ব্রেকিং নিউজ

সৈয়দপুরে সন্ত্রাসী কায়দায় অসহায় পরিবারকে উচ্ছেদের অপচেষ্টা, বাড়ী ভাঙ্চুর, আটক ১

editor ১১ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ সারাদেশ

শাহজাহান আলী মনন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধিঃ০৪ জানুয়ারী-২০২১
  নীলফামারীর সৈয়দপুরে সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা চালিয়ে অন্যের জায়গায় বাড়ী করে বসবাসকারী একটি অসহায় পরিবারকে উচ্ছেদের চেষ্টা করেছে প্রভাবশালী একটি চক্র। তারা দেশীয় অস্ত্র লাঠিসোটা নিয়ে অতর্কিত উপস্থিত হয়ে বসবাসের ঘর ভাঙ্চুর করাসহ বাড়ীর বৃদ্ধা মা ও নারীদেরসহ সকলকে বেধড়ক মারপিট করেছে হামলাকারীরা।
এসময় ঘরের ট্রাঙ্কে রক্ষিত টাকা লুট করে সবাইকে ঘরের ভিতর আটকিয়ে দরজায় তালা লাগিয়ে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এক সময় তারা বাড়িতে আগুন লাগানোরও চেষ্টা করে। কিন্তু এলাকাবাসী ও পথচারীরা এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। এতে অসহায় পরিবারটি জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় চরম বিপাকে পড়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে ৪ জানুয়ারী সোমবার সকাল ১০ টায় উপজেলার খাতামধুপুর ইউনিয়নের মুসরত ধুলিয়া হাজীপাড়ায়। উক্ত গ্রামের মৃত ছফির উদ্দীনের স্ত্রী সাহেদা বেগম (৬৫) জানান, এই জমির মূল মালিক অত্র এলাকার মহৎ ব্যক্তি মৃত হাজী মহির উদ্দীন। দীর্ঘ ৫০ বছর আগে তিনি তার নিজ জমিতে আমার স্বামীকে বাড়ি করে দেন বসবাসের জন্য। তারপর থেকে আমরা স্বপরিবারে এখানে বসবাস করছি।
কিছু দিন হলো প্রতিবেশী মোঃ খোরশেদ আলীর পরিবার এই জমিটি কিনে নিয়েছে বলে দাবী করে আমাদের বাড়ি ঘর সরিয়ে নেয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে। তাদের কাছে জমির দলিল দেখতে চাইলে তারা কাগজ দেখাতে পারেনি। কিন্তু তারা উল্টো ক্ষিপ্ত হয়ে প্রায় ২ মাস আগে খোরশেদের ছেলে সবুজ ও সোহাগ আমাদের একটি ঘর জোরপূর্বক ভেঙ্গে ইট ও টিন খুলে নিয়ে যায়। এনিয়ে এলাকাবাসীর পরামর্শে ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ দিলে শালিসি বৈঠকে তাদের দোষী সাব্যস্ত করে। কিন্তু তারা গণ্যমান্য ব্যক্তি ও মেম্বার চেয়ারম্যানের শালিসি প্রত্যাখ্যান করে। এরপর থেকে তারা প্রায়ই নানাভাবে হুমকি ধামকি দিয়ে যাচ্ছে।
এরই সূত্রধরে আজ সকাল ১০ টায় খোরশেদের স্ত্রী শেফালী, ছেলে সুমন, সবুজ, সোহাগ ও সবুজের স্ত্রী রোকসানা এবং  তাদের সহযোগী একই এলাকার মৃত অছিম উদ্দিনের ছেলে আব্দুর রউফ লাভলু ও মৃত আবুল হোসেনের ছেলে রফিকুল ইসলাম বাদশা শাবল, কোদাল, রড ও লাঠি নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা খিয়ার জুম্মা থেকে হাজারীহাট যাওয়ার রাস্তা সংলগ্ন মাটির ঘর ভেঙ্গে ফেলে। এতে প্রতিবাদ করলে আমার উপর হামলে পড়ে। আমার অসুস্থ ছেলে, তার স্ত্রী ও ছোট বাচ্চাদের গায়ে হাত দেয়। লাঠি ও রড দিয়ে বেধড়ক মারপিট করে। মারের কারনে প্রাণ ভয়ে আমরা অন্য ঘরে ঢুকলে সেখানেই হামলা করে।
