‘বঙ্গবন্ধুর প্রতি বিদ্বেষ থেকেই ১০ জানুয়ারি বিএনপির কর্মসূচি’

editor ২রা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ breaking slider-top প্রধান খবর

কালের কাগজ ডেস্ক: : ০৪ জানুয়ারি ২০২১,

আগামী ১০ জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে’ বিএনপি ঘোষিত বিক্ষোভ-সমাবেশ কর্মসূচির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

সোমবার এক বিবৃতিতে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘ঐতিহাসিক ১০ জানুয়ারি বাঙালি জাতি রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে ১৯৭২ সালের এই দিনে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করেন। সেদিন বঙ্গবন্ধুর স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে আসার ক্ষণটির অপেক্ষায় ছিল বিশ্ববাসী। মূলত, দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদারবাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতির কাঙ্ক্ষিত বিজয় অর্জিত হলেও ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে সে বিজয় পূর্ণতা লাভ করে। পাকিস্তানের কারাগার থেকে বিমান পথে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের প্রতিটি যাত্রা বিরতিতে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতিকে স্বাগত জানায়। লন্ডনে যাত্রা বিরতিকালে তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যাডওয়ার্ড হিথ তার দিনের নির্ধারিত কর্মসূচি স্থগিত করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে ১০নং ডাউনিং স্ট্রিটে স্বাগত জানান। ভারতে দিল্লির পালাম বিমানবন্দরে বঙ্গবন্ধুকে অভ্যর্থনা জানান তৎকালীন ভারতের রাষ্ট্রপতি ভি. ভি. গিরি এবং প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী।’

‘অতঃপর ভারত থেকে স্বাধীন বাংলার নতুন সূর্যালোকে সূর্যের মতো চির ভাস্বর-উজ্জ্বল মহান নেতা ইতিহাসের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ফিরে আসেন তাঁর প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশে। স্বদেশের মাটি ছুঁয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসের নির্মাতা শিশুর মতো আবেগে আকুল হলেন। আনন্দ-বেদনার অশ্রুধারা নামলো তার দুই চোখ বেয়ে। প্রিয় নেতাকে ফিরে পেয়ে সেদিন সাড়ে সাত কোটি বাঙালি আনন্দাশ্রুতে সিক্ত হয়ে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ ধ্বনিতে প্রকম্পিত করে তোলে বাংলার আকাশ বাতাস। জনগণনন্দিত শেখ মুজিব সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দাঁড়িয়ে তার ঐতিহাসিক ধ্রুপদি বক্তৃতায় বলেন, ‘যে মাটিকে আমি এত ভালবাসি, যে মানুষকে আমি এত ভালবাসি, যে জাতিকে আমি এত ভালবাসি, আমি জানতাম না সে বাংলায় আমি যেতে পারবো কি না। আজ আমি বাংলায় ফিরে এসেছি বাংলার ভাইয়েদের কাছে, মায়েদের কাছে, বোনদের কাছে। বাংলা আমার স্বাধীন, বাংলাদেশ আজ স্বাধীন।’

বিবৃতিতে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ঐতিহাসিক ১০ জানুয়ারি আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের ধারাবাহিক ইতিহাসের একটি অনন্য মাইলফলক। ১০ জানুয়ারি বাঙালি জাতির মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিনটিকে বাঙালি জাতি গভীর শ্রদ্ধা ও বিশেষ মর্যাদার সাথে পালন করে আসছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ভাসিত ঐতিহাসিক ১০ জানুয়ারিতে রাজনৈতিক হীন উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে বিএনপির বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা বাংলাদেশবিরোধী ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছু নয়।’

বিবৃতিতে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে বিএনপি কেন বিক্ষোভ-সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে? এখানেই তাদের স্বাধীনতাবিরোধী চরিত্র ও বঙ্গবন্ধুর প্রতি বিদ্বেষ ফুটে ওঠে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর তার খুনিদের সুরক্ষা প্রদান ও পুনর্বাসিত করেছিল বিএনপি। বঙ্গবন্ধু হত্যা ও তার সম্মানহানির অপচেষ্টার সাথে সমান্তরালভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধ ভূ-লুণ্ঠিত হওয়ার ইতিহাস সর্বজনবিদিত।’

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার সাথে বঙ্গবন্ধুর যে ঐতিহাসিক মেলবন্ধন তার উপর বিএনপি আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠার অর্থ হলো মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে পরাহত করার অপতৎপরতায় লিপ্ত হওয়া। শুধু মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নয়, বঙ্গবন্ধুকন্যা গণতন্ত্রের মানসকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের জনগণের কষ্টার্জিত গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার অপচেষ্টার বহিঃপ্রকাশ এই বিক্ষোভ-সমাবেশ কর্মসূচি।’

বিবৃতিতে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা ছিল বাঙালির হাজার বছরের আরাধ্য বস্তু। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাঙালির সেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যবস্তুর প্রাপ্তিযোগ ঘটে। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাঙালি জাতির বিভক্ত ও বিশ্লিষ্ট ক্ষুদ্র স্বার্থগুলো দূর হয়ে বৃহৎ চেতনার সূত্রে গেঁথে বাঙালি জাতি স্বাধীনতা সংগ্রামের অমর কাব্য রচনা করে। বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতির কাছে এক অবিনাশী চেতনার নাম, অফুরাণ আত্মপ্রত্যয়ের উৎস; প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের চেতনার ধমনীতে প্রবাহিত শুদ্ধতম নাম। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী সকল ষড়যন্ত্র বাঙালি জাতি অতীতের মতো কঠোরভাবে মোকাবিলা করবে।

সম্প্রতি সংবাদ