ব্রেকিং নিউজ

ডোমারে রপ্তানিযোগ্য আলুর আবাদে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে বলে জানালেন কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক

editor ১৭ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ breaking সারাদেশ

শাহজাহান আলী মনন, নীলফামারী জেলা প্রতিনিধিঃ২৭ জানুয়ারী-২০২১,বুধবার।

বর্তমানে বছরে এক কোটি টনের বেশি উন্নত জাতের আলু উৎপাদন হয়। দেশে চাহিদা রয়েছে ৬০-৭০ লক্ষ টনের মতো। দেশে উৎপাদিত আলুতে পানির পরিমাণ বেশি হওয়ায় বিদেশে চাহিদা কম। সেজন্য বিদেশে চাহিদার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে রপ্তানি ও শিল্পে ব্যবহারযোগ্য আলুর আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। কৃষি মন্ত্রণালয় সেলক্ষ্যে নিরলস কাজ করছে। উপরোক্ত কথাগুলো বলেছেন কৃষিমন্ত্রী ডঃ আব্দুর রাজ্জাক এমপি।

বুধবার (২৭ জানুয়ারী) দুপুরে নীলফামারীর ডোমারে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) বীজ আলু উৎপাদন খামার পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী এদিন রপ্তানি ও শিল্পে ব্যবহারযোগ্য আলুর প্লট, আলু ফসলের মিউজিয়াম, ড্রাগন ও খেজুর বাগান প্রভৃতি পরিদর্শন করেন।

এছাড়া পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জের তিস্তাপাড়ায় কাজুবাদাম, মিষ্টি আলু, কফি চাষ, প্রসেসিং ও কৃষকদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা ও বারির বীজ বর্ধণ খামার, গম ও ভুট্টা বীজ উৎপাদন খামারও পরিদর্শন করেন।

এ সময় কৃষি সচিব মেসবাহুল ইসলাম, বিএডিসির চেয়ারম্যান সায়েদুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আসাদুল্লাহ, বারির মহাপরিচালক নাজিরুল ইসলাম, গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক এছরাইল হোসেন, জেলা প্রশাসক হাফিজুর রহমান চৌধুরী, পুলিশ সুপার মোখলেছুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নীলফামারী পৌরসভার মেয়র দেওয়ান কামাল আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

এসময় কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, আলু একটি গুরুত্বপুর্ণ সম্ভাবনাময় খাদ্য ফসল। একক ফসল ও আয়তনের দিক দিয়ে আলুর ফলন ধান ও গমের চেয়ে প্রায় চারগুণ বেশি। দেশে বর্তমানে প্রায় ৫ লক্ষ হেক্টর জমিতে ১০০ লক্ষ মেট্রিক টন আলু উৎপাদন হয়।

তিনি বলেন, আলু উৎপাদনে দেশে বীজ আলুর বার্ষিক চাহিদা ৭.৫ লক্ষ মেট্রিক টন। বিএডিসির আওতাধীন বিশেষায়িত দুটি ভিত্তি বীজ আলু উৎপাদন খামার রয়েছে। যার মধ্যে ডোমার খামার সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ। খামারে জমির পরিমাণ ৫১৬ একর। আলু চাষের উপযোগী ৩১০ একর। অবশিষ্ট ২০৬ একর অন্যান্য ফসল ও স্থাপনা রয়েছে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, বিএডিসি মানসম্মত আলু বীজ উৎপাদন ও সংরক্ষণ এবং কৃষক পর্যায়ে বিতরণ জোরদারকরণ প্রকল্পের আওতায় ডোমার খামারে ভিত্তি বীজ আলু উৎপাদন করা হচ্ছে। পাশাপাশি নতুন জাতের উপযোগিতা যাচাইয়ের জন্য ট্রায়াল প্লট স্থাপন ও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এছাড়াও প্রকল্পের আওতায় সারাদেশে ২৮টি জোনে চুক্তিবদ্ধ চাষির মাধ্যমে কৃষক পর্যায়ে ব্যবহৃত বীজ আলু উৎপাদন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আলু বীজ উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি সংরক্ষণ ক্ষমতা বাড়াতেও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বর্তমানে সারাদেশে ২৮টি জোনের ৩০টি হিমাগার রয়েছে যার বর্তমান ধারণক্ষমতা ৪৫ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন। এই প্রকল্পের মেয়াদে ২ হাজার মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন চারটি হিমাগার নির্মাণ করা হবে। ফলে বিএডিসির বীজ আলুর সংরক্ষণ ক্ষমতা উন্নীত হবে ৫৩ হাজার ৫০০ মেট্রিক টনে।

সম্প্রতি সংবাদ