ব্রেকিং নিউজ

সৈয়দপুরে প্রচন্ড ঠান্ডায় বাড়ছে শীতজনিত রোগী

editor ১৭ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ সারাদেশ

শাহজাহান আলী মনন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি ২৫ জানুয়ারী-২০২১
দেশের সর্ব উত্তরের জেলা নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলায় মাঘ মাসে ঠান্ডার প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় হাসপাতালে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। গত দুই দিনের শৈত্য প্রবাহ ও প্রবল কুয়াশায় সর্দি কাশিসহ শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়া রোগীর সাথে সাথে কোল্ড ডায়েরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন অনেকেই। বিশেষ করে বয়োবৃদ্ধ ও শিশুরা এই শীতের তীব্রতায় বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এদের মধ্যে অনেকেই ভর্তি হয়েছেন সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে। অন্যরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হওয়ার চেষ্টা করছেন।
সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘন্টায় অর্থাৎ রবিবার দিনব্যাপী প্রায় ৪০ জন রোগী ভর্তি হয়েছে শীতজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে। এদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট নিয়ে ৮ জন শিশু ও ৮ জন বয়স্ক ব্যক্তি, ডায়েরিয়ায় আক্রান্ত ১৭ জন নারী পুরুষ এবং ৭ জন শিশু রয়েছে। এদিকে সোমবারও শীতের প্রকোপ থাকায় আরও রোগী বৃদ্ধি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সৈয়দপুর শহরের হাতিখানা ক্যাম্পের মাসুদের মেয়ে মাহমুদা (১), নীলফামারীর সদরের শিমুলতলী এলাকার মমিনুলের মেয়ে জান্নাতুল মাওয়া (৬) সহ অনেক শিশু রবিবার সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তারা শ্বাষকষ্ট ও ডায়েরিয়ায় আক্রান্ত।
এর বাইরে উপজেলার প্রায় এলাকাতেই শীতের কারণে রোগাক্রান্ত হওয়া রোগীর খবর পাওয়া গেছে। যাদের বেশিরভাগই স্থানীয় ওষুধের দোকানের গ্রাম্য চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে সেখান থেকেই ওষুধ কিনে খেয়েছেন। বিশেষ করে পুরুষ রোগীরা। তবে নারী রোগীদের অনেকেই ইউনিয়নের কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে গিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন।
সৈয়দপুর বিমানবন্দর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন থেকেই সৈয়দপুরসহ উত্তরাঞ্চলে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। মৃদু শৈত্য প্রবাহ সহ ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন থাকছে এ অঞ্চলের জনপদ। দিনের শেষে বিকাল থেকেই বাড়তে থাকে কুয়াশা ও ঠান্ডা। গত দুইদিন থেকে রাতে ঝিরি ঝিরি বৃষ্টির মত করে কুয়াশা ঝরেছে। দুপুর পর্যন্ত কুয়াশার পরিমান অনেক বেশি থাকায় যানবাহনগুলো দিনের বেলাতেও লাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে। সে সাথে শীতল হাওয়া প্রবাহমান থাকায় শীতের প্রচন্ডতা বিদ্যমান থাকছে সারাদিন রাতই। সোমবার সৈয়দপুরে তাপমাত্রা ছিল ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ মোঃ ওমেদুল হাসান সরকার বলেন, গত দুই দিনের তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় এবং হিমেল বাতাস থাকায় শীতজনিত রোগের প্রকোপ বেড়েছে। ফলে হাসপাতালেও রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পর্যাপ্ত ওষুধও রয়েছে। তাই সেবা নিয়ে কোন সমস্যা নেই।

সম্প্রতি সংবাদ