সৈয়দপুর জাপা-আ’লীগ সংঘর্ষের মামলায় এবার বিএনপি’র পৌর আহবায়ক আটক

editor ৬ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ সারাদেশ

শাহজাহান আলী মনন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধিঃ২৬ ফেরুয়ারী-২০২১,শুক্রবার।

নীলফামারীর সৈয়দপুর পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, মোটর সাইকেল ভাঙ্চুর ও আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে ফেলার ঘটনায় করা মামলায় সৈয়দপুর পৌর বিএনপি’র আহবায়ক ও পৌর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান শেখ বাবলু কে আটক করা হয়েছে। ২৫ ফেব্রুয়ারি বৃৃহস্পতিবার দিবাহত গভীর রাতে সাদা পোশাকের পুলিশ তাকে শহরের নতুন বাবুপাড়াস্থ নিজ বাসভবন থেকে আটক করে। পরে তাকে শুক্রবার দুপুরে সৈয়দপুর থানা পুলিশ নীলফামারী জেল হাজতে প্রেরণ করেছে।

এর প্রতিবাদে সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপি শুক্রবার সকালে শহরের শহীদ ডাঃ জিকরুল হক সড়কস্থ দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে। এতে জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকারের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক এ্যাড. এস এম ওবায়দুর রহমান ও মেয়র প্রার্থী বিএনপি নেতা আলহাজ্ব রশিদুল হক সরকার।
বক্তারা বলেন, ভোর রাতে শহরের নয়াটোলা শ্বশুড়বাড়ি থেকে আটক করা হয়েছে বিএনপি নেতা শেখ বাবলুকে। ওই নেতার নামে স্থানীয় থানায় কোন মামলা বা আদালতে মামলা নেই। ২৮ তারিখের নির্বাচনের সুষ্ঠ পরিবেশকে নষ্ট ও ভোটারদের মাঝে ভীতি সৃষ্টি করার জন্য প্রশাসনকে ব্যবহার করছে আওয়ামী লীগ নেতারা। শহরের নৌকা মার্কার পথসভায় স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ নেতাদের বক্তব্যেই তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
বক্তারা আরো বলেন, আমরা নির্বাচনের শুরু থেকে আচরণবিধি মেনে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে আসছি। কিন্তু নৌকা মার্কার প্রচার-প্রচারণা মানা হচ্ছে না কোন আচরন বিধি। মধ্যরাত পর্যন্ত ৮/১০টি মাইক এক সাথে ব্যবহার করে পথসভা করছে। পথসভা থেকে বিভিন্ন ধরনের উস্কানিমূলক বক্তব্য দেয়া হচ্ছে।
এ ছাড়া বহিরাগতদের নিয়ে প্রতিদিন শতাধিক মোটরসাইকেল ও ৮/১০টি পিকআপে পাড়া-মহল্লায় শোডাউন করছে। এ ব্যাপারে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ করলেও কোন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
এ ব্যাপারে কথা হয় সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল হাসনাত খানের সাথে। তিনি জানান, শহরের গোলাহাটে নির্বাচন প্রচারে আ’লীগ-জাপার মধ্যে সংঘর্ষের মামলায় তাকে আটক করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে শহরের গোলাহাট এলাকায় ২ নং উর্দুভাষী ক্যাম্পে লাঙ্গলের প্রার্থী সৈয়দপুর উপজেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক আলহাজ্ব সিদ্দিকুল আলম সিদ্দিকের পথসভা শেষে ফেরার পথে স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ সভাপতি হিটলার চৌধুরী ভলু’র বাড়ির সামনে জাপা-আ’লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে।
এতে উভয়পক্ষের ৪০/৫০ জন আহত হয় এবং ২ টি মোটর সাইকেল পুড়িয়ে দেয়াসহ প্রায় ২০/২৫ টি মোটর সাইকেল ভাঙ্চুর করা হয়।
এ ঘটনার প্রেক্ষিতে পরদিন আ’লীগ-জাপা পাল্টা পাল্টি সংবাদ সম্মেলন ও বিক্ষোভ মিছিল করে।
দুপুরে হিটলার চৌধুরীর নেতৃত্বে অতর্কিত হামলা চালানোর অভিযোগে তাকে প্রধান আসামী করে ৪০/৫০ জনের নামে মামলা করে জাপা’র কেন্দ্রীয় কমিটির ছাত্র বিষয়ক সহ সম্পাদক ফয়সাল দিদার দিপু।  আর রাতে সৈয়দপুর পৌর জাপার সদস্য সচিব আলতাফ হোসেনকে প্রধান আসামী করে অজ্ঞাতনামা ২০/২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে সৈয়দপুর পৌর আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রফিকুল ইসলাম বাবু।
এতে তিনি হিটলার চৌধুরী ভলুর বাড়িতে হামলা করে জিপ ও আসবাবপত্র এবং বঙ্গবন্ধুর ছবিযুক্ত দলীয় সাইনবোর্ড ভাঙ্চুর করার অভিযোগ করেন।
পরে এ মামলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাবেক ছাত্রনেতা ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক গণসংযোগ বিষয়ক সহ-সম্পাদক এস এম মামুনুর রশিদের নামও জুড়ে দেয়া হয়। এনিয়ে শহরজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। এমতাবস্থায় শেখ বাবলু কে আটক করায় আবারও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

সম্প্রতি সংবাদ