সাংসদের আলটিমেটামে সিংগাইরে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হত্যা মামলায় আরো দুই আসামী গ্রেপ্তার

editor ৬ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ breaking সারাদেশ

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি ঃ ১৮ মার্চ-২০২১,বৃহস্পতিবার।

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন মিরু হত্যা মামলায় স্থানীয় সংসদ সদস্য কন্ঠ শিল্পী মমতাজ বেগমের ৪৮ ঘন্টার আলটিমেটামের মধ্যেই পুলিশ আরো দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে। বৃহস্পতিবার সকালে আদালতে তারা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- সিংগাইরের চর নয়াডাঙ্গী গ্রামের কাজী আয়নাল হকের ছেলে কাজী কাউছার (১৮) চর আজিমপুর গ্রামের মো: সায়েম ফকিরের ছেলে মো: হাবিবুল্লাহ ওরফে রাকিব (১৮)। গ্রেপ্তারকৃতরা এজারভুক্ত আসামী নন।

মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাফিজুর রহমান জানান, সিংগাইর থানা পুলিশ সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত আরো দুই আসামীকে বুধবার গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁরা এজাহারভূক্ত আসামি না হলেও ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত। আসামীরা হত্যাকান্ডের সাথে নিজেদের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং ঘটনার বিষয়ে তারা দুজনেই গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করেছে। তাদের তথ্যের ভিত্তিতে অন্যান্য আসামীদের গ্রেপ্তার প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।

পুলিশ এবং ভূক্তভোগী পরিবার জানায়, গত ১ মার্চ দিবাগত রাতে স্থানীয় সাংসদ মমতাজ বেগমের বাড়িতে গানের অনুষ্ঠান শেষে বাড়িতে ফিরছিলেন উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন মিরু (২৭)। রাত ১টার দিকে উপজেলা সদরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন প্রতিপক্ষের লোকজন। পরের দিনে (২ মার্চ) দুপুরে ঢাকায় জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর আগে তার উপর হামলাকারীদের নাম বলে যান তিনি।
এ ঘটনায় গত ৩ মার্চ নিহত ছাত্রলীগ নেতা ফারুক হোসেনের ভাই রিয়াজুল করিম বাদি হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত চার-পাঁচজনকে আসামি করে সিঙ্গাইর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় সিঙ্গাইর ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোল্লা মো. দুলাল ও তাঁর বড় ভাই উপজেলা পরিবহন শ্রমিক লীগের নেতা জালাল উদ্দিন ওরফে আঙ্গুরকে আসামি করা হয়।
এ ঘটনায় গত ৩ মার্চ মামলার এজাহারভূক্ত আসামি ইমরান মোল্লা (২০), ইমান আলী (৩০) এবং সোহান মোল্লাকে (১৭) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরের দিন (৪ মার্চ) আসামি ইমরান ও ইমান আলীকে অতিরিক্ত চীপ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে এবং শিশু সোহানকে শিশু আদালতে পাঠানো হয়। এ দিন আসামি ইমরান ও ইমান আদালতের বিচারক আমিনুল ইসলামের কাছে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।
এদিকে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন মিরুর হত্যাকারীদের শাস্তির দাবিতে প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে কর্মসূচি পালিত হয়ে আসছে। গত মঙ্গলবার ফারুক হোসেন মিরু হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে ছাত্রলীগের আয়োজনে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মমতাজ বেগম। তিনি ওই মানববন্ধনে তার বক্তব্যে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে ফারুক হোসেন মিরু হত্যাকারী ও হত্যার মাষ্টারপ্ল্যানকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি করেন। ৪৮ ঘন্টার মধ্যেই পুলিশ মিরু হত্যার সাথে জড়িত আরো দুইজন আসামীকে গ্রেপ্তার করেছেন।

সম্প্রতি সংবাদ