ব্রেকিং নিউজ

মানিকগঞ্জে নদীর মাটি বিক্রি করছে শ্রমিকলীগ নেতা

editor ১৪ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ সারাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক:২৭ জানুয়ারী-২০২১,বুধবার।
সরকারি নিয়ামানুয়ায়ী নদী খননকৃত মাটি নিলামে বিক্রি করার কথা থাকলেও মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার জাগীর ইউনিয়নের ধলেশ্বরী নদী থেকে খননকৃত মাটি প্রকাশ্যে বড় বড় ড্রাম ট্রাক দিয়ে লুটপাট হচ্ছে। আর লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে জেলা শ্রমিকলীগের সহ-সভাপতি লুৎফর রহমান জুবায়ের বিরুদ্ধে। খবর পেয়ে মাটি লুটপাটের এসব কর্মযজ্ঞ বন্ধ করে দেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বুধবার সকালে সরেজমিনে ধলেশ্বরী নদীর পাড় থেকে ভেকু দিয়ে ড্রাম ট্রাক বোঝাই করে মাটি লুটপাটে ব্যস্ত দেখা যায় জুবায়েরের অনুসারীদের। ঢাকা আরিচা মহাসড়কের জাগীর সেতুর দক্ষিণ পার্শ্ব থেকে মাটি বোঝাই এসব ট্রাক চলে যাচ্ছে জেলার বিভিন্ন ইটভাটায় ও ব্যক্তিগত জায়গায়।
জানা গেছে ধলেশ^রী নদী ৪৪ কিলোমিটার খনণের কাজ শুরু হয় গত বছর থেকে। জাগীর ইউনিয়ন থেকে তিল্লী ইউনিয়নের ধলেশ^রী নদীর মুখ পর্যন্ত সাড়ে ১০ কিলোমিটার নদী খননের সাব ঠিকাদার কাজ নেন জেলা শ্রমিকলীগের সহসভাপতি লুৎফর রহমান জুবায়ের। ডাম্পিং স্পর্টের বাইরেও খননকৃত মাটি স্তব করে রাখা হয়। ওই সব মাটি নিলামে বিক্রি না করে কৌশলে বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়া ড্রেজার দিয়ে শত শত ব্যক্তি জায়গা টাকা বিনিময়ে ভরাট করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাগীর ইউনিয়নের দেরগ্রাম এলাকার এক কৃষক বলেন, কৃষি জমির ওপর দিয়ে মাটির ট্রাক চলাচলে কয়েকবার বাঁধা দিয়েও তাদেরকে ঠেকানো যায়নি। মাটিভর্তি ট্রাক আঞ্চলিক রাস্তার ওপর দিয়ে চলাচলের ফলে রাস্তারও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে । দীর্ঘদিন ধরে অবাধে এভাবে মাটিবাহী ট্রাক চলাচল করলেও বিষয়টি বন্ধে কারো কোন আগ্রহ নেই বলে জানান তিনি।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা শ্রমিকলীগের সহ-সভাপতি লুৎফর রহমান জুবায়ের বলেন, ধলেশ্বরী নদী খননের সরকারি মাটি নিলাম ছাড়া অন্যত্র বিক্রি করা ঠিক হয়নি। এটি তিনি অন্যায় করেছেন বলে মন্তব্য করেন।

জেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি আব্দুল জলিল বলেন, দলীয় পদবি ব্যবহার করে কেউ কোন অন্যায় কাজ করলে তার দায়ভার তাকেই ভোগ করতে হবে। কারো অন্যায় কাজের দায়ভার দল বহন করবে না।

মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রক্শৌলী সাইফুল ইসলাম বলেন, ধলেশ্বরী নদী খননের মাটি বিক্রির সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে মাটি বিক্রির বিষয়টি নিষেধ করে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এসব বিষয়ে লুৎফর রহমান জুবায়েরকে নোটিশ করা হবে বলে জানান তিনি।

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, নিলাম ছাড়া সরকারি মাটি ক্রয়-বিক্রয়ের কারো কোন সুযোগ নেই। বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।
জাগীর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন নদী খনন মাটি ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি জাকির হোসেন বলেন, কমিটির সভাপতি হিসেব নদীন খনন সঠিক ভাবে হচ্ছে কি না ও ডাম্পিং স্পর্টে নির্ধারন করা । উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডাম্পিং স্পর্ট থেকে নিলামের মাধ্যমে মাটি বিক্রি করে দেন। এছাড়া স্থানীয় কবরস্থান, শ্মশান, মসজিদ, মন্দির, স্কুল কলেজ, রাস্তা ঘাটে মাটির প্রয়োজন দেখা দিলে তাতে সুপারিশ করা । ডাম্পিং স্পর্টে বাইরে মাটি বিক্রির বিষয়টি তার জানানেই বলে জানান।

সম্প্রতি সংবাদ