ঈশ্বরগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে বিধবার জমি ভুয়া দাতা স্বাক্ষী বানিয়ে লিখে নেয়ার অভিযোগ

editor ৬ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ সারাদেশ

  হাবিবুর রহমান,  প্রতিনিধি ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ):০৩ ফেরুয়ারী-২০২১,বুধবার।
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে বিধবার জমি ভ‚য়া দাতা ও স্বাক্ষী বানিয়ে লিখে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার মাইজবাগ ইউনিয়নের কুমুরিয়ারচর গ্রামের মৃত আব্দুল আজিজের স্ত্রী মোছা: রাবিয়া খাতুনের নামে মল্লিকপুর ও মাইজবাগ মৌজার ৫৪শতাংশ জমি তার দেবর আব্দুল মান্নান নিজ নামে রেজিস্ট্রি করে নেয়। ঈশ্বরগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ভুয়া দাতা ও স্বাক্ষী বানিয়ে, গত ২৫ জানুয়ারি ৫৪শতাংশ জমি ১০লাখ ৬০হাজার টাকা মূল্য দেখিয়ে দানপত্র দলিল করে। যার নম্বর ৬৮৪।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, রাবিয়া খাতুনের কোন সন্তানাদী না থাকায় তার দেবর মান্নানের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে গত ৩বছর ধরে বড়হিত ইউনিয়নের কাঠাল গ্রামে বাবার বাড়িতে বসবাস করছেন।
রাবিয়া খাতুন জানান, একটি দলিলের নকল নিতে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল লিখক রফিকুলের কাছে এসে জানতে পারেন, তার কেনা ও স্বামীর রেখে যাওয়া বি.আর.এস ৩৭০ ও ১০৯৭ খতিয়ানের মাইজবাগ মৌজার ৪৪ শতাংশ এবং মল্লিকপুর মৌজার ২৭০ খতিয়ানের ১০ শতাংশ জমির একটি দলিল হয়েছে। একথা শুনে তিনি হতভম্ভ হয়ে পড়েন।
পরে তিনি ওই দলিলটির নকল তুলে দেখতে পান, স্বাক্ষী ও সনাক্তকারী কাউকে তিনি চেনেন না। প্রায় এক বছরের মধ্যে তিনি রেজিস্ট্রি অফিসেই আসেন নি। কী করে তার অনুপস্থিতিতে দলিল হলো ? বিষয়টি তিনি অফিসে এসে সাব-রেজিস্টারকে অবহিত করেন।
ওই দলিলের স্বাক্ষী বড়জোড়া গ্রামের ফজলুল হকের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, এই রকম দলিলের ব্যাপারে আমার জানা নেই। রেজিস্টিকৃত দলিলের স্বাক্ষীর স্বাক্ষর দেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, আমি নাম লিখতেই জানি না। স্বাক্ষর দিবো কি ভাবে। দলিলের সনাক্তকারী শহীদুল্লাহ ও মিজানুর রহমান আকন্দ উভয়েই দলিল লেখক।
রাজিয়া খাতুনকে দেখিয়ে সাব-রেজিস্টারের উপস্থিতিতে দলিল লিখক মিজানুর রহমান আকন্দকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, আমি তাকে ইতোপূর্বে দেখিনি এবং চিনি না।
দলিল গ্রহীতা আব্দুল মান্নানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, রাজিয়া খাতুন ৩-৪ বছর যাবৎ বাবার বাড়িতে থাকে, সে আমাকে দলিল করে দিয়েছে। এখন যদি অস্বীকার করে তা হলে আমার কিছু করার নেই।
এব্যাপারে সাব-রেজিস্টার নূরুল আমিন তালুকদার বলেন, দাতা গ্রহীতার উস্থিতিতেই দলিল হয়েছে। এমনটি হয়ে থাকলে দাতা আদালতে যেতে পারেন। ##

সম্প্রতি সংবাদ