৩ ডিসেম্বর ২০২০, রবিবার।

কক্সবাজারের টেক্নাক:ফে পুলিশের গুলিতে সেনাবাহিনীর মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) আদালতে জমা দিয়েছে র‌্যাব। এতে টেকনাফ থানার বরখাস্তকৃত ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ ১৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

রবিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আলোচিত মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা র‌্যাবের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম কক্সবাজার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহর আদালতে চার্জশিট জমা দেন। পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ফরিদুল আলম সাংবাদিকদের এই তথ‌্য নিশ্চিত করেছেন।

চার্জশিটে টেকনাফ থানার তৎকালীন ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, পরিদর্শক লিয়াকত আলী ও এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিতসহ ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। ৩০২ ধারার অপরাধে এই অভিযোগপত্র দেয়া হয়। অভিযুক্তদের মধ্যে ১৪ জন ইতিমধ্যে কারাগারে আছেন। বাকি একজন পলাতক।

কারাগারে থাকা অভিযুক্ত ১৪ আসামি হলেন বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলী, টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, দেহরক্ষী রুবেল শর্মা, টেকনাফ থানার এসআই নন্দদুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মামুন, এএসআই লিটন মিয়া, এপিবিএনের এসআই মো. শাহজাহান, কনস্টেবল মো. রাজীব ও মো. আবদুল্লাহ, পুলিশের মামলার সাক্ষী টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের মারিশবুনিয়া গ্রামের নুরুল আমিন, মো. নিজামুদ্দিন ও আয়াজ উদ্দিন। এই মামলার আরেক আসামি পুলিশ কনস্টেবল সাগর দেব এখনো পলাতক।

অভিযোগপত্র জমা দেয়ার পর এএসপি মো. খায়রুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘সিনহা হত্যা মামলাটি আমরা নানাভাবে তদন্ত করেছি। তদন্তে পাওয়া তথ্যগুলো সাজিয়ে চার্জশিট হিসেবে জমা দেয়া হয়েছে। গণমাধ্যমকে ধন্যবাদ আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য।’

র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, ‘হত্যার ঘটনা তদন্ত নেমে র‌্যাব এ ঘটনায় ১৫ জনের সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে। অভিযুক্তদের মাঝে বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপসহ ১৪ জন কারাগারে রয়েছেন। সাগর নামের ওসি প্রদীপের এক সহযোগীকে পলাতক দেখানো হয়েছে।’ সিনহা হত্যার ঘটনায় মাদক ও পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে করা তিনটি মামলার সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।

গত ৩১ জুলাই টেকনাফে মেরিন ড্রাইভ সড়কে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। দেশ-বিদেশে আলোড়ন সৃষ্টি করা এই ঘটনায় তার বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস বাদী হয়ে টেকনাফের বিচারিক হাকিম আদালতে মামলা করেন। টেকনাফের বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক লিয়াকত আলী, টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিতসহ মোট নয় পুলিশ সদস্যকে এই মামলায় আসামি করা হয়। বিচারক তামান্না ফারাহ মামলাটি আমলে নিয়ে টেকনাফ থানাকে অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। মামলার তদন্তভার দেয়া হয় র‌্যাবকে।

আদালতের নির্দেশে সিনহার বোনের করা মামলার তদন্ত করে র‌্যাব। এছাড়া এই ঘটনার তদন্তে গত ১ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানকে প্রধান করে গঠিত ওই কমিটি এরই মধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। ওসি প্রদীপ, পরিদর্শক লিয়াকতসহ ৬৮ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রশাসনিক ওই তদন্তে কক্সবাজারে চেকপোস্টে পুলিশের ভূমিকা অপেশাদার ও হটকারী বলে মন্তব্য করা হয়। ভবিষ্যতে এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে বেশকিছু সুপারিশ করেন তারা। প্রশাসনিক ওই তদন্তের পর এখন ফৌজদারি অপরাধের ঘটনায় চার্জশিট দাখিল হলো।

সম্প্রতি সংবাদ