অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে না পেরে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে অগ্নিদগ্ধ শিশু মাসরুফা আক্তার

editor ৩রা আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ সারাদেশ

শাহজাহান আলী মনন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি :০৪ ফেরুয়ারী-২০২১,বৃহস্পতিবার।
অর্থাভাবে উন্নত চিকিৎসা করতে না পারায় দিনে দিনে মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছে অগ্নিদগ্ধ এক অসহায় শিশু। হাসপাতালের বেডে শুয়ে চরম দুরাবস্থায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। অসহনীয় কষ্ট সহ্য করে কোন রকমে বেঁচে আছে সে। পুড়ে যাওয়া শরীরের যন্ত্রণায় কাতর মেয়েকে নিয়ে অবর্নণীয় দুর্ভোগে পড়েছে দরিদ্র বাবা মা।
অর্ধাঙ্গ ঝলসে যাওয়ায় করুণ পরিস্থিতিতে দিনাতিপাত করছে কোমলমতি শিশুটি। প্রতিনিয়ত তার আর্তচিৎকার আর পরিজনদের হৃদয়বিদারক আহাজারীতে হাসপাতালের পরিবেশ ভারাক্রান্ত হয়ে পড়লেও কেউ এগিয়ে আসছেনা তার চিকিৎসা সহায়তায়। ফলে দূর্বিসহ অবস্থায় হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছে পরিবার পরিজন।
জানা যায়, গত ৩১ জানুয়ারী রবিবার বিকালে সৈয়দপুর উপজেলার বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নের কদমতলী বাড়াইশালপাড়ার ভ্যান চালক আইনুল শেখের মেয়ে মাসরুফা আক্তার (৭) খেলা করার সময় বাড়ির পিছনে শীত নিবারণের জন্য তৈরী আগুনের গোলায় পড়ে যায়। এতে তার শরীরের নিতম্ব থেকে বুক পর্যন্ত অত্যন্ত মারাত্মকভাবে পুড়ে যায়।
তাৎক্ষনিক তাকে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে প্রেরণ করে। সেখানে গত ৫ দিন যাবত চিকিৎসাধীন রয়েছে। তাকে সাধারণ চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়েছে। তার উন্নত চিকিৎসার জন্য অর্থের প্রয়োজন। কিন্তু ভ্যান চালক দরিদ্র পিতার পক্ষে তার চিকিৎসা ব্যায় নির্বাহ করা সম্ভব হয়ে উঠছেনা।
ফলে এক প্রকার বিনা চিকিৎসায় দিনাতিপাত করতে হচ্ছে তাদের। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পেয়ে দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে শিশু মাসরুফার শারীরিক অবস্থা। ফলে চরম দুঃশ্চিন্তায় পড়েছে তার পরিবার। এমতাবস্থায় দেশের বিত্তশালী ব্যক্তিবর্গসহ সরকারের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন তারা। তা না হলে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়া শিশুটি ক্রমেই মৃত্যুর মুখে পতিত হবে বলে আশংকা।
শিশুটির বাবা ভ্যান চালক আইনুল শেখ কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, “মুই ভ্যান চালে কোন রকমে সংসার চলে। পাইসার অভাবে মোর ছাওয়াটার কি চিকিৎসা হইবে না? গরিব বলি কি চিকিৎসা না পায়া মারা যাবে? দেশে এত ধনি মানুষ থাকতে মোর ছাওয়াটার পাশে কাহো দাড়াইবে না? ম্ইু সোবার কাছে মোর মাইয়াটার চিকিৎসার জন্য সাহায্য চাওছো। যাতে মুই ছাওয়াটাক বাঁচের পাও।”
এ ব্যাপারে বাঙ্গালীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শ্রী প্রণোবেশ চন্দ্র বাগচী বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। মেয়েটির বাবা একজন ভ্যান চালক। তার পক্ষে চিকিৎসা ব্যায় সম্ভব নয়। তাই তাকে সহযোগিতা করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

সম্প্রতি সংবাদ