ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে দুই জেলায় চারজনের ফাঁসি

editor ৩রা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ breaking জাতীয় সারাদেশ

 মাদারীপুর ও মেহেরপুর প্রতিনিধি:০৫ জানুয়ারি, ২০২১,সোমবার।

মাদারীপুর সদর উপজেলার শিরখাড়া ইউনিয়নের কোর্টবাড়ি শ্রীনদী গ্রামে রাবেয়া আক্তার রিয়া নামের ৮ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলার রায় গতকাল সোমবার দুপুরে বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবু্যনাল-এর বিচারক মোসাম্মৎ দিলরুবা সুলতানা দুই আসামিকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন। আসামিরা হচ্ছে সদর উপজেলার শ্রীনদী কোর্টবাড়ি গ্রামের নুরু মোলস্নার ছেলে মো. মাহমুদুল হাসান ওরফে মধু মোলস্না (২৪) এবং জালাল মোলস্নার ছেলে মো. মিলন মোলস্না (২২)।

এদিকে, মেহেরপুরে ২য় স্ত্রী জরিনা খাতুন হত্যার দায়ে স্বামী সাইদুল ইসলাম ও ১ম স্ত্রী জমেলা খাতুনকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছে আদালত। এছাড়াও আসামিদের ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। আজ সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মেহেরপুর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক রিপতি কুমার বিশ্বাস এই রায় প্রদান করেন। ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি পলাতক রয়েছে।

মাদারীপুরের রিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিবরণ সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালের ২৭ নভেম্বর মাদারীপুর সদর উপজেলার কোর্টবাড়ি এলাকার গাউস নপ্তির মেয়ে ও কোর্টবাড়ি শ্রীনদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রাবেয়া আক্তার ওরফে রিয়া বিকেলে কোচিং ক্লাস শেষে বাড়ি ফেরার পথে আসামি মাহমুদুল হক মধু ও মিলন মোলস্না পাশের একটি জঙ্গলে নিয়ে রিয়াকে পালাক্রমে ধর্ষণ ও শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে। ঘটনার পরের দিন রিয়ার বাবা বাদী হয়ে মাদারীপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় সদর থানার এস.আই ফায়েকুজ্জামান তদন্ত করে ২০১৩ সালের ৩ ফেব্রম্নয়ারি ওই দুই আসামিকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট প্রদান করেন। বিজ্ঞ আদালত দীর্ঘদিন শুনানি শেষে এবং সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে রায় প্রদান করেন। রায় ঘোষণার সময় দুই আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

শিশু রিয়ার মা তাসলিমা বেগম বলেন, আমার মেয়েকে ওই দুই আসামি ধর্ষণ করে হত্যা করেছে। দুই জনের ফাঁসির রায় হয়েছে আমরা রায়ে সন্তুষ্ট।

শিশু রিয়ার বাবা গাউস নপ্তি বলেন, আমার ছোট মেয়েকে দুই পাষন্ড যেভাবে হত্যা করেছে তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো ঘটনা নয়। দীর্ঘদিন পরে মামলার রায়ে দুই জনের ফাঁসির আদেশ হয়েছে। এখন যেন দ্রম্নত ফাঁসি কার্যকর হয় সেই দাবি জানাই।

বাদীপক্ষে মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবী লিয়াকত হোসেন শিকদার বলেন, মাদারীপুরের চাঞ্চল্যকর শিশু রিয়া হত্যা মামলার দীর্ঘ ৮ বছর পরে যুগান্তকারী রায়ে আমরা বাদীপক্ষ সন্তুষ্ট।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবু্যনালের পাবলিক প্রসিকিউটর মো. মোছলেম আলী আকন জানান, চাঞ্চল্যকর মামলাটিতে প্রথমে অজ্ঞাতনামা আসামি করে নিহত রিয়ার পিতা গাউস নপ্তি ২০১২ সালের ২৮ নভেম্বর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে পুলিশের তদন্তে ঘটনার সঙ্গে জড়িত মাহমুদুল হক মধু এবং মো. মিলন মোলস্নার বিরুদ্ধে পুলিশ চার্জশিট দাখিল করে। মামলার ৮ বছর পরে বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবু্যনালের বিচারক মোসাম্মৎ দিলরুবা সুলতানা রায় ঘোষণা করেন। রায়ে অভিযুক্ত দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মামলার দুই আসামিকেই ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে মৃতু্য কার্যকর এবং প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা জরিমানা ধার্য করেন।

মেহেরপুরে ২য় স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামী ও ১ম স্ত্রীর ফাঁসি

অন্যদিকে জরিনা খাতুন হত্যা মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১০ সালে ৩০ জানুয়ারি সদর উপজেলা যাদবপুর গ্রামের নবীছদ্দিনের ছেলে সাইদুল ইসলাম ১ম স্ত্রী জমেলা খাতুনের সহযোগিতায় তার ২য় স্ত্রী জরিনা খাতুনকে হত্যা করে যাদবপুর মাঠের মধ্যে পুঁতে রাখে। পরে গ্রামের কৃষকরা মাঠে কাজ করতে গিয়ে মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। ঘটনায় মেহেরপুর সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। দীর্ঘ তদন্তের পর সদর থানার এসআই হাসান ইমাম নিহতের স্বামী ও ১ম স্ত্রীকে আসামি করে আদালতে মামলার চার্জশিট দাখিল করেন। আদালত সাক্ষী গ্রহণ শেষে গতকাল সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ৩০২/৩৪ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে স্বামী ও ১ম স্ত্রীকে ফাঁসির রায় প্রদান করেন। রায় ঘোষণার সময় ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি পলাতক ছিল।

সরকার পক্ষের কৌশলী হিসেবে আদালতে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পি পি অ্যাড. কাজী শহিদুল ইসলাম।

সম্প্রতি সংবাদ