ব্রেকিং নিউজ

সৈয়দপুরে উর্দূভাষী জনগোষ্ঠীর জীবনমানের উন্নয়ন করে ক্যাম্প বলে কিছু রাখবোনা- জাপা প্রার্থী সিদ্দিকুল আলম

editor ১০ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ সারাদেশ

শাহজাহান আলী মনন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধিঃ ০৫ জানুয়ারী-২০২১,মঙ্গলবার।
সৈয়দপুরে ক্যাম্প বলে কিছু থাকবেনা, ক্যাম্পবাসী জনগোষ্ঠীর জীবনমানের উন্নয়ন ঘটিয়ে স্বাভাবিক পরিবেশে ফিরিয়ে আনা হবে তাদের। কারণ তারাও আমাদের মতই মানুষ। অথচ দীর্ঘ দিন থেকে তারা ক্যাম্পের ঘিঞ্জি পরিবেশে অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছে। ভোটার হিসেবে তাদের ভোট নিয়ে ইতোপূর্বে অনেকেই নির্বাচিত হয়েছেন। কিন্তু তাদেরকে দেয়া প্রতিশ্র“তি আজও প্রতিপালন করেনি। বরং ৫ বছর দূর্নীতি করে অবৈধভাবে টাকা আয় করে নির্বাচনের সময় ১ হাজার টাকা দিয়ে ক্যাম্পের মানুষদের ভোট কিনে আবারও মেয়র নির্বাচিত হন। ফলে ক্যাম্পবাসীর স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যায়। যে কারণে তারা শিক্ষার দিক দিয়ে এগিয়ে গেলেও তাদের মানবেতর জীবন যাপনের কোন পরিবর্তন ঘটেনি। আমি পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হলে এই দিকটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সৈয়দপুর থেকে সকল ক্যাম্প বিলুপ্ত করে তাদের জন্য আধুনিক ও মানসম্মত পরিবেশে বসবাসের ব্যবস্থা করবো। সে সাথে তাদেরকে নাগরিক জীবনের মূলধারায় এনে সৈয়দপুরের সার্বিক উন্নয়নের সাথে সম্পৃক্ত করবো। উপরোক্ত মন্তব্য করেছেন সৈয়দপুর পৌরসভা নির্বাচনে জাতীয় পার্টির মনোনীত মেয়র প্রার্থী শিল্পপতি মোঃ সিদ্দিকুল আলম সিদ্দিক। তিনি ৫ জানুয়ারী সন্ধায় শহরের নতুন বাবুপাড়া কলিম মোড় এলাকায় এক নির্বাচনী পথসভায় বক্তব্যকালে এমন প্রতিশ্র“তি ব্যক্ত করেন।
এসময় তিনি আরও বলেন, লাঙ্গল মার্কায় ভোট দিয়ে সৈয়দপুরবাসী আমাকে তাদের জনপ্রতিনিধি হিসেবে পৌর পরিষদের দায়িত্ব দিলে আমি তাদের প্রধান প্রধান দাবিগুলো পূরণ করবো। এর মধ্যে তিনি উল্লেখ করেন যে, দেশের অষ্টম বৃহৎ বাণিজ্য নগরী সৈয়দপুরের ব্যবসায়ীদের জন্য ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে যে ভোগান্তি রয়েছে তা সম্পূর্ণরুপে বন্ধ করে দিবো। এজন্য তাদের ৯ মাস বা ৫ বছর ঘুরতে হবে না। বরং তাদের দোড়গোড়ায় এ সংক্রান্ত সেবা পৌছে দেয়া হবে। একইভাবে পৌরসভার অন্যান্য সেবাগুলোকে আরও সহজতর ও জনবান্ধব করা হবে। যাতে পৌরবাসী কোন প্রকার ভোগান্তির শিকার না হয়।
সৈয়দপুর উপজেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক সিদ্দিকুল আলম সিদ্দিক আরও বলেন, সৈয়দপুরবাসীর দীর্ঘ দিনের প্রাণের দাবী সৈয়দপুরে একটি শিশু পার্ক। তাদের এ দাবী যুক্তিসঙ্গত হলেও দিনের পর দিন এটি করার কথা বলে প্রতিটি বাজেটে প্রস্তাবনা রাখলেও আজাবধি তা বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি। আমি এটি বাস্তবায়ন করে দেখিয়ে দিতে চাই পৌরবাসী আমাকে নির্বাচিত করে কোন ভুল করবেন না। তাদের প্রতিটি ন্যায্য দাবি পূরণ করাই হবে আমার প্রধান দায়িত্ব। তাই নির্বাচিত হওয়ার পর পরই এ ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। সে সাথে পৌরসভার নিজস্ব ভবন নির্মান করে স্থায়ীভাবে পৌর পরিষদ স্থাপন করা হবে। যাতে পৌরসভার ভবনসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে ভাড়া বাবদ যে ব্যায় হয় তা রোধ করে ওই অর্থ জনগণের সেবার কাজে ব্যয় করা সম্ভব হয়। এতে করে বাজেটের শতভাগই সৈয়দপুরের উন্নয়নে কাজে লাগানোর মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন সম্পাদন করা যাবে।