আমার ছেলেরা বাড়ি করার জন্য জমি কেনার ২ লাখ টাকা জমা করেছিল তারা ঘরে ঢুকে ট্রাঙ্ক ভেঙ্গে সে টাকা লুট করে। পরে আমাদেরকে ঘরের মধ্যে রেখে বাইরে থেকে দরজায় তালা লাগিয়ে দেয়। এক পর্যায়ে তারা ঘরে আগুন লাগানোরও চেষ্টা করে। কিন্তু আমাদের আর্তচিৎকারে এলাকাবাসী ও পথচারীরা ছুটে আসায় তারা আগুন লাগানো বন্ধ করে গালিগালাজ করতে থাকে। একদিনের মধ্যে বাড়িঘর সরিয়ে না নিলে প্রয়োজনে সপরিবারে প্রাণে মেরে ফেলে উচ্ছেদ করবে বলে হুমকি দেয়। পরে খবর পেয়ে জমির মালিক মরহুম হাজী মহির উদ্দীনের ছেলে বীর মুক্তিযোদ্ধা মমতাজুর রহমানের দুই ছেলে মাহবুবুর রহমান মাস্টার ও হাসান আলী এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা চলে যায়।
বৃদ্ধা বলেন, যাদের জমি তারা কিছু বলেনা। অথচ এরা আমাদের অন্যায়ভাবে অত্যাচার করছে। জমি খোরশেদের হয় তাহলে তা হাজীর পরিবারের লোকজনের মাধ্যমে নিবে। কিন্তু তা না করে দূর্বলের উপর নির্যাতন করছে। হাজীর ছেলেরা বললে আমরা রাস্তায় চলে যাবো। তবুও অন্যায়কারীর কথায় নয়।
মাহবুবুর রহমান মাস্টার জানান, পৈত্রিক সূত্রে বর্তমানে ওই জমির মালিক আমরা। দাদা ৫০ বছর আগে ছফির উদ্দীন কে নিজে বাড়ী করে দিয়েছেন। গরীব মানুষ কোন রকমে জীবনযাপন করে। তাই আমরাও তাদেরকে বসবাস করতে দিয়েছি। এমনকি বিভিন্ন সময় টাকা, খাবার, কাপড় দিয়ে সহযোগীতাও করি আমরা।
অথচ সেই দরিদ্র অসহায় পরিবারটিকে বেআইনিভাবে গায়ের জোড়ে উচ্ছেদের অপচেষ্টা চালাচ্ছে এলাকায় দূর্বৃত্ত হিসেবে পরিচিত একটি চক্র। প্রায়ই খোরশেদের ছেলেরা নানাভাবে হয়রানী ও মারধর করে। এর আগেও একটি ঘর ভেঙে দিয়েছে। রাস্তার সাথে একটি টিউবওয়েল ছিল। যেখানে এলাকার গরীব মানুষেরা পানি সংগ্রহ করতো। সেটিও বন্ধ করে দিয়ে সেখানে মাটি ফেলে গাছ লাগিয়েছে ওই চক্রটি। এলাকার সবাই এদের নির্যাতনের শিকার।
পরে সৈয়দপুর থানার এস আই নারায়ন চন্দ্রের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে প্রাথমিক তদন্ত শেষে খোরশেদ আলীর ছোট ছেলে সোহাগ কে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। সুমন ও সবুজ সহ অন্যান্যরা পলাতক রয়েছে।
খোরশেদের পরিবারের লোকজন এ ব্যাপারে কোন মন্তব্য করতে রাজি নয়। তবে আটক সোহাগ জানায়, জমিটা তারা কিনে নিয়েছে বাড়িতে যাতায়াতের রাস্তার জন্য। বার বার বলা সত্বেও তারা জায়গা ছাড়ছেনা। একারনে বাধ্য হয়ে ঘর ভেঙেছি। এখন জায়গা ছেড়ে দিলে ঘর ভাঙ্গার ক্ষতিপূরণ দিয়ে দিবো।
সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবুল হাসনাত খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, একজনকে থানায় আনা হয়েছে। কিন্তু বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মিমাংসার চেষ্টা চলছে। তাই এখনও কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি।মিমাংসা না হলে ভিকটিমরা এজাহার দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সম্প্রতি সংবাদ