জিয়ার খেতাব বাতিল করে সরকার মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করছে

editor ৩রা আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ breaking জাতীয়

কালের কাগজ ডেস্ক: : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২১,শুক্রবার।
জিয়াউর রহমানের খেতাব বাতিল করে সরকার মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করছে মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, আল-জাজিরার প্রতিবেদন ধামাচাপা দিতেই সরকার জিয়াউর রহমানের বীর উত্তম খেতাব বাতিলের চক্রান্ত করছে।

শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে এমন মন্তব্য করেন তিনি। জিয়াউর রহমানের বীর উত্তম খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এই মানববন্ধনের আয়োজন করে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে গয়েশ্বর বলেন, খেতাব বাতিল করে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা করছে সরকার। অথচ বঙ্গবন্ধুর হয়ে স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়ায়, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে তাকে সম্মানিত করা উচিত ছিল।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করার পর এক পর্যায়ে সামরিক শাসক হিসেবে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসেন জিয়াউর রহমান। এরপর রাষ্ট্রপতি হন এবং রাজনৈতিক দল বিএনপি গঠন করেন।

বঙ্গবন্ধু হত্যায় পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন- এমন কারণে জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধে অবদানের খেতাব ‘বীর উত্তম’বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় জাতীয় মুক্তিযোদ্ধ কাউন্সিল৷

গত মঙ্গলবার জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) বৈঠকে জিয়াউর রহমানের খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়৷ একই সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর খুনি শরিফুল হক ডালিম, নূর চৌধুরী, রাশেদ চৌধুরী ও মোসলেহ উদ্দিনের রাষ্ট্রীয় খেতাব বাতিলেরও সুপারিশ করা হয়৷

বৈঠকে বলা হয়, জিয়াউর রহমান মুক্তিযোদ্ধা, কিন্তু বঙ্গবন্ধু হত্যার ষড়যন্ত্র এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী কাজ করায় তার খেতাব বাতিল করা হবে৷

শুক্রবার প্রেসক্লাবে আয়োজিত মানববন্ধনে বিএনপির স্থায়ী কমিটি সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, নতুন করে অযাচিত ও অপ্রাসঙ্গিকভাবে আজকে জাতির সামনে জিয়াউর রহমানের খেতাব বাতিলের বিষয়টি আনা হয়েছে। গোটা জাতি আজ বিব্রত। এটা প্রতিষ্ঠা করার জন্য আমাদের আন্দোলন সংগ্রাম করার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। জিয়াউর রহমানের খেতাব ঐতিহাসিক দালিলিক সত্য। সকল বীর উত্তমদের মধ্যে তিনি একজন শ্রেষ্ঠ বীরউত্তম। আমার ধারণা ছিল, এবারের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জিয়াউর রহমানকে মরণোত্তর সংবর্ধনা দেবে, কিন্তু তা করে নাই।

সরকারকে গণতন্ত্রের পথে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি এই নেতা বলেন, ‘এটা রাজতন্ত্রের দেশ না। রাজা যুদ্ধ করে পরাজিত হলে আরেক রাজা আসে। প্রজারা প্রজার জায়গায় থাকে। এটা জনগণের দেশ। জনগণের দেশটা জনগণের মত চলতে দেন, জনগণের দেশটা জনগণের কাছে ছেড়ে দেন।’

স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করে একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান বিএনপির এই নেতা।

সংগঠনের চেয়ারম্যান কে এম আবু তাহেরের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ এবং ইসলামী ঐক্যজোটের ভাইস চেয়ারম্যান শওকত আমীন।

সম্প্রতি সংবাদ