মানিকগঞ্জের ৭টি উপজেলাতে বোরো ধান রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষকেরা

editor ৬ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ সারাদেশ

রামপ্রসাদ সরকার দীপু স্টাফ রিপোর্টার:০২ ফেরুয়ারী-২০২১,মঙ্গলবার।
মানিকগঞ্জের ৭টি উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের বোরো মৌসুমে ধান রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছে এলাকার সাধারন কৃষকেরা। বিত্তীর্ন এলাকার মাঠজুড়ে বোরো আবাদের ধুম চলছে। প্রতিদিন পূর্ব দিগন্তে সূর্যের আলো ফুটে ওঠার আগেই ফসলের মাঠে নেমে পড়েছেন কৃষকেরা। গত মৌসুমে ধানের দাম ভালো পাওয়ায় এবং হাট ও বাজারে কুষি উপকরন সার, তেল, কীটনাশকসহ সকল প্রকার কৃষি উপকরনের পর্যাপ্ত সরবরাহের ফলে বোরো আবাদে কৃষকদের আগ্রহ বেড়ে গেছে। চলতি মৌসুমে লক্ষমাত্রার অতিরিক্ত জমিতে বোরো চাষ হবে বলে মনে করেন সংশিষ্টরা।
মানিকগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর সুত্র জানায় , জেলাতে চলতি মৌসুমে উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। এ পরিমান জমিতে বোরো আবাদে ১ হাজার হেক্টর জমিতে বীজ তলা তৈরি করা হয়েছে । এ মৌসুমে ধান উৎপাদন বেশি লক্ষে হাই ব্রিড ধান চাষ বৃদ্ধির লক্ষে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ প্রণোদনা হিসাবে বিনামূল্যে ৬ হাজার কৃষকদের ৭৫০ জন কৃষকদের ২ উন্নত জাতের বীজ সরবরাহ করা হয়েছে। যার বাজার মূল্য প্রায় ৩৪ হাজার টাকা।
সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা গেছে, ঘিওর উপজেলার বেপারীপাড়া, গোলাপনগর, মাইলাঘি, বৈলট দৌলতপুর উপজেলার চরমাস্তুল , ধামস্বর, উলাইল, শিবালয় উপজেলার ইথলী, বরংগাইল, টেপরা, জাফরগঞ্জ, এলাকায় জমিতে ও ফসলের মাঠে ধানের কচি চারার সবুজ গালিচা বের হয়ে গেছে। কোথাও গভীর নলক’প দিয়ে চলছে সেচ আবার কোথাও ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলার দিয়ে চলছে জমি চাষের কাজ। এ ছাড়া ধান রোপণের জন্য বীজতলা থেকে তোলা হচ্ছে চারা। চারা তোলা আর রোপণের ব্যস্ততায় কৃষকেরা গায়ে শীত যেন স্পর্শ করেনা। মমাঠের পর মাঠ ব্যস্ত আর ব্যস্ত হয়ে উঠেছে । সব মিলিয়ে কৃষকেরা একটায় উদ্ধেশ্য ঘরে তুলতে হবে বোরো ধান। উপজেলার মাইলাগী গ্রামের মজিবর রহমান জানান,প্রচন্ড শীতের মধ্যেও আমরা শ্রমিক নিয়ে দিনের পর দিন জমিতে কাজ করেছি। শ্রমিক সংকটের কারনে দ্বিগুন টাকা দিয়ে জমিতে সকল প্রকার কাজ করাতে হয়েছে। শ্রমিকদের চাহিদা মেটাতে গিয়ে অনেক সময় হিমশিম খেতে হচ্ছে। শীতের কারনে চলতি মৌসুমে বোরো আবাদ কিছুদিন পিছিয়ে গেছে। গোলাপ নগর গ্রামের কৃষক আজাহার জানান, এবার চলতি মৌসুমে ৪ বিঘা জমিতে বোরে া করেছে। তাদের প্রতি বিঘা জমিতে চাষ করতে প্রায় সারে তিন হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তবে এবার বাজারে ইউরিয়া , ফসফেট সার, কীটনাশক, বীজ ও তেলের পরিমান মজুদ থাকার বোরো আবাদে ভরা মৌসুমে সংকট হবার কোন সম্ভবনা নেই। সেচের সময়ও কোন সমস্যা হবার সম্ভবনা নেই।
মানিকগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ শাহজাহান আলী জানান, চলতি মৌসুমে প্রায় ৬ হাজার ৮শ’ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। তবে আবহাওয়া ও পরিবেশ অনুকুলে থাকলে এবার বোরো আবাদ বাম্পার হবার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া ধানের দাম ভাল থাকার কারনে আবাদও অন্যান্য বছরের চেয়ে বেড়েছে।

সম্প্রতি সংবাদ