ব্রেকিং নিউজ

মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার ‘বাড়ি’ পেতে যাচ্ছে মণিরামপুরের ২৬২ ভূমিহীন

editor ১১ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ সারাদেশ

 জি এম ফিরোজ উদ্দিন,মণিরামপুর (যশোর):প্রতিনিধি:১৪ জানুয়ারী-২০২১,বৃহস্পতিবার।

মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার ‘বাড়ি’ পেতে যাচ্ছে মণিরামপুরের ২৬২ ভূমিহীন কান্নায় চোখের জলের রঙ একই হলেও কখনো কখনো তার অর্থে ভিন্নতা হতে পারে। মানুষ যেমন দুঃখে কাঁদে, তেমনি অপ্রত্যাশিত সুখে গড়িয়ে পড়ে অশ্রু। তবে সেই অশ্রুতে লুকিয়ে থাকে প্রাপ্তির আনন্দ। ‘মুজিব শতবর্ষে বাংলাদেশে একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না’ প্রধানমন্ত্রীর এমন ঘোষণায় উপহার পাওয়া বাড়ির সুবিধাভোগীদের আবেগ আপ্লুত করেছে। নিজের জমিতে নিজের বাড়ি, স্বপ্নদ্রষ্টার শুধু একযোগে একটি ঘোষণার অপেক্ষা! সেই অপেক্ষায় মণিরামপুরের দুশ’ ৬২ পরিবার। খুশিতে তাদের আঁচল তোলা দু’হাতে শুধু প্রধানমন্ত্রীর জন্য প্রাণভরা দোয়া। ‘নতুন ঘর পাতি যাচ্ছি, মনে হচ্ছে যেন আসমানের চাঁদ হাতে পাচ্ছি। আমাগের মাথা গুঁজার ঠেই ছিল না। নিজির এট্টা পাকা বাড়ি হবে তা স্বপ্নেও কোনোদিন ভাবিনি। আমাগের মতন গরিব-অসহায়গের জন্যি শেখ হাসিনা যে উপকার করতেছে, তার জন্যি আল্লাহর কাছে দোয়া করি। মুজিববর্ষ উপলক্ষে নতুন ঘর পাওয়ার খবর পেয়ে এমনই আনন্দ অনুভূতি প্রকাশ করেন যশোরের মণিরামপুর উপজেলার হুমোতলা গ্রামের আমিরন বেগম, ইত্যা গ্রামের চপলা দাসী ও আলমগীর হোসেন। ভূমি ও গৃহহীন হয়েও সন্তান-সন্ততি নিয়ে তারা নতুন ঘরে ঘুমাতে পারবেন এ যেন তাদের কাছে আকাশ কুসুম কল্পনা। শুধু চপলা দাসী না, নতুন ঘর পাওয়ার খবরে নিবারণ চন্দ্র দাস, শামীম হোসেন,জসিম গাজীসহ একাধিক উপকারভোগী আনন্দ অনুভূতি প্রকাশের সময় অশ্রু ধরে রাখতে পারেননি। উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, মুজিববর্ষে মণিরামপুরে ভূমিহীন, গৃহহীন, ছিন্নমূল, অসহায়, ও দরিদ্র পরিবারের জন্য সরকারি খরচে নির্মাণ করা হচ্ছে দুশ’ ৬২টি পাকা ঘর। এর মধ্যে প্রথম পর্যায়ের একশ’৯৯টি ঘরের নির্মাণ কাজ চলছে। এসবের মধ্যে খানপুর ইউনিয়নের মাছনা বেগমপুরে ৫৩টি, হরিদাসকাটি ইউনিয়নের হাজরাইলে মুক্তেশ্বরী নদীর পাড়ে ৫০টি, পৌরসভার হাকোবা এলাকায় ২৮টি, কাশিমনগর ইউনিয়নের শিরালি গ্রামে ২৯টি, হরিহরনগর ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামে ২৫টি ও মশি^মনগর ইউনিয়নের চাকলা গ্রামে ১৪টি ঘর নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। গত ৪ জানুয়ারি ঘরগুলোর নির্মাণ কাজের অগ্রগতি পরিদর্শনে আসেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রায়ন প্রকল্প-৩ এর পরিচালক মুহম্মাদ শাহীন ইমরান। তিনি ঘরগুলোর নির্মাণ কাজের অগ্রগতি দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন। মণিরামপুর উপজেলার কাশিমনগর ইউনিয়নের শিরালী গ্রামের রাজমিস্ত্রি জসিম গাজী বলেন, তিনি নিজেও ভূমিহীন এবং এই প্রকল্পের উপকারভোগী। তিনি বলেন,‘নিজের হাতে নিজের বাড়ি বানাচ্ছি। সেখানে কোনো কিছুর কমতি কেন থাকবে।’ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এসএম আবু আব্দুল্লাহ বায়েজিদ জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি ‘গৃহহীনদের জন্য গৃহনির্মাণ প্রকল্পের আওতায় এক লাখ ৭১ হাজার টাকা ব্যয়ে দুশ’ ৬২টি ঘর নির্মিত হবে। এর মধ্যে প্রথম পর্যায়ে একশ’ ৯৯টি ঘরের নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। উপযুক্ত খাসজমি পাওয়া গেলে বাকি ঘরগুলোর কাজ শুরু হবে । এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলাশ কুমার দেবনাথ জানান, উপজেলা ভূমি অফিস জমি নির্বাচন করে দিচ্ছে। সেই অনুযায়ী ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। বাকি ঘরগুলো নির্মাণের জন্য উপযুক্ত খাস জমি পেতে সকল প্রকার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ জাকির হাসান জানান, দুঃস্থদের জন্য মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে ঘরগুলোর নির্মাণ কাজ প্রায় শেষের পথে। উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ঘর নির্মাণ চলছে। প্রতিটি ঘরে থাকবে দু’টি কক্ষ, একটি বারান্দাসহ সংযুক্ত টয়লেট, রান্নাঘর ও ইউটিলিটি স্পেস। আগামী ২০ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্বোধনের পর হস্তান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে

সম্প্রতি সংবাদ