তিনি বলেন, আমরা পরিবারগতভাবে ব্যবসায়ী। আমাদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইতোমধ্যেই অসংখ্য কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে প্রায় ৫ হাজার মানুষ আমার দ্বারা জীবিকা নির্বাহের সুযোগ পেয়েছেন। আগামীতে মেয়র নির্বাচিত হলে এই সুযোগ আরও বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে। কেননা ব্যক্তিগত সদিচ্ছার পাশাপাশি যদি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা থাকে তাহলে যে কোন ভালো কাজ আরও বহুগুণ হারে করা সম্ভব হয়। সৈয়দপুরে শিক্ষিত বেকার বলে কেউ থাকবেনা ইনশা আল্লাহ।
লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী আরও বলেন, সৈয়দপুর পৌরসভার জন্য রেলওয়ের ২৫ একর জমি তৎকালীন জাতীয় পার্টির নেতা ও পৌর চেয়ারম্যান মরহুম আলহাজ্ব ইজাহার আহমেদ অধিগ্রহণ করেছিলেন। উক্ত জমির উপর আমি সমুহ উন্নয়ন ঘটিয়ে সৈয়দপুরে আমুল পরিবর্তন ঘটাতে চাই। যাতে করে এক সময়ের সিটি শহর সৈয়দপুর আবারও তার পূর্বের মর্যাদায় ফিরতে পারে। এজন্য প্রয়োজনীয় সকল সরকারী ও বেসরকারী সহযোগিতা নিয়ে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো হবে।
তিনি বলেন, আমি স্বপ্ন দেখি সৈয়দপুরকে একটি আধুনিক ও উন্নত শহর হিসেবে গড়ে তুলে উত্তরাঞ্চলের মধ্যে ব্যবসায়ীক ও সামাজিক দিক দিয়ে এগিয়ে নিতে। এজন্য আমি আরও শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করে আগামীর পরিবর্তনশীল বিশ্বের প্রতিযোগিতামূলক উন্নয়নের পথে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করতে। তাই আপনাদের সুচিন্তিত মতামত তথা লাঙ্গল মার্কায় একটি ভোট প্রত্যাশা করছি।
আওয়ামীলীগ একজন নারীকে রান্নাঘর থেকে নিয়ে এসে তাদের প্রার্থী করেছেন। তিনি কি সৈয়দপুরের মত প্রথম শ্রেণীর একটি পৌরসভা পরিচালনা করার যোগ্যতা রাখেন? আপনারাই তা বিবেচনা করে দেখেন। তাছাড়া যে কোন গুরুত্বর সময়ে তিনি কি রাত বিরাতে জনগণের সহযোগিতায় তাদের পাশে এসে দাঁড়াতে পারবেন? আপনারাই চিন্তা করে দেখেন যে আপনাদের বিপদে আপদে কে আপনাদের পাশে এসে দাঁড়াবে। আমি ইতোপূর্বেও নানা সময়ে আপনাদের সাথে ছিলাম, এখনও আছি, আগামীতেও থাকবো। আমার অর্থের প্রয়োজন নেই। আমার পরিবারের যা আছে তা আল্লাহর রহমতে যথেষ্ট। আমি শুধু আপনাদের প্রতিনিধি হিসেবে সেবা করতে চাই। আমাকে সে সুযোগটুকু দেন। দেখতে পারবেন সৈয়দপুরের ইতিহাসে মেয়র হিসেবে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করে যেতে চাই। যাতে আমার মৃত্যুর পর আপনাদের কাছ থেকে দোয়া ও কবরে মাটি পাই। এটুকুই আমার একান্ত কামনা। আমার দ্বারা যদি কোন প্রকার অনিয়ম দূর্নীতি পান তাহলে আমি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করে সরে আসবো। আমার কোন লোকও যদি কোন রকম অপকর্মের সাথে জড়িত প্রমানিত হয় তাহলেও তার যথাযথ বিচার ও আমার নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় থাকবে।
উল্লেখ্য, আগামী ১৬ জানুয়ারী সৈয়দপুরে পৌর নির্বাচনের ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হবে। এতে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৫ জন প্রার্থী। এরা হলেন জাতীয় পার্টির উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক শিল্পপতি ও ইকু গ্রুপের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক আলহাজ্ব মোঃ সিদ্দিকুল আলম সিদ্দিক (লাঙ্গল), বিএনপি’র বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান মেয়র বিএনপি’র কেন্দ্রীয় গ্রাম সরকার বিষয়ক সহ-সম্পাদক সাবেক এমপি অধ্যক্ষ মোঃ আমজাদ হোসেন সরকার (নারিকেল গাছ), সাবেক মেয়র ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সদ্য প্রয়াত আখতার হোসেন বাদলের স্ত্রী রাফিকা আখতার জাহান বেবী (নৌকা) ইসলামী আন্দোলনের উপজেলা সাধারন সম্পাদক হাফেজ নুরুল হুদা (হাতপাখা) ও স্বতন্র প্রার্থী ব্যবসায়ী ও ব্যান্ড সঙ্গীত শিল্পী রবিউল আউয়াল রবি (মোবাইল ফোন)

সম্প্রতি সংবাদ