ব্রেকিং নিউজ

ঘিওরে নোংরা-অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরী হচ্ছে দিলবার চানাচুর

editor ২৮শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ বানিজ্য সারাদেশ

রামপ্রসাদ সরকার দীপু ঘিওর থেকে:১০ ফেরুয়ারী-২০২১,বুধবার।
বিএসটিআই ও খাদ্য বিভাগের ছাড়পত্র ছাড়াই মানিকগঞ্জের   ঘিওর বাজারে প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে অস্বাস্থ্যকর,নোংরা পরিবেশে দিলবার নামে একটি খারখানায় দিবারাত্রী তৈরি হচ্ছে চানাচুর, ডালভাজা,কটকটিসহ বিভিন্ন ধরনের মোখরোচক খাবার। এই সব অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা খাবার খেয়ে শিশুসহ সাধারন মানুষ ডাইরিয়া,আমাশয়সহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। ফলে জনস্বাস্থ মারাত্মক হুমকীর মুখে পতিত হচ্ছে।
জানাগেছে, ২০১২ সালের দিকে ঘিওর বাজারের কাঠপট্রিতে (ইছামতী নদীর সংলগ্ন) একটি বাড়িতে দিলবার নামে একটি কারখানা গড়ে তোলা হয়। এই কারখানাতে এলাকার শিশু শ্রমিক সহ অল্প মজুরিতে লোকজন দিয়ে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চানাচুর, কটকটি, ছোলাভাজা, বুট ভাজা তৈরি করে ঘিওর হাট, বরংগাইল, তরা হাটসহ বিভিন্ন বাজারে অহরহ বিক্রি করা হচ্ছে। এসব মুখরোচক খাবার তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্মমানের ডালডা, আটা, বিভিন্ন ধরনের রং, সেকারিন, ছোডাসহ বিষাক্ত ক্যামিকেল । যা মানব দেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা গেছে, কারখানায় শ্রমিকদের কোন পোষাক নেই, হ্যান্ড গøাফস ও মাস্ক নেই। চারপাশে ময়লা আবর্জনা। লাকরী দিয়ে বিশাল মাটির চুলার মধ্যে কড়াই মধ্যে ডালডা জাল করা হচ্ছে। নোংরা ময়লাযুক্ত আটা দিয়ে ছোট ছোট ঝুঁড়ি করে বিভিন্ন ক্যামিকেল মিশিয়ে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে টগবগে ডালডার মধ্যে। এর পরে শুকনা মরিচের ফাঁকি ও অন্যান্য উপকরন দিয়ে চানাচুর তৈরী করা হচ্ছে। খালি গায়ে নোংরা পরিবেশে দিনের পর তৈরি করে এই সমস্ত খাবার সামগ্রী। দিলবার চানাচুর কারখানার মালিক মোঃ জাহাঙ্গীর মিয়া দাপটের সাথে প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ অবাধে এই সমস্ত অস্বাস্থকর পরিবেশে খাবার দ্রবাদি তৈরি করে বিক্রয় করেন। বাজারে প্রায় প্রতিটি দোকানে এই চানাচুর বিক্রি হয়। অবৈধভাবে দীর্ঘদিন যাবৎ তার এই কারখানা চলছে। এই সমস্থ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহন করা দরকার বলে এলাকার লোকজন দাবি করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন চিকিৎসক জানান, চানাচুর, কটকটি,ডালভাজা তৈরিতে যে সমস্ত তেল এবং উপকরন ব্যবহার করা হয় এগুলো স্বাস্থের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এই সমস্ত খাবার সামগ্রী তৈরিতে কোন প্রকার স্বাস্থবিধি মানা হয়না। এ সমস্থ মুখোরোচক খাদ্যসামগ্রী স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর বলে তিনি জানান।
দিলবার চানাচুর কারখানার মালিক মোঃ জাহাঙ্গীর মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, বর্তমানে নামে মাত্র ব্যবসা করছি। দিনের পর দিন লোকসান দিয়ে শেষ হয়ে গেছি। চানাচুর আগের মত চলে না। পত্রিকায় নিউঁ দিলে কয়দিনের জন্য কারখানা বন্ধ রাখা লাগবো।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আইরিন আক্তার জানান, এই সমস্থ অবৈধ চানাচুর কারখানায়গুলোতে ইতোমধ্যে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে জড়িমানা করা হয়েছে। জরুরি ভিত্তিত্বে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে তিনি জানান।

 

সম্প্রতি সংবাদ