ব্রেকিং নিউজ

মানিকগঞ্জে ৭টি উপজেলাতে বন্যায় ক্ষতি পুষিয়ে নিতে শীত কালীন সবজি চাষে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে কৃষকেরা

editor ১৪ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ সারাদেশ

রামপ্রসাদ সরকার দীপু ,ষ্টাফ রিপোর্টার:২২ জানুয়ারী-২০২১,শুক্রবার।
মানিকগঞ্জের ৭টি উপজেলাতে এবারের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকেরা তাদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে শীত কালীন সবজি চাষে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে কৃষকেরা। জেলার সিংগাইর, সাটুরিয়া ও ঘিওর উপজেলাতে মাঠে মাঠে শীতকালীন আগাম সবজি ক্ষেতগুলো সবুজে সবুজে ভরে গেছে। অনেকে আবার আগাম বিভিন্ন ধরনের কফি, মুলা, বেগুন, শীম, কড়লা, লাউ, ক্ষিড়া, বিক্রি করে ভালো দামও পাচ্ছে। মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলাতে কপি, লাউ, মুলা বেগুন শীতকালীন সবজীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আবাাদ হয়েছে। জেলার হাট বাজারগুলোতে ইতোমধ্যে নানা জাতের সবজির উঠতে শুরু করেছে। স্থানীয় বাজারগুলোর চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গা সরবরাহ করা হচ্ছে। এ বছর সবজি চাষে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবার স্বপ্ন দেখছেন সাধারন কৃষক। আশাপাশি অন্য শবজির আবাদও হচ্ছে। তবে কয়েক দফায় বন্যায় কৃষকদের শবজি আবাদ ছন্দপতন ঘটেছে। প্রতি বছর এই মৌসুমে ঘিওর, দৌলতপুর, হরিরামপুরে প্রচুর আলু, কপি, মুলাসহ অন্যান্য সবজি পাওয়া গেলেও এবার তা মিলছেনা। ফলে এবার কৃষরা বাড়তি লাভও করতে পারেনি। তবে নতুন করে সবজি চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হবার আশায় দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছে।
ঘিওর উপজেলার মাইলাগী গ্রামের আমির হোসেন ৩ বিঘা জমিতে আলু , মিষ্টি লাউ, কপি আবাদ করেছেন। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ হবার পরে তিনি আগাম চাষ করতে পারেনি। তিন বিঘা জমিতে প্রায় ৫৫ হাজার টাকা খরচ করেছেন। আবহাওয়া অনুকলে থাকলে ও বাজার দর ভাল থাকলে এ মৌসুমে প্রায় ৪ লাখ টাকার সবজি বিক্রি করতে পারবেন। সাটুরিয়া ফুকুর হাটি ইউনিয়নের জান্না গ্রামের শরীফ হোসেন বলেন বন্যার পানি নেমে যাবার পরে কার্ত্তিক মাসে শুরুর দিকে তার ২বিঘা জমিতে লই, শিম, ও ঝিঙ্গার আবাদ শুরু করেছেন। তার এই আবাদ করতে খরচ হয়েছে ১ রাখ ৩০ হাজার টাকা । ইতোমধ্যে তিনি ৫০ হাজার টাকার লাউএবং ৮০ হাজার টাকার শিম বিক্রি করেছেন। দুই সপ্তাহ পরে তিনি প্রতিদিনই লাউ এবং শিম বিক্রি করতে পারবেন। ফলন ভাল হলে তিনি প্রায় ৪ লাখ টাকার সবজী বিক্রি করতে পারবেন। সবজি চাষ করে তিনি সংসার চালিয়ে বেশ কিছু টাকা ব্যাংকে সঞ্চয় করেছেন। মানিকগঞ্জ সদরের চান্দিরচর গ্রামের কৃষক খবির মিযা জানান, বন্যায় চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবার পরে আগাম সবজি চাষ শুরু করেছেস। তিনি ১ বিঘা জমিতে কপি আবাদ করেছেন। সার, বীজ, কীটনাশক সহ সবমিলিয়ে খরচ হয়েছে প্রায় ১৯ হাজার টাকা। এ মৌসুমে তিনি প্রায় লাখ টাকার উপরে তিনি কপি বিক্রি করতে পারবেন। দৌলতপুর ইউনিয়নের চরকাটারী গ্রামের কৃষক আবুল হোসেন জানান, এবার বন্যায় তার জমির ফসল ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তার পরেও তিনি লাউ. শীম, বরবটি, কচু, আবাদ করেছেন। বাল ফলন হলে দেড় বিফা জমিতে তিনি প্রায় এক লাখ টাকার উপরে বিভিন্ন ধরনের সবজি বিক্রি করতে পারবেন। জেলা কৃষি সম্প্রসার অফিসসুত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলাতে ৭টি উপজেলাতে ৮ হাজার ৫ শত হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। মানিকগঞ্জ সদর, সাটুরিয়া, ও সিংগাইরে বেশ কয়েকটি গ্রামে কৃষকেরা আগাম সবজি চাষ শুরু করেছে। চলতি মৌসুমে এর লক্ষ মাত্রা গত বারের চাইতে বেশি হবে।
জেল কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ শাহজাহান আলী জানান,এ বছর শীতকালীন সবজি লক্ষ্যমাত্রা ৮ হাজার ৫শত হেক্টর। এর মধ্যে ৫শত হেক্টর জমিতে কৃষকেরা নানা ধরনের শীতকালীন সবজি ব্যাপক আকারে চাষাবাদ করছে। এর মধ্যে আলু ৪৭৫ হেক্টর,মিষ্টি আলু, ৪৫ হেক্টর,পিয়াজ ৯৭০ হেক্টর,কচুঁ ১২০ হেক্টর, বেগুন ৭৫০ হেক্টর, কড়লা ৩৫০ হেক্টর জমিতে আবাদ করা হযেছে। তবে কয়েক দফায় কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে । এই জন্য আমরা সার, বীজসহ বিভিন্ন ধরনের হসযোগিতা করছি প্রতিটি উপজেলার কৃষকদের। তবে আবহাওয়া অনকুলে থাকলে এবার সবজি চাষে লাভবান হবেন কৃষকেরা।

সম্প্রতি সংবাদ